kalerkantho

ছুটিতে যাব আজ...

মারুফা মিতু   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ছুটিতে যাব আজ...

মডেল : মা-মুক্তি, মেয়ে-বৃতি। ছবি : মঞ্জুরুল আলম

‘সকালবেলা এক কাপ চা কোনো রকমে নাকে-মুখে গুঁজে দেওয়া। সপ্তাহের অন্য দিন তা-ও হয়তো দৈনিক পত্রিকাটি হাতে নিয়ে আয়েশ করে চা খাওয়া যায়। কিন্তু শুক্রবারের দিনটায় আমার সকাল শুরু হয় আরো আগে থেকে। এবং কেন জানি খুব হুড়মুড় করে শুরু হয়। সারা দিন ছোটাছুটি করে কাজ করতে হয়। ছুটির দিন যে একটি আনন্দের বিষয়, সেটি আসলে আমি বুঝেই উঠতে পারি না। ছুটির দিন বরং দ্বিগুণ কাজ করতে হয় আমাকে।’ এভাবেই নিজের ছুটির দিনের কথা বললেন নুরুন্নাহার বেগম। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সারা সপ্তাহ সময়ের সঙ্গে ঘোড়াদৌড়। অফিস-বাসা। বাসা-অফিস। কর্মজীবী নারীর সপ্তাহের অন্যান্য দিনের রুটিন মূলত এটাই। এর সঙ্গে আছে সন্তানের দেখভাল করা। অফিসফেরতদের জন্য রান্না করা। একফোঁটা দম ফেলার সময় হয়ে ওঠে না কর্মজীবী নারীর। আর সাপ্তাহিক কর্মবিরতির দিন ঘরের কাজের চাপ যেন দ্বিগুণ। সারা সপ্তাহের জমে যাওয়া কাজ আর পরবর্তী সপ্তাহের কাজের প্রস্তুতিতে একজন নারীকে ছুটির দিন বরং আরো বেশি কাজ করতে হয়। নারীর আবার ছুটির দিন কিসের? অফিসে তো ছুটি আছে ঠিকই; কিন্তু বাসার কাজে ছুটি কোথায়? দিনভর কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে ওঠা ছাড়া সাপ্তাহিক কর্মবিরতির দিন আর কিছুই করা হয় না। যেখানে একজন পুরুষের ছুটিরে দিন মানেই হাত-পা ছড়িয়ে নিজের মতো করে কাটানোর দিন, সেখানে একজন নারীর ছুটির দিন কাটে আরো দৌড়িয়ে। একটু নিজেকে সময় দেওয়া, শখের-পছন্দের কাজে সময় ব্যয় করা—কিছুই করা হয়ে ওঠে না। আক্ষেপ ঝেড়ে আপনি যদি একটু গুছিয়ে কাজ করেন তাহলে, ছুটির দিন কিন্তু আপনার কাছে ছুটির দিনই থাকবে। শুধু আরো বেশি কাজের দিন হয়ে ধরা দেবে না। সপ্তাহের কাজের চাপের ক্লান্তি ভুলে যাওয়ার জন্য ছুটির দিনটি আনন্দে কাটানো জরুরি। সেই সঙ্গে সেরে নেওয়া উচিত জরুরি কাজগুলো। তাই এই ছুটির দিনটি আরো বেশি উপভোগ্য করে তুলতে জেনে নিন কিছু নির্দেশনা।

 

সারা সপ্তাহ পরিকল্পনা

যদি আমরা একটি দিন আসলেই ঘরের কাজ থেকে নিজেকে ছুটি দিতে চাই, তাহলে সেটির প্রস্তুতি আমাদের  সপ্তাহজুড়েই নিতে হবে। একটু একটু করে প্রতিদিন ঘরের কাজ গুছিয়ে রাখতে হবে, যেন ছুটির দিন আমাদের ঘাড়ে কাজের চাপ কমে যায়। এর জন্য দরকার সঠিক পরিকল্পনা। তাই ছুটির দিন কী করবেন আর করবেন না, তার একটা তালিকা করে রাখুন। এর মধ্যে রাখুন টুকিটাকি কিছু বাড়তি কাজ, যা করার কথা সপ্তাহের শুরুতে।

 

নিজের জন্য সময়

পরিকল্পনা করতে হবে, তাই বলে একেবারে চব্বিশ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র প্ল্যান করবেন না। তাহলে সপ্তাহের বাকি সব দিনের সঙ্গে ছুটির দিনের কোনো পার্থক্য থাকবে না। কাজের মাঝেও ছুটির দিনটা উপভোগ করা যায়—এমন কিছু করার সময় রাখুন।

 

