kalerkantho


মূল্যবোধের অধঃপতনের আরেক নাম ‘কিশোর অপরাধ’

ঢাকার বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লায় ক্রমেই বাড়ছে কিশোর অপরাধ। যে হাতে বই-খাতা-কলম থাকার কথা, সে হাতে বন্ধু বা প্রতিপক্ষকে একের পর এক আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটছে। আজকের তরুণরাই তো দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তারা দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করবে। কিন্তু আজ কেন তাদের এই অধঃপতন? পারিবারিক, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংস্কৃতিক দেউলিয়াপনাই কি এর জন্য দায়ী? মূল সমস্যা কোথায় আর সমাধানই বা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর-প্রত্যুত্তর নিয়ে সবিস্তারে লিখেছেন এস এম আজাদ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মূল্যবোধের অধঃপতনের আরেক নাম ‘কিশোর অপরাধ’

আঁকা : মাসুম

দুই দল কিশোরের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের কারণ ছিল, একদল অন্য দলকে বড় বা সিনিয়র বলে মেনে নিচ্ছিল না। অবস্থা এমন পর্যায়ে গড়ায় যে এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। বিবদমান দুটি দলে ধনীর দুলাল থেকে শুরু করে সবজি বিক্রেতা বা টেম্পোর হেলপারও ছিল। তারা তাদের এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করে। জেনেছিল পুলিশ। টের পেয়েছিলেন অভিভাবকরাও। এর পরও ঠেকানো যায়নি বিপদ! গত ৩১ আগস্ট দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হয় মেহেদী হাসান (১৬) নামে এক কিশোর। রাজধানীর দক্ষিণখানে ঘটেছে এ হত্যাকাণ্ড। পরে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই দল কিশোর এলাকায় শোডাউন করছিল। অন্যদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাও করতে চেয়েছিল তারা। একদল আরেক দলকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করলে শুরু হয় সংঘাত। ঘটনার পর পুলিশ সিফাত ও মেহরাব নামে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। এলাকা ছাড়ে বাকিরা। ৮ আগস্ট পুলিশ গ্রেপ্তার করে সাইফ, মনির, আরাফাত, সাইফুল, আপেল  ও সোহেলকে। তাদের কাছ  থেকে ‘সুইচ গিয়ার’ নামে একটি বিশেষ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাত কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

দক্ষিণখানের মেহেদী হত্যার মতোই চলতি বছর রাজধানীতে আরো ১০টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত বছর ঘটেছে একই ধরনের এক ডজন খুন। এ ছাড়া তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাড়া-মহল্লায় উঠতি কিশোর-যুবকদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বা আহতের খবর আমরা পাই না বললেই চলে। গত বছর উত্তরায় সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে স্কুলছাত্র আদনান কবির খুন হয়। ওই মামলার তদন্তে কিশোর-তরুণদের ‘গ্যাং কালচার’ ধরা পড়ে। এরপর উত্তরাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার পাড়া-মহল্লার গ্যাং গ্রুপ আলোচনায় উঠে আসে।

কালের কণ্ঠ’র ৩৬০ ডিগ্রির তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, শহরের পাড়া-মহল্লায় বখাটে আড্ডা, অনলাইন গ্রুপ এবং দল বেঁধে বাইক নিয়ে ‘রেসিং বো’ ঘোরাঘুরি থেকে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। একটি দল আরেকটি দলের আধিপত্য মানতে চায় না। ‘বড় ভাই’ না মানলেই শুরু হয় বিরোধ। এসব বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড বা বড় ঘটনা ঘটলে আলোচনায় আসে। তবে প্রতিদিনই শহরের কোনো না কোনো এলাকায় কিশোরদের মধ্যে এমন বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে। ঘটনাগুলোর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মূল্যবোধের অভাব ও বিরোধী মনোভাব অন্যতম কারণ। ক্রিকেট খেলা, বসার স্থান বা বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলার মতো তুচ্ছ কারণেও হত্যাকাণ্ড ঘটছে। সুইচ গিয়ার নামে একটি ছুরি দিয়ে প্রতিপক্ষকে হামলা করছে তারা।

অপরাধ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সমাজের উচ্চবিত্ত পরিবারের অনেক কিশোর সঙ্গদোষে অথবা অ্যাডভেঞ্চার করতে গিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। উচ্চবিত্তের বখে যাওয়া সন্তানদের অনেকে গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় দামি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ছে। উচ্চৈঃস্বরে মিউজিক বাজিয়ে ‘রেসিং কার’ নিয়ে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে নগরবাসীর মনে তৈরি করছে এক ধরনের আতঙ্ক। এরা পাড়ার মোড়ে মোড়ে দল বেঁধে আড্ডা দেয়, মেয়েদের ইভ টিজিং করে। বড়দের সামনে প্রকাশ্যেই একের পর এক সিগারেট ফোঁকে।

