kalerkantho


একটি স্থায়ী কাঁচাবাজারের জন্য উত্তরাবাসীর হাহাকার

ঢাকা ৩৬০ ডিগ্রি প্রতিবেদক   

২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



একটি স্থায়ী কাঁচাবাজারের জন্য উত্তরাবাসীর হাহাকার

উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের বিডিআর বাজারটি বর্তমানে সমবায় বাজার হিসেবে পরিচালিত। সেখানে একটি স্থায়ী বাজার গড়ে তোলার দাবি উত্তরাবাসীর

দেশের প্রথম উপশহর উত্তরা মডেল টাউন। নগরীর শিক্ষিত-অভিজাত মানুষ বসবাস করার জন্য আবাসিক এলাকাটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয় ১৯৬২ সালের দিকে। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের সময়ে প্রখ্যাত নগরবিদ জি এ মাদানির পরিকল্পনায় উত্তরা মডেল টাউনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়িত হতে অনেক সময় পার হয়ে যায়। আশির দশকের পর থেকে সেখানে বসতি শুরু হলেও বর্তমানে ১৪টি সেক্টরে প্রায় ১০ লাখ লোক বসবাস করছে। দিনের পর দিন বসতির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তাদের চাহিদার কথা চিন্তা করে সেখানে গড়ে উঠেছে আধুনিক অসংখ্য বিপণি বিতান, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, বিদেশি ব্র্যান্ডের ফাস্ট ফুড ও খাবার দোকান, শপিং মলসহ জীবনযাপনের সব রকম অনুষঙ্গ। কিন্তু মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় দ্রব্য মাছ-মাংস, তরিতরকারি কিংবা মনিহারি পণ্য বেচাকেনার কোনো নির্দিষ্ট কাঁচাবাজার নেই উত্তরাবাসীর জন্য। কাঁচাবাজারবিহীন মডেল টাউনে বসবাসরতদের রাস্তার পাশে কিংবা প্লটে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাজার থেকে নিত্যদিনের সদাই কেনাকাটা করতে হচ্ছে। সরকারি তদারকি না থাকায় এসব অস্বাস্থ্যকর কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম যেমন অতিরিক্ত, তেমনি স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যসামগ্রী সেখানে পাওয়া যায় না।

উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা আবু তালেব খান বলেন, ‘উত্তরাকে আধুনিক সাজে সাজানো হলেও এখানে সিটি করপোরেশন কিংবা রাজউক থেকে কোনো কাঁচাবাজার নির্মাণ করেনি। যার কারণে আমাদের নিত্যদিনের কাঁচাবাজারের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। কাউকে কাউকে দূরবর্তী টঙ্গী বাজার থেকে সদাইপাতি কিনতে হচ্ছে। ৬ নম্বর সেক্টরে একটি বহুতল কাঁচাবাজার নির্মাণ করা হলেও সেটা তুলে দিয়ে সেখানে উত্তরার রাজউক অফিস করা হয়েছে, যার কারণে এলাকাবাসীকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচার জন্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’

বর্তমানে উত্তরাবাসীর একমাত্র ভরসা ৬ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ২০, ২১ ও ২১-এ নম্বর প্লটে গড়ে ওঠা অস্থায়ী কাঁচাবাজারটি, যা স্থানীয়ভাবে বিডিআর বাজার নামে খ্যাত। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিডিআর তাদের ডাল-ভাত কর্মসূচির পাশাপাশি সেখানে কাঁচাবাজার গড়ে তুলেছিল, যা ন্যায্য মূল্যের বাজার হিসেবে এলাকায় বেশ সুনাম অর্জন করে। তাজা শাকসবজি, তরিতরকারি ও মাছ-মাংস কেনার জন্য প্রতিদিন সে বাজারে হাজার হাজার মানুষের ভিড় দেখা যায়। বিডিআর বাজারটি বর্তমানে সমবায় বাজারে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বাজার কর্তৃপক্ষ সেখানে একটি স্থায়ী কাঁচাবাজার গড়ে তোলার জন্য যুদ্ধ করে গেলেও নানা প্রতিকূলতায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না।

উত্তরার বাসিন্দা লোকমান সাইফি জানান, ‘সভ্য নাগরিক জীবনের জন্য কাঁচাবাজারের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু উত্তরা একটি মডেল টাউন হলেও সেখানে কোনো স্থায়ী কাঁচাবাজার নেই। এ জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের হাহাকার অনেক দিন ধরে। এ অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করছে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রেতা-বিক্রেতা সমবায় সমিতির গড়ে তোলা কাঁচাবাজারটি।’

উত্তরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রেতা-বিক্রেতা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোহাম্মদ ইমাম হোসেন কামরুল বলেন, ‘উত্তরা মডেল টাউনের লাখ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী কাঁচাবাজার সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু সে সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। এর মধ্যে তাঁদের চাহিদা পূরণের একমাত্র ভরসা হলো এ সমবায় বাজারটি। এখানে আমরা স্থায়ী একটি পাকা কাঁচাবাজার নির্মাণের চেষ্টা করছি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং ব্যক্তির কাছে বাজারের জমিটুকু বরাদ্দের আবেদন করেছি, যা প্রক্রিয়াধীন আছে। বরাদ্দ চিঠি পেলেই আমরা কাঁচাবাজার নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করতে পারব।’

সমবায় বাজারের দোকানি ইদ্রিস আলী বলেন, ‘বর্তমানে ওই কাঁচাবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করলেও তাদের স্থায়ী কোনো দোকানপাট না থাকায় অনিশ্চয়তায় মধ্যে জীবন কাটাতে হচ্ছে। সরকার ঘোষিত ফরমালিনমুক্ত বাজার হিসেবে এর সুনাম সারা দেশে রয়েছে। অথচ বাজারটিকে স্থায়ী বাজার হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে না।’

রাজউক সূত্রে জানা যায়, যে তিনটি প্লটের ওপর সমবায় কাঁচাবাজারটি চলছে তার জমিটুকু একাধিক রাঘব বোয়ালের চোখে পড়েছে। কেউ কেউ সেটা কেনার জন্য রাজউকে দেনদরবার করছে। এ জন্য তারা রাজনৈতিক হোমরাচোমরাদের পর্যন্ত ব্যবহার করছে। এটি বাজারের সাধারণ দোকানদারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁরা যেকোনো মূল্যে কাঁচাবাজারটি রক্ষা করার দৃঢ মনোভাব ব্যক্ত করে বলেছেন, উত্তরার একমাত্র সমবায় কাঁচাবাজারটি এলাকাবাসীর স্বার্থে টিকিয়ে রাখা উচিত। কারণ কাঁচাবাজার গড়ে তোলার মতো জায়গাজমি উত্তরায় আর কোথাও নেই। এটা হাতছাড়া হয়ে গেলে বাজারের জন্য আর জমি পাওয়া যাবে না।



মন্তব্য