kalerkantho


ঢাকার অতিথি

অযথা হর্ন বাজানো বিরক্তিকর

৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অযথা হর্ন বাজানো বিরক্তিকর

ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ও তরুণ ইঞ্জিনিয়ার ইরমা ডুই সাপুত্রী। ইন্দোনেশিয়ার জোগ জাকার্তার সেন্ট্রাল জাভার মাগালাংয়ের সাপুত্রী ভালোবেসে বিয়ে করেন বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার জাশিউর রহমান সেতুকে। সম্প্রতি তাঁর বরের সঙ্গে বেড়াতে এসেছেন শ্বশুরালয়ে। বাংলাদেশে অবস্থানকালে নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন মো. মনির হোসেন

মালয়েশিয়ার পেটালিংজায়ায় একটি বহুজাতিক কম্পানিতে প্রকৌশল বিভাগে কাজ করেন ইরমা ডুই সাপুত্রী। একই এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগে কাজ করতেন জাশিউর রহমান সেতু। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয়। তারপর দেখাশোনা ও প্রেম। অতঃপর বিয়ে। সম্প্রতি সাপুত্রী তাঁর বরের সঙ্গে বেড়াতে এসেছেন শ্বশুরালয়ে। ঢাকাকে কেমন দেখলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরমা ডুই বলেন, ‘ঢাকায় অনেক মানুষ, ছোট-বড় অনেক যানবাহন। তবে যানবাহন চলাচলে উল্লেখযোগ্য শৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। ঢাকায় অনেক জ্যাম, কোনো কারণ ছাড়াই সবাই হর্ন বাজায়। আর অযথা হর্ন বাজানো খুবই বিরক্তিকর। এ ছাড়া ধুলাবালি তো আছেই। তবে এখানকার মানুষ অনেক আন্তরিক, সহজে সবাইকে আপন করে নেয়। আমি কেনাকাটা করতে খুবই পছন্দ করি। তাই বসুন্ধরা ও যমুনা ফিউচার পার্কে যাওয়া হয়েছে। উত্তরায়ও একাধিক শপিং মলে গিয়েছি। টি-শার্ট আমার খুব পছন্দের। সেখান থেকে বেশ কিছু টি-শার্টও কিনেছি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়েছি। চমৎকার মুহূর্ত কেটেছে।’

ঢাকার বাইরে কোথাও গিয়েছেন কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে আসার পর বিয়ে করি, আর আমার বরের বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর, আমি ওখানেই আছি। আমার কাছে কালিয়াকৈর ঢাকার চেয়ে ভালো লেগেছে, কারণ এখানে কোনো শব্দদূষণ নেই। একেবারে নিরিবিলি পরিবেশ। এখানকার মানুষগুলো খুবই সহজ-সরল। আমাকে অনেকেই দেখতে আসেন। অনেকে খাবারও নিয়ে আসেন। তবে ভাষাগত কিছু সমস্যা হচ্ছে। খুব শিগগিরই চলে যেতে হবে চাকরিস্থল মালয়েশিয়ার পেটালিংজায়ায়। তবে যাওয়ার আগে এ দেশের আরো কিছু ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের ইচ্ছা আছে।’

এ দেশের খাবারের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিরিয়ানি, তেহারি আর কালিয়াকৈর গ্রামের কিছু ট্র্যাডিশনাল ফুড যেমন—খুদের ভাত, সঙ্গে বিভিন্ন রকমের ভর্তা, দুধচিতই পিঠা, আরো অনেক ধরনের পিঠা খেয়েছি, যার নাম মনে নেই। এসব পিঠা খেতে অসম্ভব ভালো লেগেছে। নদীর ছোট ছোট তাজা মাছ, শাকসবজি, দই-চিঁড়া ও ঝালমুড়ি খেয়েছি, খুব মজা পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের খাবারের বৈচিত্র্যের প্রশংসা না করে কোনো উপায় নেই।’ ইরমা ডুই হেসে হেসে বলেন, ‘আমি আমার নিজ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে সিফুড খাব, বাংলাদেশে এসে নদীর মাছ খাব আর মালয়েশিয়ায় অন্যান্য খাবার খাব। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি এ কারণে যে এ দেশের সঙ্গে আমার একটা যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।’

ভ্রমণকালে কী কী খারাপ লেগেছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ধূলি-ধোঁয়া, যানজট, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাসহ নানা কারণেই ঢাকার বিশৃঙ্খল পরিবেশ লক্ষণীয়। ঢাকা একটি জনবহুল শহর। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয়কেই সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে সবাইকেই নিজ পরিবেশ নিয়ে ভাবতে হবে। পরিষ্কার রাখতে হবে নিজ শহর, এ বিষয়ে নিজেকে আরো বেশি সচেতন করে তুলতে হবে। পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ঢাকা আরো গতি ফিরে পাবে, খুলে যাবে সম্ভাবনার দুয়ার।’ ইরমা ডুই আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সহজ-সরল মানুষ ও তাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মকাণ্ড একটি বড় সম্পদ। এ সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি এ দেশের ঐতিহাসিক ও নান্দনিক জায়গাগুলো ব্র্যান্ডিং করতে পারলে অনেক বিদেশি এ দেশ ভ্রমণে আসবে। এ খাতে আয় হবে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা। আরেকটা বিষয় উল্লেখ করতে চাই, বিদেশিদের জন্য ভিসাপ্রক্রিয়া সহজীকরণ করলে আরো সুফল পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে অন-অ্যারাইভাল ভিসার তালিকাটা আরো লম্বা করা যেতে পারে।’



মন্তব্য