kalerkantho

রাজধানীর দর্শনীয় স্থানে পণ্যের ‘গলাকাটা’ দাম

জহিরুল ইসলাম   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীর দর্শনীয় স্থানে পণ্যের ‘গলাকাটা’ দাম

রাজধানীর অধিকাংশ দর্শনীয় স্থানের ভেতরে-বাইরে মর্জিমাফিক রাখা হয় খাদ্যদ্রব্যসহ যেকোনো পণ্যের দাম। পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লার মূল ফটকের সামনে, জাতীয় জাদুঘরের ক্যান্টিন, শিশুমেলাসহ রাজধানীর সব দর্শনীয় স্থানেই প্রায় একই চিত্র। পণ্যের গায়ে লাগানো মূল্য (এমআরপি) অথবা সচরাচর যে মূল্যে বিক্রি হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি দাম রাখা হচ্ছে এসব স্থানে প্রকাশ্যেই। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দর্শনার্থীরা। প্রতিবাদ করলেই সইতে হয় অপমান। ভোক্তাদের মধ্যে সামান্যসংখ্যক অধিকার আইনের আশ্রয় নিলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

গত শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ স্থানেই পণ্যের অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পানীয় জাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চিপস, বিস্কুট, পানি, বিভিন্ন কম্পানির সফট ড্রিকংসসহ ফাস্ট ফুডের প্রায় সব পণ্যের দাম দোকানিরা নিজেরাই ঠিক করে ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করছে। দূর-দূরান্ত থেকে ঘুরতে এসে লোকজন বেশি দামেই কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

গতকাল দুপুর আড়াইটা আহসান মঞ্জিলের মূল ফটক তখনো খোলা হয়নি দর্শনার্থীদের জন্য। ফটকের পাশে ‘এশা কনফেকশনারি’ থেকে আধালিটারের এক বোতল পানি কিনলেন কুমিল্লা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ইব্রাহীম লিটন। পানি কত দিয়ে কিনলেন—প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, ‘আধালিটার পানি সব জায়গায় বিক্রি করে ১৫ টাকা। এখানে রাখল ২৫ টাকা।’ দাম বেশি কেন জানতে চাইলে দোকানদার বলেন, এখানে নাকি এই দামেই বিক্রি হয়। তিনি আরেকটু ব্যাখ্যাও দিলেন—‘আজ শুক্রবার তাই একটু বেশি রাখছি। প্রতিদিন এত বেশি নেওয়া হয় না।’

৩টায় গেট খুলে দিলে ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, আহসান মঞ্জিলের ক্যান্টিনেরও একই অবস্থা। কোনো কোনো পণ্যের দাম বাইরের দোকানের চেয়েও বেশি রাখা হচ্ছে। কেন বেশি রাখা হচ্ছে জানতে চাইলে ক্যান্টিনে কর্মরত আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘দোকান ভাড়া মাসে ১৫ হাজার টাকা। সপ্তাহে এক দিন বন্ধ (বৃহস্পতিবার) আর একদিন অর্ধেক সময় (শুক্রবার) দোকানদারি করতে পারি। বাকি দিনগুলোতে তেমন কাস্টমার থাকে না। তাই দাম একটু বেশি রাখি।’

জাতীয় জাদুঘরের স্ন্যাকস কর্নার (ক্যান্টিন), শিশুমেলার আশপাশের অধিকাংশ দোকানেই বাড়তি দাম রাখা হয়। অভিযোগ আছে, লালবাগ কেল্লার মূল ফটকের সামনে কেল্লাফতে ও ভূতের বাড়ি নামে দুই রেস্টুরেন্টে ইচ্ছামতো দাম রাখা হয়। গাজীপুরের তারগাছ থেকে লালবাগ কেল্লায় ঘুরতে আসা রেহনুমা আক্তার বলেন, ‘স্কুলের পিকনিকে এসেছি। এখানে সব কিছুর দাম বেশি। বাসা থেকে বেশি টাকা আনিনি তাই কম কম খাচ্ছি।’

জাতীয় জাদুঘর ক্যান্টিনে দেখা গেল, আধালিটারের ১৫ টাকার পানির বোতল ২০ টাকা, ১০ টাকার চিপস ১৫ টাকা, আধালিটারের ৩৫ টাকা দামের ম্যারিন্ডা ৪০ টাকা রাখা হচ্ছে। এভাবে সব পণ্যের বাড়তি দাম রাখার কথা স্বীকার করলেন ক্যান্টিনের দুই কর্মচারী। ঢাকার ভেতরে প্রায় সব দর্শনীয় স্থানের একই অবস্থা। এমআরপি না মেনে ইচ্ছামতো দাম নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে এলে আমি অবগত নই। বিস্তারিত জেনে জানাতে হবে।’

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নেওয়ায় ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ঢাকা জেলার সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দ্রব্যের সঙ্গে যে মূল্য লাগানো থাকে অথবা সচরাচর যে মূল্য থাকে তার থেকে বাড়তি টাকা আদায় করলেই ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। এসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এলেই আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। কয়েক মাস আগে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডমের এক দর্শনার্থী অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম।’

মন্তব্য