kalerkantho


ঢাকার অতিথি

দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার স্বার্থেই তরুণদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে

যানজট মানুষের কর্মঘণ্টাকে কমিয়ে দেয়। এটির স্থায়ী সমাধান করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শিল্প-কারখানাগুলোতে তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয় করতে হবে

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার স্বার্থেই তরুণদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে

নরওয়ের নাগরিক ডিড্রিক স্ট্রেম। ইয়ং সাসটেইনেবল ইমপ্যাক্ট (ওয়াইএসআই) বাংলাদেশ শাখার একটি প্রগ্রামে অংশ নিতে সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন। বাংলাদেশের তরুণদের পাশে থেকে দেখেছেন। তাঁর সঙ্গে নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন নাদিম মজিদ

 

জাতিসংঘ ঘোষিত সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজি) বাস্তবায়নে কাজ করছে নরওয়েভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইয়ং সাসটেইনেবল ইমপ্যাক্ট (ওয়াইএসআই)। গত ১২ জুলাই জিপি হাউসে অনুষ্ঠিত হয় মেগাপ্রেনার ২০১৮-এর চূড়ান্ত পর্ব। বাংলাদেশের সমস্যা বাংলাদেশি তরুণদের দ্বারা সমাধানের অংশ হিসেবে ওয়াইএসআই বাংলাদেশ সে প্রগ্রাম আয়োজন করেছিল। সে প্রগ্রামের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া দলগুলোকে মেন্টরিং করেছিলেন ওয়াইএসআই গ্লোবালের চিফ অপারেশন অফিসার ডিড্রিক স্ট্রেম।  

ঢাকায় অবস্থানকালীন নানা দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘আমি ঢাকায় অবস্থান করা সময়ে নিকুঞ্জের একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতাম। মাঝেমধ্যে জানালার বাইরে তাকালে দেখতাম, বাচ্চারা আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। ভাবতাম তারা কেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সেসব বাচ্চার দিকে তাকিয়ে হাসতাম। তাদের সঙ্গে তাদের মতো করে আমার ভাব বিনিময় হতো!’ বলেই হাসলেন ডিড্রিক।

ঢাকায় থাকার সময় বাংলাদেশিদের কাছ থেকে সব সময় সাহায্য পেতেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিদের কাছ থেকে আমি সব সময় সহযোগিতাপূর্ণ ব্যবহার পেয়েছি। আমি সেখানে বাস, রিকশা, সিএনজি, পাঠাও, উবার ব্যবহার করেছি। কারো কাছে কোনো সহযোগিতা চাইলে তাঁরা বেশ আগ্রহ সহকারে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া ঢাকার রিকশার প্রতি আমার আলাদা ভালোলাগা ছিল। বিশেষ করে রিকশার পেছনের আঁকা ছবিগুলো আমার অসাধারণ লাগত। স্বল্প সময়ের মধ্যে আমি ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানা ও সংসদ ভবন দেখতে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশের সংসদ ভবন বিশ্বের বড় সংসদ ভবনগুলোর একটি, যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে সংসদ ভবনের স্থাপত্য শৈলী অসাধারণ।’ নরওয়ের জনসংখ্যার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করে ডিড্রিক বলেন, ‘শুধু ঢাকার জনসংখ্যা নরওয়ের তিন গুণ। এখানে যেকোনো ব্যবসা উদ্যোগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার অধিবাসীদের দ্বিতীয় ভাষা ইংরেজি, যা পর্যটক আকৃষ্ট করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ পেতে সাহায্য করবে।’

তরুণদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়াইএসআই গ্লোবালের চিফ অপারেশন অফিসার হিসেবে কাজ করছেন ডিড্রিক স্ট্রেম। বাংলাদেশে অবস্থানের সময় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতেও অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের তরুণদের উদ্যম ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণরা যথেষ্ট মেধাবী। এসব তরুণের ওপর ফোকাস করলে, সমর্থন ও সহযোগিতা করলে তারা অনেক অনেক বেশি ফিডব্যাক দেবে। বাংলাদেশের আরো দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার স্বার্থেই তরুণদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। আমি মনে করি বাংলাদেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে এরা তুলনামূলক আরো ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।’

বাংলাদেশে যানজটকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে মনে করে ডিড্রিক বলেন, ‘যানজট মানুষের কর্মঘণ্টাকে কমিয়ে দেয়। এটির স্থায়ী সমাধান করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শিল্প-কারখানাগুলোতে তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয় করতে হবে। বাংলাদেশে তরুণদের উদ্যম অসাধারণ। তারা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিন্তা করতে পারে। এ চিন্তার সঙ্গে শিল্প পর্যায়ে অভিজ্ঞদের সংযোগ ঘটাতে পারলে দারুণ কিছু করা সম্ভব। বাংলাদেশ নবীন-প্রবীণকে একত্র করে কাজ করলে আরো বেশি সুফল পাবে।’ বাংলাদেশে আবারও আসতে চান কি না জানতে চাইলে ডিড্রিক স্ট্রেম বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার খুবই ভালো লেগেছে। সময়-সুযোগ পেলে এ দেশে আমি আবারও আসতে চাই। এখানকার তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগে সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে চাই।’

 



মন্তব্য