kalerkantho


বেপরোয়া পরিবহনে বিপন্ন নাগরিক জীবন

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



বেপরোয়া পরিবহনে বিপন্ন নাগরিক জীবন

অঙ্কন : মাসুম

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সারা দেশের শহরাঞ্চলে মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৭৪ শতাংশই ঘটে রাজধানীতে। যেসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে সেসব বন্ধে নেই যথাযথ কোনো পদক্ষেপ। ফলে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। কেন এই সড়ক দুর্ঘটনা, দায়ী কে কিংবা সমাধান কিসে—এসব প্রশ্নের উত্তর-প্রত্যুত্তর নিয়ে সবিস্তারে লিখেছেন কবীর আলমগীর

রাসেল সরকার। মফস্বল শহর থেকে আসা ওই যুবক ঢাকায় একটি কম্পানির প্রাইভেট কার চালাতেন। সেই উপার্জন দিয়েই চলত সংসারের খরচ। ঘরে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। গ্রামে বৃদ্ধ মা-বাবাকেও মাঝেমধ্যে টাকা পাঠাতে হয় তাঁর। কিন্তু গত ২৮ এপ্রিল ঢাকার ধোলাইপাড়ে গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাসচালক কবির মিয়ার ‘খামখেয়ালিতে’ বিপন্ন হয়েছে রাসেল সরকারের জীবন। প্রাইভেট কারে ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির জেরে ওই চালক বাস তুলে দেন রাসেল সরকারের পায়ের ওপর। এতে বাম পা চিরজীবনের জন্য হারিয়েছেন রাসেল সরকার। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রাসেল সরকারের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার চোখের সামনে ছেলেটা পঙ্গু হয়ে বেঁচে থাকবে। ও এখন কী করবে? তার তো সংসার আছে, সন্তান আছে। আমরা গরিব মানুষ, ও কী করবে?’ রাসেল সরকারের বাবার এ আক্ষেপ সারা জীবনের। এই আক্ষেপের কারণ রাজধানী ঢাকায় বেপরোয়া বাসচলাচল। সম্প্রতি পরিবহন খাতের এই সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। কেউ হাত হারাচ্ছেন, পা হারাচ্ছেন, কারো যাচ্ছে প্রাণ।

অসতর্ক পথচারী, বেপরোয়া চালকবুয়েটের পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকায় যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে তার ৯০ শতাংশ হয় চালকের দোষে। এ ছাড়া বেশির ভাগ দুর্ঘটনার মূলে রয়েছে একটি বাসের সঙ্গে অপর বাসের প্রতিযোগিতা। সাধারণত বেশিসংখ্যক যাত্রী তোলার জন্য চালকরা এ প্রতিযোগিতা করেন। গত ৩ এপ্রিল ঢাকার কারওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারান তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন। হাসপাতালে ১৩ দিন পর মারা যান রাজীব। দুই বাসচালকের কারণে এ রকম দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভ্রাম্যমাণ চা দোকানি ইদ্রিস আলীর। তিনি বলেন, ‘প্রায়ই দেখি দুই বাস পাল্লা দিচ্ছে, গা ঘেঁষে চলছে। গাড়ি চালানোর সময় চালকরা সচেতন হলেই আর কারো প্রাণ এভাবে ঝরে পড়বে না। চালকদের কারণেই এ রকম দুর্ঘটনা ঘটে।’ এ বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পরিচালক মোস্তফা সোহেল বলেন, ‘কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পেছনে কখনো কখনো চালকের গাফিলতি থাকে। এই গাফিলতির বিষয়টি আবার সব সময় সত্য না-ও হতে পারে। এ রকম দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য চালকসহ সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।’ দেশের অন্য সব মহানগরে যত পথচারী দুর্ঘটনায় মারা যায়, ঢাকায় মারা যায় তার দ্বিগুণ। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের মতে, রাজধানীতে দুর্ঘটনার জন্য চালক ও পথচারীদের অসতর্কতা এবং যানবাহনের বেপরোয়া গতিই প্রধানত দায়ী।

 

আইনের বাস্তবায়ন কম

বেশির ভাগ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো মামলা হয় না। কখনো মামলা হলে তা নিষ্পত্তি হতেও দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে প্রকৃত দোষীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) তথ্য বলছে, দেশে ৫৩ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং ৩৭ শতাংশ চালকের বেপরোয়া মনোভাব। অর্থাৎ সড়কে দুর্ঘটনার জন্য ৯০ শতাংশই দায়ী চালক নিজে। অথচ চালকদের শাস্তির দৃষ্টান্ত কম।

