kalerkantho


বেগুনটিলার কর্দমাক্ত রাস্তা : দুর্ভোগে পথচারী

রওনক আহমেদ   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বেগুনটিলার কর্দমাক্ত রাস্তা : দুর্ভোগে পথচারী

ইসিবি ক্যান্টিন থেকে কালশী মোড়ের দিকে যেতে রাস্তার বাঁ দিকে নেমে গেছে বালুঘাট-মাস্টারটেক সড়ক। সড়কটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। ২ নম্বর ওয়ার্ডের এ অংশে বেগুনটিলা এলাকাবাসীা বাস। একটু বৃষ্টি হলেই বেগুনটিলার রাস্তাটিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সম্পূর্ণ রাস্তায় কাদা জমে থাকে। রাস্তাটি বছরের পর বছর ধরে সংস্কারকাজ হয় না। ফলে রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের এ দুরবস্থার কারণে এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী, শিশু-বৃদ্ধসহ হাজার হাজার পথচারী পড়ছে সীমাহীন দুর্ভোগে। প্রতিদিনই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে ট্রাক ড্রাইভার লিয়াকত কালের কণ্ঠ’র ৩৬০ ডিগ্রিকে বলেন, ‘বেগুনটিলার এ রাস্তার দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থা। ভোট শেষ, এখন আর জনপ্রতিনিধিদের এ রাস্তা চোখে পড়ে না। সরকার থেকে কিছুই করছে না। পুরো রাস্তা খালে পরিণত হয়েছে। কোথাও ইট পর্যন্ত নেই। জায়গায় জায়গায় বড় বড় গর্ত। তাতে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই। প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে অবর্ণনীয় এই ভোগান্তি পোহাচ্ছি। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিরপুর ১২ নম্বর বালুঘাট-মাস্টারটেক সড়কের বেগুনটিলা নতুন সড়কটির করুণ দশা। বছরের পর বছর ধরে সড়কটির সংস্কারকাজ না হওয়ায় সড়কের বেশির ভাগ স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বেগুনটিলার এ রাস্তায় ইট-খোয়া উঠে গেছে বহু আগে। রাস্তাটি অবহেলিত কাঁচা রাস্তায় রূপ নিয়েছে। বর্ষার পানিতে সৃষ্টি হয় হাঁটু সমান কাদা। রাস্তায় জমে থাকা কাদা-পানিতে আশপাশের বসতবাড়ি ও দোকানের নানা ধরনের আবর্জনা যোগ হয়ে এক অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে চলাচলের সুবিধার জন্য এলাকাবাসীর অনেকে রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন স্থানে ইট-খোয়া দিয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। কাদা-পানি ভেঙে হেঁটে চলাচল করছে এলাকাবাসী। দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে এ রাস্তায় রিকশা, সিএনজি চলাচল করে না। কিন্তু মালবাহী ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়। ট্রাকের চাকার ঘর্ষণে কাদা-পানি ছিটকে পড়ছে পথচারীদের গায়ে। মিরপুর ১২, কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্প, বেগুনটিলা বস্তি, বালুঘাট, মাস্টারটেক এলাকাবাসীর কাছে রাস্তাটি চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের নাম। মিরপুর ১২ নম্বরের কালশী রোড থেকে কালাপানি লেকের ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এ সড়কের ৯৫ শতাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী। বেহাল এই সড়ক যারা নিয়মিত ব্যবহার করে, তাদের দুর্ভোগ আর ভোগান্তিতে নাকাল হতে হয় প্রতিদিন। অন্যদিকে দিনের অবর্ণনীয় নরকযন্ত্রণা কয়েক গুণ বেড়ে যায় রাত নামলে। কারণ সড়কের বেশির ভাগ স্থানেই কোনো বাতি নেই। সড়কবাতি না থাকায় রাতের অন্ধকারে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ।

স্থানীয় কমল আনোয়ার নামের একজন বলেন, ‘সাত বছর ধরে এই এলাকায় বাস করি। অল্প একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে, জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা চোখে দেখেও না দেখার ভান করছে।’ বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষার্থী নাফিজ বলেন, ‘নোংরা কাদা-পানিতে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। এই পথে সারা বছর ধরেই এই নরকযন্ত্রণা পোহাতে হয়। বৃষ্টির সময় ময়লা কাদা-পানি ও বড় বড় গর্ত মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। অন্য সময় তো বড় বড় গর্ত ও ধুলাবালির যন্ত্রণা থাকেই। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা মেরামতের কোনো কাজ হয় না। রাজধানীর বুকে এমন বেহাল রাস্তা ভাবা যায়! গ্রামের রাস্তাও এত খারাপ হয় না। কর্তৃপক্ষের উচিত রাস্তাটি নুতুনভাবে তৈরি করা।’

বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম বালুঘাট থেকে মিরপুর ১২ নম্বরে আসা-যাওয়া করেন। তিনি বলেন, ‘এই কাদা-পানির মধ্য দিয়েই প্রতিদিন অফিসে যাওয়া-আসা করি। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে সারা বছরই সমস্যা হয়। অল্প কিছুক্ষণ বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। ফলে পুরো রাস্তা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। অন্য সময় খানাখন্দ, ধুলাবালি ও গর্তের কারণে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেকে মারাত্মকভাবে আহত হয়।’

রিকশাচালক শাহীন আলী বলেন, ‘এই রাস্তায় রিকশা নামানো আর নিজের হাতে বিপদ ডেকে আনা সমান কথা। কারণ রাস্তায় জমে থাকা কাদা-পানির নিচে বড় বড় গর্ত আছে। এই গর্তে পড়ে অনেকেই আহত হচ্ছে। আমি নিজেও কয়েকবার পড়েছি। যাত্রীসহ রিকশা অনেক সময় উল্টে যায়। অনেক বছর ধরে এ অবস্থা। কেউ মেরামত করে না।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের  বালুঘাট-মাস্টারটেক সড়কের বেগুনটিলার রাস্তাটি সংস্কার স্থানীয়দের প্রাণের দাবি। মিরপুর-১২, কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্প, বেগুনটিলা বস্তি, বালুঘাট, মাস্টারটেক, কালশী, ক্যান্টনমেন্টসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। এ সমস্যা সমাধান করা হলে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদে, নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সাজ্জাদ হোসেন সমস্যার কথা শিকার করে বলেন, ‘এ রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে আমি অবগত। অনেক দিন ধরেই রাস্তার এই হাল। আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু হবে। আশা রাখি দ্রুত কাজ শেষ করা যাবে। তখন পথচারীরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।’

 



মন্তব্য