বখে যাওয়ার সমস্যা টের পেলেও অভিভাবকরা এসব সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তাই আগে থেকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, ‘হিরোইজম থেকে সহজে অপরাধে জড়ায় অল্পবয়সীরা। অপরাধ করা যাবে না—এমন বোধ তৈরি করতে হবে তাদের মধ্যে। এটা পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই দায়িত্ব।’

 

অসতর্কতায় প্রাণহানি

দক্ষিণখানে খুন হওয়া মেহেদী হাসানের মা শাহীনুর বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি কালের কণ্ঠ’র ৩৬০ ডিগ্রিকে জানান, তাঁর ছেলে স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। বছরখানেক আগে সে তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী সদরে চলে যায়। সেখানে সে নবম শ্রেণিতে পড়ছিল। ঈদের দুই দিন পর সে দক্ষিণখানের আনারবাগ এলাকায় তার বন্ধু নাজমুল ইসলামের বাসায় বেড়াতে আসে। এখানে সে দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যে পড়ে প্রাণ হারায়। শাহীনুর দাবি করেন, ঘটনার আগে তিনি ঝগড়ার কথা শুনেছেন। তবে এতে তার ছেলে খুন হতে পারে তা বুঝতে পারেননি। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় তরুণ ও কিশোররা আরাফাত ও শান্ত গ্রুপে বিভক্ত। এরা অল্প বয়সী কিশোরদের দলে ভেড়াচ্ছে। মেহেদীর বন্ধু নাজমুল যুক্ত ছিল শান্তর দলে। আরাফাতের দলের তৌকিরের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। কারণ ছিল—কে বড় আর কে ছোট তা নিয়ে বিতর্ক। বিরোধের একপর্যায় আরাফাত এই গ্রুপকে হুমকি দেয়। এর পরই নাজমুল ও তৌকিরের মা পাল্টাপাল্টি জিডি করেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মেহরাব এইচএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছিল এবং সিফাত পড়ালেখা করে না। হত্যায় জড়িত সন্দেহে ঘটনার পরপরই তাদের আটক করা হয়। লেখাপড়া করে না এমন অনেকেই তাদের বন্ধু। দক্ষিণখান থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা বলেন, ‘দুই পক্ষ জিডি করার পর পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি চায়। অনুমতি পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছিল। পুলিশের তদন্ত চলমান থাকার মধ্যেই এই খুনের ঘটনা ঘটে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার কিছুদিন আগে আরাফাত গ্রুপের এক সদস্য কাউসার মেহেদীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে। এই তুই বলার জেরে শান্ত গ্রুপের ছেলেরা আরাফাত গ্রুপের কাউসারকে মারধর করে। ১৮ আগস্ট আবারও শান্ত গ্রুপের সদস্যরা আরাফাত গ্রুপের সাইফকে মারধর করে। এর পরপরই পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩১ আগস্ট আসামিদের মধ্যে সানি ও সোহেল মেহেদীকে জড়িয়ে ধরে এবং সাইফ চাকু দিয়ে মেহেদীর বাঁ কানের নিচে স্টেপ করে এবং অন্যরা লাঠি দিয়ে আঘাত করে।’

 

একের পর এক ঘটনা—প্রতিকার কই!

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২০ আগস্ট বংশালে দুই দলের বিরোধের জেরে খুন হয় গাফফার ওরফে মোল্লা (১৭) নামে এক কিশোর। এ ঘটনায় শাকিব নামে আরেক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের বন্ধু অপু জানায়, ঘটনার আগের দিন শাকিব ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে ছোটন নামে আরেক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে শাকিব তার সহযোগীদের নিয়ে ছোটনের বন্ধু গাফফারের ওপর হামলা চালায়। বংশাল থানার ওসি সাইদুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় পাকিস্তান মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ওই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।’ 

গত ১৭ আগস্ট মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ধূমপানে বাধা দেওয়ায় কয়েক কিশোর মিলে তারিকুল ইসলাম তারেক নামে এক তরুণকে (১৮) ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ সময় সঙ্গে থাকা হেলালও ছুরিকাহত হয়। সুজন নামে এক কিশোরের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারেক তাকে চড় দিয়েছিল। তারেকের মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘ওরা এখানকার বখাটে পোলাপান। আমার ছেলেরে সুজন, জনি, আশরাফ, শাহজালালসহ কয়েকজন মারছে। এর মধ্যে শাহজালালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’

