kalerkantho


মানসিক চাপে ঢাকাবাসী : পরিত্রাণ মিলবে কী করে?

২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



মানসিক চাপে ঢাকাবাসী : পরিত্রাণ মিলবে কী করে?

অঙ্কন : মাসুম

নাভিশ্বাস এক জীবনের নাম যেন ঢাকা! এটি বিশ্বের সবচেয়ে মানসিক চাপের শহর। শব্দ ও বায়ুদূষণ, অতিরিক্ত জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক পরিবেশের স্বল্পতা, গণপরিবহনের অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তার অভাবসহ মানসিক চাপ সৃষ্টির সব উপাদানই রয়েছে ঢাকায়। কিন্তু এই সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ কী? প্রতিরোধ ও প্রতিকারই বা কোন পথে? সবিস্তারে লিখেছেন হোসাইন মোহাম্মদ জাকি

 

২০১৭-১৮ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও এনসিডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক দুটি জাতীয় জরিপ পরিচালিত হয়। এর একটিতে দেখা যায়, গুরুতর মানসিক রোগীদের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক রোগের হার ৪২ শতাংশ, ১৮ বছরের নিচে নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজ-অর্ডার রোগীদের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক রোগের হার ৩২ শতাংশ, মাদকাসক্ত রোগীদের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক রোগের হার ২১ শতাংশ, গুরুতর মানসিক রোগীদের মধ্যে প্রাপ্ত প্রধান প্রধান শারীরিক রোগ হচ্ছে—ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, রক্তস্বল্পতা ইত্যাদি। আরেকটিতে দেখা যায়, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জনগণের মাঝে মাদক ব্যবহারের প্রকোপ ৩.৩ শতাংশ। ২০০৯ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে ঢাকা বিভাগের শিশু-কিশোরদের ওপর পরিচালিত কমিউনিটি জরিপে দেখা যায়, ১৮.৪ শতাংশ মানসিক রোগী। একই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ২০০৩-২০০৫ সালের জরিপের তথ্য অনুযায়ী ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জনগণের ১৬.১ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছে। সে হিসাবে প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি মানুষ রয়েছে, যাদের মানসিক রোগের চিকিৎসা দরকার। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জিপজেটের এক গবেষণায় দেখা যায়, এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় বাস করা সবচেয়ে স্ট্রেসফুল বা মানসিক চাপের। মানসিক রোগ নিয়ে আমাদের অনেক সংস্কার আছে। অন্য রোগের মতো আমরা অনেকেই এখনো মানসিক রোগকে স্বীকার করে নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। অনেক ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতেও উদাসীনতা ও অবহেলা লক্ষণীয়। তথাকথিত শিক্ষিত সমাজেও এখনো মানসিক রোগ মোকাবেলায় অপচিকিৎসার দ্বারস্থ হতে দেখা যায়। এতে করে রোগীর অবস্থা আরো সঙ্গীন হয়। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে যতটা সুফল পাওয়া যেত, পরবর্তী সময়ে ঠিক ততটা আশা করা যায় না।

 

মানসিক চাপের শুরু

‘বাচ্চা হবেই শুনে চারদিকে খোঁজ খোঁজ

কোথা ভালো স্কুল আছে, আলোচনা রোজ রোজ।

কারা কয়টা ফরম দেবে, কারা কয়টা ছেলে নেবে

প্রোপার এডুকেশন, মোটামোটা ডোনেশন

ক্ষতি নেই যদি দাও ওভার-ওভারডোজ!’

আমাদের নগরজীবনের চালচিত্রের একটি বিশেষ অংশের যথার্থতাই যেন ফুটে উঠেছে এই গীতি কাব্যে। ঢাকায় একটি শিশুর জন্মের আগে থেকেই মা-বাবার শুরু হয়ে যায় মানসিক চাপ। শুরুতে তা অভিভাবকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ক্রমেই তা বাচ্চাদের মধ্যেও সংক্রমিত হয়। স্বনামধন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রাকযোগ্যতা পূরণ করতে গিয়ে গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় শামিল হতে হয় অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের। এমনকি শিক্ষার্থীদের তথাকথিত এই অসফলতাকে অভিভাবকরা নিজেদের অসফলতা হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন। এই অব্যাহত মানসিক চাপে পরিবারগুলো মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও হতাশা তৈরি হয়।

 

অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও মানসিক চাপ

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমামের মতে, ‘অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে স্ট্রেস তৈরি হচ্ছে। স্ট্রেস মানে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। যানজটের অতিষ্ঠ এই নগরে কোথাও বেরোলে ঠিকমতো যাব কি না? সময়মতো পৌঁছব কি না? এই যে স্ট্রেস জমা হচ্ছে শরীরের ভেতরে, এটি এক ধরনের অদৃশ্য ঘাতক। এই স্ট্রেস আমাদের শরীর ও মনকে ক্ষতবিক্ষত করছে। যার কারণে আমরা একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের শিশুরাও এই পরিকল্পনাহীনতার শিকার।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘শহরের শিশুরা এখন ফার্মের মুরগির মতো বড় হচ্ছে।’ ধ্রুব সত্য! ফ্ল্যাট বাড়িতে, টিভি সেটের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে তারা ছোট্ট সীমাবদ্ধ জায়গায় পৃথিবীকে দেখার চেষ্টা করছে। পার্ক নেই, খেলাধুলার জায়গা নেই, মাঠ নেই, উদ্যান নেই। শুধু ওই ভিডিওর জগৎ। ছোট্ট একটি স্ক্রিনের মাঝখানে জীবন যাপন। এই যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া দৃষ্টিভঙ্গি সুস্থ ও সুন্দর জীবন ধারণের জন্য সহায়ক নয়। এমন নানাবিধ মানসিক চাপ বাড়ছে ঢাকাবাসীর জীবনে, যা পারিবারিক বিভিন্ন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পড়ছে ব্যাপক প্রভাব। মানসিক সুস্থতা ছাড়া কোনো সুস্থতাই সম্ভব নয়। মানসিক স্বাস্থ্যের জোরে মানুষ তার জীবনের নানাবিধ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ ও মোকাবেলায় সক্ষম হয়। কিন্তু এই মানসিক চাপের ফলে আমাদের সুস্থ, দক্ষ, সৃজনশীল প্রজন্ম থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ছেলে-মেয়েদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য চাই পর্যাপ্ত খোলা স্থান, খেলার মাঠ। কিন্তু তা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। দেড় কোটি মানুষের এই রাজধানীতে খেলার মাঠ একেবারেই নগণ্য। ক্রমাগত বেদখল হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ ও পার্ক। ফলে শিশু-কিশোররা বন্দি হয়ে পড়ছে চার দেয়ালের মাঝে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মানসিক বিকাশ। অন্যদিকে এসব অপদখলের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও নেই কার্যকর কোনো পদক্ষেপ। খেলতে না পারার জন্য, ছুটতে না পারার জন্য, ভালো করে বায়ু নিতে না পারার জন্য মহানগরীর শিশুরা এক ধরনের অসুস্থতার শিকার হচ্ছে। তাদের মনোবৃত্তিগুলো ছোট হয়ে আসছে। তারা যেন একটা রাক্ষুসে থাবার নিচে পড়েছে। নচিকেতার ভাষায়—

‘ভিড় করে ইমারত, আকাশটা ঢেকে দিয়ে

চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনা রোদ।

ছোট ছোট শিশুদের শৈশব চুরি করে

গ্রন্থকীটের দল বানায় নির্বোধ।’

এভাবে দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভূ-রাজনৈতিক চাপ, পরিবর্তিত সমাজ দর্শন আমাদের মনোজগেক আক্রান্ত করে। এর ফলে নানা রকম মানসিক রোগ হয়। কিশোর, যুবক ও বয়স্কদের মধ্যে মাদকাসক্তি ও আত্মহত্যার প্রবণতা এর অব্যাহত ফলাফল।

 

মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা

দেশব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য নিযুক্ত রয়েছেন মাত্র ২৩০-২৫০ জন সাইকিয়াট্রিস্ট তথা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ। মেডিক্যাল কলেজ ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ছাড়া জেলাপর্যায়ে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের পদ নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকদের সাধারণ মানসিক রোগগুলোর ওপর সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে এই ঘাটতি মোকাবেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার চিকিৎসককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অভিপ্রায়ে ঢাকায় বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কিছু হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠলেও সেগুলো বেশ ব্যয়বহুল। নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের আওতার বাইরে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবাও দিতে তারা সক্ষম নয়। সে ক্ষেত্রে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে অবস্থিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটই ঢাকাবাসীসহ দেশবাসীর মানসিক সেবার প্রধান আশ্রয়স্থল। ১০ টাকার টিকিটে এখানে মানসিক রোগীর স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়। ২০০ শয্যার আন্তবিভাগের পাশাপাশি রয়েছে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ। এ ছাড়া রয়েছে বিশেষ ক্লিনিক সেবা, ট্রমা কাউন্সেলিং, গ্রুপ কাউন্সেলিং, অকুপেশনালথেরাপি ও পুনর্বাসন সেন্টার, শিশু-কিশোর মানসিক রোগের বিশেষ ক্লিনিক আর অটিজম কর্নার। সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য রয়েছে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জিনাত ডে লায়লার তথ্য মোতাবেক, বহির্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ মানসিক রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