সাম্প্রতিক আলোচিত সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে শুধু পুলিশ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রে হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। বাকি মামলাগুলো দণ্ডবিধির যেসব ধারায় হয়েছে, তাতে ঘটনার মর্মান্তিকতা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি, সাজা অপেক্ষাকৃত কম ও মামলা জামিনযোগ্য। রাসেল হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করলেও মামলা হয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৭৯, ৩৩৮ (ক) ধারায়। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে কারো জীবন বিপন্ন বা আহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ২৭৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা তিন বছর কারাদণ্ড কিংবা এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের সুযোগ আছে। ৩৩৮ (ক) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর কারাদণ্ড। দুটি ধারাই জামিনযোগ্য। গত ৪ এপ্রিল বাসের চাপায় হাত হারানো রাজীব বাদি হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেছিলেন। তাঁর মামলাটিও ২৭৯ ও ৩৩৮ (ক) ধারায় দায়ের হয়েছিল। তবে রাজীব চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর নতুন করে ৩০৪ (খ) ধারা যুক্ত করা হয়েছে। খুন নয়, অপরাধজনক প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয় এই ধারায়। অপরাধ প্রমাণিত হলে ১৪ বছর পর্যন্ত সাজা, সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড কিংবা জরিমানা বা সব ধরনের দণ্ডের বিধান রয়েছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, ‘যেকোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে হত্যাচেষ্টা মামলা দেওয়া যায় না। কেউ মারা গেলে নতুন ধারা সংযোজন করা হয়।’ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিদ্যমান আইনগুলোয় সাজা কম, জরিমানাও কম। এ জন্য আইনের পরিবর্তন হওয়া দরকার। সাজা বাড়ানো দরকার। তবে আইনে শুধু সাজা বাড়ালেই হবে না, আইন প্রয়োগের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।’

 

কেউ হাত-পা হারাচ্ছেন, কেউ হারাচ্ছেন প্রাণ

গত ৪ মে ঢাকার মালিবাগে বাস থেকে নামছিলেন পোশাককর্মী নিলুফার বেগম। এ সময় বাসটির গতি পুরোপুরি না থামানোর কারণে বাসের চাকায় চাপা পড়ে নিলুফারের পা। এতে তাঁর ডান পায়ের পাতা থেঁতলে যায়। গত ৫ এপ্রিল প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে স্কুলে দিতে যাওয়ার পথে নিউ মার্কেটের কাছে বিকাশ পরিবহনের দুটি বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে যান আয়েশা খাতুনদের বহনকারী রিকশাটি। বাস রিকশাসহ তাঁদের টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় অনেক দূর। শরীরের নিচের অংশ অসাড় হয়ে যাওয়া দুই সন্তানের মা আয়েশা এখনো সিআরপিতে চিকিত্সা নিচ্ছেন। ১১ এপ্রিল রাজধানীর ফার্মগেটে নিউ ভিশন পরিবহনের ধাক্কায় আহত হন তরুণী রুনি আক্তার। এরপর তাঁকে ভর্তি করা হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। গত ১৬ এপ্রিল পলাশীর মোড়ে দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের বহনকারী একটি বাসের চালকের বচসা হয়। অভিযোগ ওঠে, বাসটির চালক উল্টো পথে যাওয়ার আবদার করেছিলেন। ট্রাফিক পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন আবদার না রাখায় বাসটি তাঁর পায়ের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেন বাসচালক নজরুল ইসলাম। ২০ এপ্রিল ঢাকার বনানীতে বিআরটিসির বাস চাপায় পা হারান রোজিনা আক্তার নামে এক তরুণী। তিনিও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন থাকার কয়েক দিন পর মারা যান। এ রকম দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রাজধানীতে প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। পুলিশের হিসাবে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে পাঁচ হাজার ৬৫৪ জন।

 

নৈরাজ্যের নাম পরিবহন খাত

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির তথ্যমতে রাজধানী ঢাকায় বাস কম্পানি আছে ২৪৬টি। আর বাস চলে আট হাজারের বেশি। পুরো পরিবহন সেক্টরের নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক কোনো নেতা। ফলে ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে খুব বেশি ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। ঢাকা ও এর আশপাশে বাস-মিনিবাস চলে দুই পদ্ধতিতে। মালিক সরাসরি চালক-শ্রমিককে দৈনিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণে বেতন দেন। আরেকটি পদ্ধতি হলো, মালিক নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে চালক-শ্রমিকের কাছে বাস ভাড়া দিয়ে দেন। চালক-শ্রমিক বেতনের ভিত্তিতে কাজ করলে বাসে সারা দিন কতজন যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে, তা পথের নির্দিষ্ট স্থানে থাকা কম্পানির কর্মীরা লিখে দেন। এটা দেখেই দিন শেষে আয় হিসাব করা হয়। আর চালক-শ্রমিকের কাছে বাস-মিনিবাস দৈনিক চুক্তিতে দিলে দিনে বাসটি কতবার চলবে (ট্রিপ), সেটাও নির্দিষ্ট করা থাকে। বাড়তি চালালে মালিককে বাড়তি টাকা দিতে হয়। সব খরচ মিটিয়ে নিজেদের আয় বাসায় নিতে হয় চালক-শ্রমিককে। এ জন্যই চালক যাত্রী ওঠানো-নামানো ও অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামেন। নগরীর অন্তত ১৩টি পয়েন্টেই এ প্রতিযোগিতা বেশি থাকে। এসব পয়েন্টে যাত্রীর চাপ বেশি থাকে। পয়েন্টগুলো হচ্ছে—গাবতলী, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, গুলিস্তান, মতিঝিল শাপলা চত্বর, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরার আজমপুর, বিমানবন্দর গোল চত্বর, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ী। অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুধু নয়, বেশির ভাগ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এক হিসাবে দেখা যায়, দেশে বৈধ যানবাহনের সংখ্যা ১৩ লাখের ওপর। এর বিপরীতে বৈধ চালকের সংখ্যা মাত্র আট লাখ। এতে বোঝা যায়, লাইসেন্সবিহীন, অবৈধ, অদক্ষ কত চালক যানবাহন চালোনার সঙ্গে যুক্ত আছেন। ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল আমিন নুরু বলেন, ‘আমাদের চালকরা লেখাপড়া জানে না। তাই লাইসেন্স নিতে গেলে পায় না। তবে তারা যাতে শৃঙ্খলা মেনে গাড়ি চালায় সেটির বিষয়ে বরাবরই আমরা তাগিদ দিয়ে থাকি।’

