kalerkantho


ঢাকা হবে মৃত নগরী!

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকা হবে মৃত নগরী!

ছবি : শেখ হাসান

দ্রুত ক্রমবর্ধমান শহরগুলোর অন্যতম ঢাকা। কিন্তু সে তুলনায় ঢাকাকে একটি পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলে ব্যাপক বিপর্যয়ে পড়বে বাংলাদেশ। কিন্তু এমন ঝুঁকি থাকলেও তা মোকাবেলায় রয়েছে কি সুষ্ঠু পরিকল্পনা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের সমন্বিত প্রয়াস ও যুগোপযোগী নীতিমালা এবং তার প্রয়োগ? একটি নিরাপদ বাসযোগ্য ঢাকার প্রশ্নে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে সবিস্তারে লিখেছেন কবীর আলমগীর

রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা। এ বছর তিনি একটি বাড়ির কাজ হাতে নিয়েছেন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে তিনি বাড়িটি আটতলা করার অনুমতি পেয়েছেন। কিন্তু তিনি করছেন ১০তলা। প্রতি ফ্লোরে দুই ইউনিট করার কথা থাকলেও তিনি করছেন তিন ইউনিট। এ ছাড়া ইমারত নির্মাণের বিধিমালা লঙ্ঘন করে তিনি তাঁর সুবিধামতো বাড়ি করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘দুই ইউনিট করলে ভাড়া কম হবে, আর তিন ইউনিট করলে ভাড়া বেশি হবে। তাই এভাবে বাড়ি করতে হচ্ছে।’ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গবেষণা বলছে, ঢাকার ৭৩ শতাংশ ভবনে কোনো না কোনোভাবে এভাবেই নিয়ম লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অথচ ভবন নির্মাণ আইনে বলা আছে—বাড়ি, আবাসিক ভবন, শিল্প-কারখানাসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন নির্মাণের নতুন নির্মাণ আইন অনুযায়ী প্লটের আকৃতিভেদে ছয় থেকে ১০তলা পর্যন্ত উঁচু বাড়ি তৈরি করতে হলে দুই পাশে ও পেছনে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা খালি রাখতে হবে। প্লটের আকার যা-ই হোক না কেন, তিন কাঠা পর্যন্ত প্লটের জন্য পেছনে ও দুই পাশে সাড়ে তিন ফুট করে জায়গা ছাড়তে হবে। চার কাঠার জন্য পেছনে পাঁচ ফুট ও দুই পাশে ছাড়তে হবে সাড়ে তিন ফুট করে। একই সঙ্গে ২০ কাঠা কিংবা তার বেশি জায়গার পেছনে সাত ফুট ও দুই পাশে ছাড়তে হবে সাড়ে চার ফুট করে। যাতে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী বহুতল আবাসিক অথবা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে পরিবেশ ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। আবার ইমারত বিধিমালায় বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ সাততলা ভবন নির্মাণের সময় ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, গ্যাস, ওয়াসা ও বিদ্যুৎ বিভাগের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি হাইরাইজ ভবনে ফায়ার ডিটেক্টর, স্মোক ডিটেক্টর, উচ্চগতির পানি স্প্রে সিস্টেম ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন সিস্টেম থাকাও বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬-এর ১২ নম্বর ধারার (১) উপধারা অনুযায়ী আটতলা উচ্চতার বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রে ইমারতের সামনে কমপক্ষে ২৫ ফুট এবং ছয়তলা উচ্চতার বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৫ ফুট প্রশস্ত রাস্তা থাকা বাধ্যতামূলক। এ বিধিমালার আট নম্বর বিধির ৫ উপবিধি অনুযায়ী উল্লিখিত ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী সড়কের কেন্দ্র থেকে কমপক্ষে চার দশমিক পাঁচ মিটার অথবা সড়ক সংলগ্ন ইটের সীমানা থেকে এক দশমিক পাঁচ মিটার দূরে ইমারত নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ সাততলা ভবন নির্মাণের সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু আইনে পরিবেশ ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হলেও নগরীর বেশির ভাগ ভবন নির্মাণে এসবের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।

শুধু মোহাম্মদপুর এলাকার ওই বাড়িওয়ালা নন, ঢাকায় এ রকম হাজারো বাড়িওয়ালা আছেন, যাঁদের আইন না মানার সংস্কৃতির কারণে ঝুঁকির মুখে পড়ছে রাজধানী ঢাকা। বিধি ভঙ্গ করে যত্রতত্র গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। অপরিকল্পিত এই নগরায়ণের ফলে দুর্ঘটনার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে রাজধানী। আর এতে করে ভবিষ্যতের ঢাকা পরিণত হবে মৃত নগরীতে। নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত ইমারত (ভবন) নির্মাণে আইন থাকলেও তা বাস্তবায়নে নেই কার্যকর পদক্ষেপ। ১৯৫২ সালে প্রণীত আইনের আওতায় তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা। বছরের পর বছর পার হলেও আইনটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ বা উদ্যোগ নেই।