গত ১৮ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাবরি মসজিদের গলিতে ছুরিকাঘাতে আব্দুল আলিম (১৭) নামের এক কিশোর প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। এ সময় রাকিবুল ইসলাম নামের আরেক কিশোর আহত হয়। রাকিবুল জানায়, তারা ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর রোডে একটি খাবারের দোকানে কাজ করে। রায়েরবাজার পাবনা হাউজিং গলিতে তাদের বাসা। জন্ম দিনের কেক কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মেহেদী, আরমান, শাওনসহ ৮-১০ জন কিশোর তাদের ওপর হামলা চালায়।

গত ২৯ জুন খিলগাঁওয়ে নন্দীপাড়ায় ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কয়েক কিশোর মিলে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে আল-আমিন (১৮) নামে এক কিশোরকে। নিহতের বন্ধু জয়নাল আবেদিন জয় বলেন, দশম শ্রেণির ছাত্র আল-আমিন মেলা দেখতে গিয়েছিল। তাকে হত্যায় অভিযুক্ত জাবেদ, সোহরাব, সালাম ও সোহেল একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য। এদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

চলতি বছরের ২ মে মাসে কুড়িলে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে আশরাফুল আলম জিহাদ (১৬) নামে এক কিশোর খুন হয়। নিহত জিহাদ তার বন্ধু হৃদয় ও বিপ্লবের কাছে আড়াই শ টাকা পেত। কিন্তু এ টাকা না দেওয়ায় জিহাদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে ঘটে খুনের ঘটনা।

গত ২১ এপ্রিল যাত্রাবাড়ীর ধলপুর ১০ নম্বর মানিক মিয়া কোয়ার্টারের পুকুরে গোসল করতে যায় আফসার উদ্দিন সিহাব নামে এক কিশোর। সেখানকার একটি গাছ থেকে কয়েকটি আম পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে হৃদয়, জুয়েলসহ কয়েকজন মিলে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে সিহাবকে। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, ‘সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সিহাব খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ এদিকে ১৬ মার্চ সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে শাহজাহানপুর শহীদবাগে তন্ময় নামে সিদ্ধেশ্বরী কলেজের ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে প্রতিপক্ষ।

 

বখাটে সন্ত্রাসীরা নেই নজরদারিতে

অপরাধ পরিস্থিতিরি তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছর কে বড় আর কে ছোটর মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঢাকায় এক ডজন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতরা ছিল কিশোর ও তরুণ। ঢাকা মহানগর পুলিশের সূত্র জানায়, ২০১০ সালে পুলিশ এলাকাভিত্তিক এক হাজার ১০০ কিশোর বা উঠতি সন্ত্রাসীর একটি তালিকা তৈরি করে। ওই তালিকার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও তরুণ বখাটে। তারা এরই মধ্যে কিশোর থেকে যুবকে পরিণত হয়েছে। তবে এলাকাভিত্তিক অপরাধীদের তালিকা হলেও সেই কিশোর অপরাধীদের তালিকা আর হালনাগাদ করা হয়নি। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘টিনএজ বা কম বয়সের অপরাধীর সংখ্যা বাড়ছে, এটা ঠিক নয়। তারা মূলত পাড়া-মহল্লায় অপরিচিত, তেমন পুলিশের কাছেও। ফলে অপরাধ করে এসব কিশোর অপরাধী সহজেই গাঢাকা দিচ্ছে।’

 

রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কার্যকর পদক্ষেপই পারে এসব সমস্যার পরিত্রাণ দিতে

মুহাম্মদ উমর ফারুক

সহযোগী অধ্যাপক, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি), টাঙ্গাইল

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নগরকেন্দ্রিক বসবাসকারী যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে দলগতভাবে সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। সাধারণত আমরা লক্ষ করি, তারা দুটি কারণে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। প্রথমত, বৈষম্যমূলক আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানগত কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের যুবকরা তুলনামূলকভাবে প্রভাবশালী আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে। দ্বিতীয়ত, যেসব যুবক প্রাথমিক পর্যায়ে অন্য দলের যুবকদের মাধ্যমে মৌখিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তারা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান থেকে নিজেদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও প্রতিশোধপরায়ণতা থেকে এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তবে উভয় ক্ষেত্রে মাদক দলের সংহতি সহিংসতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যুব সম্প্রদায়ের দলগত সহিংস অপরাধ থেকে বিযুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রধানত আন্ত ব্যক্তিক সম্পর্ক ও দলগত সম্পর্ক উন্নয়ন, যা রিকনসিলিয়েশন পদ্ধতির মাধ্যমে করা যেতে পারে। এ ছাড়া সুস্থ সাংস্কৃতিক বিনোদনের ব্যবস্থা করা। এ ধরনের কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবারের অভিভাবক ও প্রতিবেশী পর্যবেক্ষণ এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যেতে পারে। উল্লিখিত এসব রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নানা কার্যকর পদক্ষেপই পারে এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিতে।



মন্তব্য