kalerkantho


বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতাল

দেশের একমাত্র ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার

হায়দার আলী   

৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দেশের একমাত্র ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার

ডায়বেটিক রোগীদের অনেকেরই পায়ে ঘা হয়। আর পায়ে ঘাজনিত কারণে তাদের অনেকেই গ্রাম-গঞ্জে, এখানে-সেখানে ভুয়া ডাক্তার, হাতুড়ে ডাক্তার, কবিরাজ—এদের কাছে চিকিৎসার জন্য শরণাপন্ন হয়। কারণ ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে সাধারণত যারা পায়ের ঘায়ে আক্রান্ত হয়, তাদের বেশির ভাগ রোগীই নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত, আর কিছু আছে মধ্যবিত্ত। তাদের পায়ে ঘা হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে তাদের অজ্ঞতা। আর অজ্ঞতার কারণেই তারা সঠিক জায়গায় চিকিৎসা নিতেও ব্যর্থ হয়। এ কারণেই তাদের পায়ের ঘা কমে না; বরং আরো বিস্তার লাভ করে এবং একপর্যায়ে তাদের পায়ে পচন ধরলে পা কেটে ফেলতে হয়। অথচ নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত এসব রোগীর অনেকেই তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ফলে এদের যদি পা কাটা পড়ে, তাহলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি পঙ্গু হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় রোজগারের পথ। এতে সেই পরিবারের ভাগ্যে নেমে আসে বিপর্যয়। তবে এই ডায়াবেটিসজনিত পায়ে পচন ধরা রোগীরা যদি সময়মতো সঠিক জায়গায় চিকিৎসা নিতে পারে, তাহলে পা রক্ষা করা সম্ভব। আর এ ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখছে বারডেমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতাল। বাংলাদেশের এটাই একমাত্র ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার ইউনিট। যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্প খরচে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ডায়াবেটিসজনিত কারণে পায়ে যে পচন ধরে, তার চিকিৎসার সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক ফ্যাসিলিটিজ বাংলাদেশে একমাত্র এই হাসপাতালেই রয়েছে। ডায়াবেটিসজনিত পায়ের ঘায়ের অনেক রোগীকে এই হাসপাতালের ফুট কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক রোগী পা হারানোর মতো গুরুতর বিষয় থেকে রক্ষা পাচ্ছে। তাদের পা কেটে ফেলতে হচ্ছে না। চিকিৎসা নিয়ে তাদের পা সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগী আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন—হয়তো একটা আঙুল কেটে ফেলতে হয় অথবা সব আঙুল কেটে ফেলতে হয়। তার  পরও সে লোকটা হাঁটতে পারে। আর এ ধরনের রোগের চিকিৎসার জন্য একটি

ওয়ার্ডও খোলা হয়েছে। তবে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আহ্বান—এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে বিলম্ব করা যাবে না। কারণ বিলম্বের কারণে ঘা বিস্তৃতি লাভ করে এবং অনেক সময় ঘা হাঁটু পর্যন্ত উঠে যায়, তখন রোগীকে বাঁচানোর জন্য হাঁটুর ওপর থেকে পা কেটে ফেলতে হয়।

এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে আমরা বিশেষ চিকিৎসাব্যবস্থা শুরু করেছি ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে। অদ্যাবধি প্রায় তিন হাজার রোগী এখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। ফুট কেয়ার হচ্ছে আলাদা একটি টেকনোলজি। আমাদের ফুট কেয়ার ইউনিটের সার্জনদের ফুট কেয়ার সার্জারির ওপর বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। নার্সদের ফুট কেয়ারের ওপর বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এটিই এখানকার বিশেষত্ব। এখানে ডাক্তার ও নার্সরা সার্বক্ষণিক তদারকিতে রোগীদের সেবা প্রদান করে থাকেন। ফুট কেয়ার রোগীদের মধ্যে আনুমানিক ৮৫ শতাংশ পুরুষ ও ১৫ শতাংশ মহিলা। পুরুষ রোগী বেশি হওয়ার কারণ হলো বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত রোগীরা বাইরে কাজকর্মের সময় তাদের পায়ে ইনজুরির ঝুঁকি বেশি এবং তা থেকে পায়ে ঘায়ের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে উল্লিখিত শ্রেণির মহিলারা গৃহের অভ্যন্তরে থাকার কারণে তাদের ঝুঁকির মাত্রা থাকে কম। খুবই স্বল্প খরচে আমরা চিকিৎসা দিয়ে থাকি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে শুরু করে, ওটির চার্জ, সার্জারি চার্জ—এসবই অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে এক-চতুর্থাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ—এ রকম হবে। বারডেম ও এর সহযোগী সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলো বারডেমের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতাপদকপ্রাপ্ত জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম স্যারের দর্শন অনুযায়ীই অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের সেবায় কাজ করে চলেছে। স্যারের নির্দেশ হলো—বিনা শিক্ষায়, বিনা খাদ্য ও পথ্যে এবং বিনা চিকিৎসায় কোনো ডায়াবেটিক রোগী মৃত্যুবরণ করবে না।’



মন্তব্য