 

বাড়ছে উচ্চ ঝুঁকি

ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কতগুলো এর সঠিত পরিসংখ্যান নেই। তবে বেসরকারি নানা জরিপের তথ্যমতে এ সংখ্যা লক্ষাধিক। বছর আটেক আগে ২০১০ সালে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা ৮০ হাজার। ফলে ভূমিকম্পসহ অবকাঠামোগত ঝুঁকি বাড়ছে। ঢাকা বিশ্বে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোর একটি। কিন্তু ভবন তৈরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পাঁচটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে। বাস্তবে মনিটরিং কমিটিগুলো অকার্যকর হয়ে আছে। সরেজমিন পরিদর্শন কার্যক্রমও তেমন একটা নেই। এসব কারণে রাজধানীতে বিল্ডিং কোড না মেনেই প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে অবৈধ ভবন।

২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি রাজউকের এক বৈঠকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ ঠেকাতে রাজউক পাঁচটি মনিটরিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। রাজধানীকে পাঁচটি এলাকায় ভাগ করে গঠন করা হয় ১২ সদস্যের মনিটরিং কমিটি। কমিটিতে রাজউকের কর্মকর্তা ছাড়া জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিহ্যাব, বিএলডিএ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। মনিটরিং কমিটির কাজ নির্মাণাধীন বাড়িগুলো সশরীরে পরিদর্শন করে কেউ অপরাধ করলে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু আজ পর্যন্ত কমিটির তেমন কার্যক্রম নেই। নিয়মিত বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয় না। এ ব্যাপারে নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভূমিকম্পে ঢাকা শহর মহা ঝুঁকিতে আছে। রিখটার স্কেলে ৬ থেকে ৭ মাত্রার ওপর ভূমিকম্প হলে ঢাকার প্রচুর ক্ষতি হবে। যথাযথ নিয়ম না মেনে যাঁরা বাড়ি করছেন, তাঁরা মহা ঝুঁকিতে পড়বেন। তাই সবারই উচিত ভবিষ্যৎ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিয়ম মেনে ভবন করা।’

 

নেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা!

এদিকে রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ির প্রকৃত সংখ্যা কত তার পরিসংখ্যান নেই রাজউকের কাছে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী ভবন নির্মাণের অনুমোদন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব রাজউকের। এ ছাড়া আইনে ভবনের তালিকা হালনাগাদ করার কথা থাকলেও তা করা হয় না। ইমারত নির্মাণ বিধিমালার ২৯ ধারায় বলা আছে, পাঁচ বছর পর পর ভবনের তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। কিন্তু এই নিয়ম মানা হয় না। জানা যায়, ঢাকা ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী বছরে গড়ে তিন থেকে চার হাজার ভবন নির্মাণের নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর বাইরেও প্রতিবছর শতাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কোনো অনুমোদন ছাড়াই।

রাজউক সূত্রে জানা যায়, অনুমোদনহীন এসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে বাড়ি নির্মাণ করার ফলে পাশের প্রতিবেশীর সঙ্গেও তৈরি হয় বিরোধ। ফলে অনেক লিখিত অভিযোগ আসে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনেক সময় রাজউক নোটিশ দিলেও তা তেমন কোনো কাজে আসে না। গত বছর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায় দেখা গেছে, নগরীতে বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে ওঠা অবকাঠামোর ৭৩ শতাংশই পুরোপুরি অপরিকল্পিত। আর এই অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে যানজট আর জলাবদ্ধতার শহরে পরিণত হয়েছে রাজধানী ঢাকা। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পানিতে দুর্গন্ধ, রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা, ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, মশা-মাছির যন্ত্রণাসহ আবাসন সংকট। ভূমি ব্যবহারের যথাযথ নীতিমালা না মেনে গড়ে উঠেছে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহসিন রেজা হোসেন বলেন, ‘ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানাই হলো বিল্ডিং কোড। ভবন নির্মাণের সময় মাটির গুণাগুণের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। পুকুর, ডোবা বা অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গা হলে সেটি ভালো মতো ভরাট করে নিতে হবে। এর পর তা ভালো করে পাইলিং করতে হবে। ঢাকা ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ নগরীর একটি, তাই নিয়ম মেনে ভবন করলে এই ঝুঁকি থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।’

 