 

সচেতনতাই হতে পারে সমাধান

একের পর এক দুর্ঘটনা, সংকটে জীবন, তবু থামছে না বেপরোয়া বাসের গতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর একমাত্র সমাধান হতে পারে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি। এ ছাড়া চালকদের বিশ্রাম-বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগও দিতে হবে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চালকরা সারা দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে গাড়ি চালান। এ সময় যাত্রীদের সঙ্গে তাঁদের একাধিকবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়। এ সব ঘটনার প্রভাব কিন্তু গাড়ি চালানোর সময় পড়ে।’ তিনি আরো বলেন, ‘চালকদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করানো যেতে পারে। গোটা পরিবহন ব্যবস্থাকে একটা গোছালো নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। চালকরা প্রশান্তি-বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ যেন পান সেটা চিন্তা করতে হবে। সর্বোপরি ঠাণ্ডা মাথায় যেন গাড়ি চালাতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি। মামলা হচ্ছে, জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। শুধু জেল-জরিমানা করেও কাজ হয় না। সামগ্রিকভাবে সবার মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার।’ সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ‘অর্থ উপার্জনের দৃঢ় মনোভাব কাজ করে বাসমালিক ও চালকদের মধ্যে। এর কারণে যাত্রী তোলার জন্য একটি বাসের সঙ্গে আরেকটি বাসের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া পরিবহন খাতে নানা অব্যবস্থাপনা তো রয়েছেই, সেগুলোও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এগুলো থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি শক্তিশালী শৃঙ্খলা দরকার। আর পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রণে যে সংস্থা রয়েছে সেটিকেও আরো বেশি ক্ষমতাশালী করতে হবে।’

 

আমাদের সচেতনতার বড় অভাব রয়েছে

সাঈদ খোকন

মেয়র, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

সম্প্রতি ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি উদ্বেগজনক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনার জন্য মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে চেষ্টা থাকবে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের। সড়ক দুর্ঘটনার আরেক কারণ নাগরিক অসচেতনতা। আমাদের সচেতনতার বড় অভাব রয়েছে। রাস্তায় চলাচলের সময় প্রায়ই দেখা যায় পথচারী মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছে। আবার অনেকে কানে হেডফোন, ব্লুটুথ ব্যবহার করেও রাস্তা পার হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। আমার বিশ্বাস, প্রত্যেক নাগরিক যদি তার জায়গা থেকে সচেতন হয়, ট্রাফিক আইন মেনে চলে, তাহলে সড়কে প্রাণহানি অনেক কমে যাবে। এ জন্য নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি জেব্রা ক্রসিং, সিগন্যাল বাতি দেখে রাস্তা পার হতে হবে। এ ছাড়া ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ব্যবহারে আগ্রহী হওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই।

 

শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে টিম রয়েছে

মশিয়ার রহমান

চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)

সড়কে দুর্ঘটনা ঠেকাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা চালকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছি। বিআরটিএ চালকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তাদের লাইসেন্সপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, ক্যাম্পিং, লিফলেট বিতরণের মধ্যে কর্মসূচি আমরা নিয়ে থাকি। প্রত্যেকটি জীবনই মূল্যবান। আমরা কখনো চাই না অকালে একটি জীবন ঝরে যাক, কেউ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পঙ্গু হয়ে যাক। সেই বোধের জায়গা থেকে বিআরটিএ রুটিন শিডিউল অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে থাকে। দোষীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি জেল-জরিমানা করা হয়। সড়কে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁরা কাজ করছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের অব্যাহত থাকবে।

 

 

 



মন্তব্য