কর্মব্যস্ত দিন

ব্যায়াম করতে ভুলে যাবেন না। সারা সপ্তাহ যদি সময় না পান, তবে সপ্তাহের ছুটির দিনে আপনার ধুলো পড়া সাইকেলটা নিয়ে বের হোন, অথবা সাঁতার কাটতে যান। ঘরে বসেই হালকা কিছু ব্যায়াম সেরে নিতে পারেন। সারা দিন শুয়ে-বসে কাটাবেন না।

 

অন্য রকম কিছু করুন

পুরুষরা, যাঁরা ছুটির দিন বলতেই আরাম-আয়েশের দিন ভাবেন, তারা এবার গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে পারেন। তাহলে গৃহকর্ত্রীর ঘরের কাজ এত পাহাড়সম বোঝা হয়ে উঠবে না। সারা সপ্তাহ যা করার সময় পান না, তা করতে পারেন ছুটির দিনে। এক-দু ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা যাবে এমন কিছু করুন। যেমন নতুন একটা রেসিপি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন, বাগানে কাজ করতে পারেন।

 

বিশ্রামের সময়টা ঠিক করুন

নিজের মন ও শরীরকে বিশ্রাম দিতে হয় ছুটির দিনে। কিন্তু তাই বলে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুমানো মোটেও ঠিক নয়। সপ্তাহের অন্যান্য দিন কাজে যাওয়ার জন্য যদি ৬টার সময় ঘুম থেকে উঠে থাকেন, তবে ছুটির দিনেও প্রায় একই সময়ে ঘুম থেকে উঠতে চেষ্টা করুন।

 

সময় নষ্ট নয়

আপনার বন্ধুদের সঙ্গে লাঞ্চ করতে গিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে? সঙ্গে একটা গল্পের বই রাখুন। বাসা থেকে বের হয়ে অনেক দূরের কোথাও যেতে হচ্ছে? বাসে ছোট্ট একটা ঘুম দিয়ে নিন। এভাবে অন্যদের সঙ্গে কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা এমনভাবে ঠিক করুন, যাতে কোনো সময় নষ্ট না হয় এবং বিরক্তি না আসে।

 

সবাই মিলে ঘরের কাজ

সারা সপ্তাহ ঘরের কিছু কাজ জমে যায়। এগুলো সপ্তাহের মাঝে করতে গেলে অনেক সময় নষ্ট হয়। তাই এই জমে থাকা কাজগুলো দ্রুত শেষ করুন এবং অতিরিক্ত কিছু কাজ শেষ করে রাখুন। যেমন সারা সপ্তাহ ব্যবহারের পোশাকগুলো আগেই ইস্ত্রি করে রাখতে পারেন, জুতা এবং অলংকার আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে পারেন।

 

কাজ গুছিয়ে রাখার বাড়তি কিছু পরামর্শ...

    ছুটির আগের দিন একটু দেরিও হয়, তবুও অফিসের কাজগুলো সেরেই বের হোন। কোনো কাজ অর্ধেক করে ছেড়ে দেবেন না। কিংবা পরের অফিস দিনের জন্য রেখে যাবেন না। কাজ সেরে গেলে একেবারেই ফুরফুরে মেজাজে থাকতে পারবেন ছুটির দিনে।

    যদি কেনাকাটা বা বাজার-সদাই করার থাকে, সেগুলো আগের দিনই বাসায় যাওয়ার পথে সেরে ফেলুন। হ্যাঁ, একটু কষ্ট হবে। কিন্তু ছুটির সকালে আর তাড়াহুড়া করে বাজারে দৌড়াতে হবে না। সকালবেলাটা হবে খুব আরামের।

    ছুটির আগের দিন সেরে রাখুন কিছু রান্না বা করে রাখুন রান্নার প্রস্তুতি। যেমন মাংসটা কষিয়ে রাখলেন, কিছু পরোটা গড়ে ফ্রিজে রাখলেন, সবজি আধাভাজা করে রাখলেন। দেখবেন, ছুটির দিনের অনেকটা সময় আরাম করার জন্য পাবেন।

    ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন করার পরিকল্পনা থাকলে সেটি আগের দিন সেরে ফেলতে পারেন। বিছানার চাদরগুলো বদলে রাখুন, ঝাড়পোঁছ সেরে রাখতে পারেন। ছুটির দিন চাপই থাকবে না।

    অফিসের কাজ বাড়ি নিয়ে যাবেন, ছুটির দিনে করবেন—এমন ভাবনা এখনোই ত্যাগ করুন। যত কাজই থাকুক, বাড়িতে কাজ নিয়ে যাবেন না ছুটির দিনে।

 

নিজেকে ছুটি দিন

সব তো শেষ হলো। এরপর নিজেই নিজেকে ছুটি দিন সব কাজের চিন্তা থেকে এবং একান্তই নিজের আনন্দের জন্য কিছু করুন। সেটি হতে পারে আপনার প্রিয় গান শোনা, বই পড়া, টিভি দেখা কিংবা শপিং!

 

 

 



মন্তব্য