ভবিষ্যতের ভয়াবহতা ও উত্তরণের পথ

সম্প্রতি ভয়াবহ ভূমিকম্পে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার পালু শহর যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজার পাঁচ শ ছাড়িয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মাটির নিচে চাপা পড়ে রয়েছে আরো অসংখ্য মরদেহ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সতর্কতা অবলম্বন না করলে ঢাকারও তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ঢাকায় ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার সাড়ে তিন লাখ ভবনের মধ্যে ৭২ হাজারের মতো ভবন ধসে পড়বে বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি ঢাকা শহর বড় ধরনের ভূমিকম্পের কবলে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে যত মানুষ মারা যাবে, তার কয়েক গুণ মারা যাবে আগুনে পুড়ে ও বিদ্যুত্পৃষ্ট হয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে ঢাকার আশপাশের কোনো জেলায় যদি সাত মাত্রার কোনো ভূমিকম্প হয়, তাহলে তা হবে শহরটির জন্য একটি বিশাল বিপর্যয়। আর তাতে ২০১০ সালে হাইতির পোর্ট অ প্রিন্সে ভূমিকম্পের পর যে ধরনের ধসের চিত্র দেখা গেছে, ঢাকায়ও একই ভয়াবহ অবস্থা হবে। হাইতিতে ৭.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে তিন লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়। আহত হয় প্রায় তিন লাখ মানুষ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই ১২টি ভূমিকম্প ফাটল আছে। এসব জায়গায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। ১৮২২ এবং ১৯১৮ সালে বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। প্রতি ১০০ বছর পর পর ফাটল থেকে বড় আকারের ভূমিকম্প হয়। তাই আরেকটি বড় ভূমিকম্পের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। মূলত ভূমিকম্পে মানুষের বিশেষ কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় না! যে ক্ষতির সৃষ্টি হয় তা মানুষের তৈরি অব্যবস্থাপনার কারণে। সে কারণে ভূমিকম্পের বিপর্যয় মোকাবেলায় বিল্ডিং কোড মেনে ভবন তৈরি করতে হবে। ঢাকার ৭৬ শতাংশ সরু রাস্তা প্রশস্ত করতে হবে। উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ স্বেচ্ছাসেবী তৈরি করা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর করতে হবে।

রাজউক আগের থেকে বেশি সক্রিয়

আবদুর রহমান, চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)

রাজউক মূলত তিনটি কাজ করে। প্রথম কাজ হলো রাজউক রাজধানীর উন্নয়ন করে। দ্বিতীয়ত রাজউক উন্নয়ন কন্ট্রোল বা তদারকি করে। তৃতীয়ত রাজউক প্ল্যানিং করে। রাজউক আওতাধীন ঢাকা সিটিতে আমাদের ১৫২৮ বর্গকিলোমিটার জায়গা। এ জায়গার মধ্যে কী ধরনের কাজ হবে, কোথায় উন্নয়ন হবে, কোথায় প্ল্যান হবে রাজউক মূলত এই কাজগুলো করে থাকে। রাজউক যে কাজগুলোই করুক না কেন এর মধ্যে থাকে শহরের সৌন্দর্য বাড়ানোর বিষয়টি। আমাদের লক্ষ্য থাকে নিয়মবহির্ভূত কোনো কাজ যেন না হয়। রাজউক আগের থেকে অনেক বেশি সক্রিয়। নিয়ম না মেনে যাঁরা বাড়ি করছেন, আমরা সেগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে অবশ্যই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।

ঢাকাকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার

ইকবাল হাবিব, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ

অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে ঢাকার নানন্দিক সৌন্দর্য বিলীন হচ্ছে। অথচ একটু পরিকল্পনা আর কঠোর তদারকি থাকলে ঢাকা পৃথিবীর নান্দনিক শহরগুলোর একটি হতে পারবে। কোনো মানুষ বাড়ি করছেন, ভবন বানাচ্ছেন এর পেছনে কাজ করছে তাঁর আর্থিক মনোভাব। সৌন্দর্য নয়, তাঁর নির্মিত ভবনটি হচ্ছে তাঁর আর্থিক উপার্জনের কেন্দ্র। আর এ মানসিকতার কারণে সর্বনাশ হচ্ছে ঢাকার। ঢাকা শহরের সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হলে চারটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। সেগুলো হলো—মাস্টার প্ল্যান বা ডেনসিটি জোনিং পরিবর্তনশীল হতে হবে। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে ভবনের উচ্চতা এবং এলাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ধারণ করতে হবে। মোট কথা হলো, ঢাকা আমাদের শহর, আমাদের প্রাণের শহর। ৪০০ বছরের পুরনো এই ঢাকা শহরকে রক্ষা করার নৈতিক দায়িত্ব আমাদের সবার।



মন্তব্য