kalerkantho


খানাখন্দে ভরা মিরপুর দুয়ারীপাড়া সড়ক সাধারণের ভোগান্তি

রওনক আহমেদ   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



খানাখন্দে ভরা মিরপুর দুয়ারীপাড়া সড়ক সাধারণের ভোগান্তি

রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ী মোড় থেকে দুয়ারীপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার মূল সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। ইট ও পিচ উঠে গিয়ে রাস্তাটিতে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় কাদা এবং প্রবল বৃষ্টিতে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে জরাজীর্ণ এ সড়কে প্রতিদিনই ঘটছে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আর বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ, দুর্দশা আর সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, পথচারীসহ হাজার হাজার মানুষকে।

এ ছাড়া দুয়ারীপাড়া, রূপনগর আবাসিক এলাকাসহ আশপাশের পার্শ্বরাস্তাগুলোও খানাখন্দে ভরা। রাস্তায় জমে থাকা বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মিশে সৃষ্টি হয়েছে বিষাক্তময় পরিবেশ। মূল সড়কের দুপাশজুড়ে গড়ে উঠেছে শত শত অস্থায়ী দোকান। এ বিষয়ে বেসরকারি চাকরিজীবী সাগর বলেন, ‘সারা বছরই খুব ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। অন্য সময় ধুলাবালিতে অন্ধকার থাকে। এ পথে চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়। এই কষ্ট আমরা বছরের পর বছর ধরে করে আসছি। কয়েক দিন আগেও মোটরসাইকেল থেকে গর্তে পড়ে গিয়ে একজনকে মারাত্মক আহত হতে দেখেছি। এ ধরনের অ্যাকসিডেন্ট মাঝেমধ্যেই ঘটে। রাস্তাটি কেন যে সারাই করা হয় না?’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ‘শিয়ালবাড়ী মোড়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) রূপনগর ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তা, রূপনগর আবাসিক এলাকা মোড়, টিনশেড এলাকা, আরিফাবাদ হাউজিং, দুয়ারীপাড়া বাজার মোড়সহ মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট ও পিচ উঠে গেছে। তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। জরাজীর্ণ সড়কটির ভাঙাচোরা ইটের সুরকি ও আলগা পিচ উঠে পুরো রাস্তায়ই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। শিয়ালবাড়ী মোড় থেকে দুয়ারীপাড়া বাজার পর্যন্ত মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় পচা কাদাপানি জমে আছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারীসহ হাজার হাজার মানুষকে কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। খানাখন্দে ভরা এ রাস্তায় ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা। বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় ঢাকনাবিহীন খোলা ড্রেন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে জমে রয়েছে ড্রেনের উপচে পড়া পচা-বিষাক্ত পানি। শিয়ালবাড়ী মোড় থেকে দুয়ারীপাড়া পর্যন্ত মেইন সড়কের বিভিন্ন স্থান দখল করে বসানো হয়েছে অস্থায়ী দোকান। এ সড়কের কোনো পাশেই ফুটপাত না থাকায় জনগণের চলাচলে দুর্ভোগ হয়।

নির্মাণ শ্রমিক আলামিন দুয়ারীপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। তিনি বর্তমানে মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। আলামিন বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে কষ্ট করে আসছি। বর্ষায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে যায়। আমরা চাই নতুনভাবে রাস্তাটা মেরামত করা হোক।’ পথচারী মাজেদা খাতুন বলেন, ‘রাস্তার যে অবস্থা, তাতে বৃষ্টি হলে তো বাইরে বের হওয়ারই উপায় থাকে না। রাস্তায় জমে থাকা কাদা-পানিতে কাপড়চোপড় নষ্ট হয়ে যায়। ছোট বাচ্চারা মাঝেমধ্যেই কাদা-পাঁকের মধ্যে পড়ে যায়। এই পথে চলাচল করতে অনেক সমস্যা হয়। আবার রাস্তায় বড় বড় গর্ত থাকার কারণে রিকশাচালক ভাড়ায় যেতে চায় না। যেতে রাজি হলেও ভাড়া চায় ডাবল।’

দুয়ারীপাড়া থেকে আজিমপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বিহঙ্গ বাসে বসে কথা হলো সাগর আলীর সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠ’র ৩৬০ ডিগ্রিকে বলেন, ‘লক্কড়ঝক্কড় রাস্তায় যাওয়া-আসা করতে খুব সমস্যা হয়। আর বর্ষার সময় ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে যায় বহুগুণ। কেননা আমাদের রূপনগর আবাসিক এলাকার মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট কাদা-পানিতে ভরে যায়। অনেক দিন ধরেই এ রাস্তায় চলাচল করি; কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হয় না। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, এই রাস্তার উন্নয়ন তো হচ্ছে না।’

শিয়ালবাড়ী থেকে দুয়ারীপাড়া মোড় পর্যন্ত মূল রাস্তাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দুটি ওয়ার্ডের আওতায় পড়েছে। শিয়ালবাড়ী থেকে রূপনগর পর্যন্ত ৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং দুয়ারীপাড়া থেকে বাকি অংশ পড়েছে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালবাড়ী, রূপনগর আবাসিক, টিনশেড, আরিফাবাদ, দুয়ারীপাড়া এলাকার স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের প্রাণের দাবি, ‘শিয়ালবাড়ী থেকে দুয়ারীপাড়া মোড় এবং পার্শ্বসড়কগুলো সংস্কার করা হোক।’ এসব এলাকাবাসীসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যাওয়া-আসা করে। সড়কটির সমস্যা সমাধান করা হলে অনেক মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবাশ্বের চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



মন্তব্য