kalerkantho

সরু রাস্তা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চায় এলাকাবাসী

শাখাওয়াত হোসাইন   

১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরু রাস্তা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চায় এলাকাবাসী

বাড্ডা থানার বেশ কয়েকটি মহল্লা নিয়ে গঠিত ডিএনসিসির ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড। জলাবদ্ধতা, ঘিঞ্জি রাস্তা, অপরিকল্পিত ভবন ও দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন শেখ সেলিম। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনের সময় দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করবেন নবনির্বাচিত কাউন্সিলর।  

এলাকাবাসী জানায়, রামপুরা-কুড়িল সড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত বাড্ডার মোল্লাপাড়া, আদর্শনগর, উত্তর বাড্ডা, ময়নারটেক, বাওয়ালী পাড়া, আব্দুল্লাহ বাগ, মিছরী টোলা ও হাজীপাড়া এলাকা ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড। এর আগে এলাকাটি বাড্ডা ইউনিয়নের আওতাধীন ছিল। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে উত্তর পাশে রয়েছে বারিধারা জে-ব্লক এবং দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ডিআইটি প্রকল্প। উত্তর ও দক্ষিণ পাশে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা থাকলেও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডটি গড়ে উঠেছে কোনো ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই। ওয়ার্ডটির ভেতর দিয়ে যাওয়া সাতারকুল সড়কটি প্রশস্ত হলেও অন্য সব রাস্তা সরু। বিশেষ করে উত্তর বাড্ডা, মসজিদ রোড, থানা রোড ও হাসান উদ্দিন রোড অত্যন্ত সরু। অথচ এই সরু রাস্তা দিয়েই প্রবেশ করতে হয় ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভেতরে।

স্থানীয়দের মতে, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকায় স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। তাই অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। থানা রোড এলাকার উত্তর পাশে অবস্থিত খালটির সঙ্গে ড্রেনের সংযোগ না থাকায় পানি জমে থাকে দীর্ঘ সময়। এ ছাড়া সুবাস্তুর দক্ষিণ পাশের একমাত্র খালটিতে বর্জ্য ফেলার কারণে পানির স্রোতও মন্থর। নবনির্বাচিত কাউন্সিলর সভা-সেমিনারে ব্যস্ত না থেকে এলাকাটির আধুনিকায়নে মনোনিবেশ করবেন—এমনটা প্রত্যাশা ওয়ার্ডবাসীর।

স্থানীয়রা আরো জানায়, ঢাকা শহরের অন্যান্য এলাকার চেয়ে বাড্ডা এলাকা অপরাধপ্রবণ। বেশির ভাগ আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা প্রহরী নেই। এ ছাড়া ওয়ার্ডটির বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা। এর আগে ওয়ার্ডটি ইউনিয়নের অধীনে থাকায় নেই কোনো কমিউনিটি সেন্টারও। সামাজিক কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য বাইরের কমিউনিটি সেন্টার ও রেস্তোরাঁই একমাত্র ভরসা। এ ছাড়া সাতারকুল সড়কে বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার থাকলেও আয়তনে বেশ ছোট। তাই সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কাঁচাবাজার স্থাপন দরকার এলাকাটিতে। এ ছাড়া মাদকের বিস্তার রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে নতুন কাউন্সিলর কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

হাসান উদ্দিন সড়কের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘এলাকাবাসীর ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি সরু রাস্তা বড় করে নাগরিক সুবিধা বাড়াবেন—এমনটা প্রত্যাশা আমাদের। জলাবদ্ধতা নিরসন, নিরাপত্তা জোরদার, কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেট চাই আমরা।’ ওয়ার্ডটির আরেক বাসিন্দা ইলিয়াস উদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা চাই নির্বাচিত কাউন্সিলর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়ন করবেন।’

৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর শেখ সেলিম বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের অবস্থা খুব নাজুক। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। শপথ নেওয়ার পর থেকেই আমি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সব সমস্যা সমাধানে কাজ করার চেষ্টা করছি।’ 

মন্তব্য