নগরজীবনে মানসিক চাপ ও মোকাবেলার কৌশল

সামাজিক দক্ষতা তৈরি বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় পরিবার ও সমাজে উদ্ভূত নানাবিধ আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতাগুলো আমরা অনেকেই মানিয়ে নিতে পারি না। মানসিকভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ি। পরিবারের যে কেউ মানসিক রোগাক্রান্ত হলে তার চিন্তাভাবনা ক্রমেই পুরো পরিবারকে গ্রাস করে। ১৪-২৫ বছর বয়স মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এটা তরুণসমাজের মেধা, মনন গড়ে ওঠার সময়, ক্যারিয়ার গঠনের সময়। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য যত ভালো রাখা সম্ভব হবে, মানসিক রোগ গড়ে না ওঠার তত বেশি সম্ভাবনা তৈরি হবে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুর মানসিক বিকাশ যদি সুষম, সাবলীল ও স্বাভাবিক হয়; তবে ভবিষ্যতে তার যেকোনো মানসিক রোগ হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেদের মনের যত্নের জন্য কিশোর-কিশোরীরা নিয়ম করে ঘুমানো, নিয়মিত পারিবারিক আড্ডা, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে সক্রিয় অংশগ্রহণ, নিয়ম মেনে হালকা ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, দ্বন্দ্ব-কলহ ও মাদকের নেশা এড়িয়ে চলা, অনৈতিকতার চর্চা পরিহার ইত্যাকার বিষয়গুলো মেনে চলতে পারে।

যুবকদের অনেকেই বেকারত্বের হতাশায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। কাজের মাঝে সম্পৃক্ত থাকলে তুলনামূলকভাবে হতাশায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। সে জন্য কাজকে নিচু চোখে না দেখে যেকোনো নৈতিক কাজকে বেছে নেওয়াটাই শ্রেয়। পাশাপাশি নিয়ম করে ঘুম থেকে ওঠা ও ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। সবাই নিয়ম মেনে হালকা ব্যায়াম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হতে পারেন। উদ্ভূত সমস্যা মোকাবেলায় সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে। গত ১০ অক্টোবর ছিল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এ বছর বিশ্বব্যাপী তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চলছে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি তরুণ। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

সামাজিক দক্ষতা তৈরি বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় বাড়ছে মানসিক রোগ

ডা. মো. ফারুক আলম

পরিচালক ও অধ্যাপক

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

সাঁতার, সাইক্লিং, হাঁটার উপযোগী ব্যবস্থা, খেলাধুলার মাঠ আমাদের পর্যাপ্ত নয়। আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে আগের মতো ঘরোয়া আড্ডা ও খোশ গল্প হয় না। ক্রমাগত সামাজিক দক্ষতা তৈরি বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় আমরা মানসিকভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের সর্বমোট রোগাক্রান্তদের মাঝে মানসিক রোগাক্রান্ত প্রায় ১১ শতাংশ। এসব মানুষকে সুস্থ রাখা সম্ভব হলে—বোঝা না হয়ে তারা দেশের সম্পদে পরিণত হবে। সংকটে পতিত হলে সেখান থেকে উত্তরণের জন্য মানুষ নতুন নতুন পথ খোঁজে। প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় অনেক নতুন ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদেরও দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় নগরীর মানুষ অব্যাহত মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে আমি আশাবাদী।

আগামী দিনের পৃথিবী হবে মানসিক স্বাস্থ্যের পৃথিবী

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ

সহযোগী অধ্যাপক, চাইল্ড এডোলেসেন্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চলমান কার্যক্রম দেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে ক্রমাগত গতিশীল করে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমিত ধারণা অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের আর্থ-সামাজিক সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি করবে বিষণ্নতা রোগ। দেশব্যাপী বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো হতে পারে মানসিক রোগ মোকাবেলায় আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার একটি একক ইউনিট। চীনা ভাষায় ‘ওয়েগি’ নামে একটি শব্দ রয়েছে। এর অর্থ হলো ‘ক্রাইসিস’। ‘ওয়েগি’কে বিচ্ছিন্ন করলে দুটি শব্দ পাওয়া যাবে। একটি ‘ওয়ে’, যার অর্থ হলো ডেঞ্জার, আর অন্যটি হলো ‘গি’, যার অর্থ হলো ‘অপরচুনিটি’। সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিটি ‘ডেঞ্জার’কেই আমরা ‘অপরচুনিটি’তে রূপান্তরিত করতে পারি। সীমাবদ্ধতাগুলোই তখন সম্ভাবনা হিসেবে প্রকাশ পাবে। আগামী দিনের পৃথিবী হবে মানসিক স্বাস্থ্যের পৃথিবী।



মন্তব্য