kalerkantho


ঢাকার অতিথি

বিমানবন্দরের ভেতরে এক রকম, বাইরে অন্য রকম

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বিমানবন্দরের ভেতরে এক রকম, বাইরে অন্য রকম

ঢাকার বাতাস দূষিত, অস্বাস্থ্যকর। ঢাকা যে একটি অপরিকল্পিত নগর, তা সহজেই টের পাওয়া যায়। নগরের পরিসর অপেক্ষা জনসংখ্যা অনেক বেশি। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনই পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা আরো বাড়বে বলে মনে করি

 

মালয়েশিয়ার নাগরিক লিম খি বুন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ভ্রমণে এসেছিলেন। বিমানবন্দরের সেবা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে শুনিয়েছেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর মুগ্ধতার গল্প লিখেছেন শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

বিমানবন্দরের ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহযোগিতা করতে চান না, আর বন্দরের বাইরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অতিথিদের সহযোগিতার জন্য মুখিয়ে থাকেন। বাংলাদেশ নিয়ে এমন অভিজ্ঞতার কথাই জানালেন ৪২ বছর বয়সী লিম খি বুন। তিনি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। এ দেশে এসে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও ঘুরেছেন সোনারগাঁয়ের পানাম নগরী। পুরো ভ্রমণটাই তাঁর কাছে অসাধারণ মনে হয়েছে, একমাত্র বিমানবন্দর ছাড়া। লিম খি বললেন, ‘আমি মালয়েশিয়ার পাসপোর্টধারী। সে হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসার আবেদন করতে পারি। তাই আগে ভিসার ব্যবস্থা না করে সোজা উড়ে এলাম শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। মধ্যরাতে এসে বিমানবন্দরে নামি। ব্যাপারটা একটু খোলাখুলিই বলি। আমার কাছে মনে হয়েছে, শাহজালাল বিমানবন্দরের কিছু ইমপ্রুভমেন্ট দরকার। বন্দরের ভেতরে প্রচুর মশা পেয়েছি। ইমিগ্রেশনের অভিজ্ঞতা মোটেও সুবিধাজনক ছিল না। বন্দরে নেমে আমি অন অ্যারাইভাল ভিসার জন্য আবেদন করে এক রকম অসুবিধায় পড়ে যাই। পুরো প্রক্রিয়াটা দেখলাম জগাখিচুড়ি। আমাকে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে। অযৌক্তিকভাবে অনেক সময় আটকে রাখা হয়েছে।’

বন্দরের বাইরের অভিজ্ঞতা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুরোপুরিই উল্টো। বিমানবন্দরের ভেতরে এক রকম, বাইরে অন্য রকম। বন্দরে বসে যতটা বিরক্ত হয়েছি, বাইরে বেরিয়ে এর চেয়ে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। বিশেষ করে আমার বন্ধু জাফরের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর। ঢাকায় আমি যাঁদের অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে পেরেছি, জাফর তাঁদের একজন। ঢাকার মতো কোলাহলের শহরের অনেক কিছুই আমাকে মুগ্ধ করেছে। রিকশায় ঘুরে বেড়িয়েছি। ঢাকার বাইরে সোনারগাঁয়ে কাটিয়েছি একদিন। সেখানে গিয়ে নিজেকে ফিল্মের স্টারের মতো মনে হয়েছে।’ ফিল্ম স্টার কেন? ‘কারণ আমাকে ঘিরে অনেক ছবিখেকোর ভিড় জমে গিয়েছিল। লাইন ধরে লোকেরা আসছিল। কখনো একা, কখনো দল বেঁধে, কখনো পরিবার নিয়ে। কেউ আমার সঙ্গে ছবি তুলছিল, কেউ আমার ছবি নিচ্ছিল। আবার কেউ আমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে গ্রুপ ছবি তুলছিল।’

এতে আপনার সমস্যা হয়নি? ‘না, কোনো সমস্যা হয়নি। তারা সবাই ছিল বন্ধুসুলভ। পানাম নগরের একটি ঘটনা আমাকে খুব স্পর্শ করেছিল। দুটি শিশু এসে আমার সঙ্গে কথা বলল। আমাকে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলল। আমাকে দাঁড় করিয়ে রেখেই ওরা কোথায় যেন উধাও হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এলো। দেখলাম, শিশু দুটির হাতে কিছু হলুদ ফুল। এগুলো ওরা আমার জন্যই নিয়ে এসেছিল। ওদের হাত থেকে হলুদ ফুল পেয়ে আমি আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম।’

লিম খি বুন ঢাকা পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট। নদীবন্দর ঘুরে আশ্চর্য অভিজ্ঞতা পেয়েছি। বন্দরটিতে নৌযানের জটলা আর প্রচণ্ড কোলাহল। অনেক লোককেই দেখলাম আমার সঙ্গে অদ্ভুত ব্যবহার করতে। তবে টার্মিনালে কর্মরত একজন আমাকে ভেতরে ডেকে নিলেন। তাঁর সহযোগিতায় টার্মিনালে নোঙর করা ফেরিগুলোতে উঠেছিলাম।’ ঢাকায় বিরক্তির আর কী অভিজ্ঞতা আছে? ‘সত্যি বলতে কী, বিমানবন্দরের সময়টুকু ছাড়া ঢাকায় আমার আর কোনো বিরক্তিকর সময় কাটেনি। তবে হ্যাঁ, ঢাকার বাতাস দূষিত, অস্বাস্থ্যকর। ঢাকা যে একটি অপরিকল্পিত নগর, তা সহজেই টের পাওয়া যায়। নগরের পরিসর অপেক্ষা জনসংখ্যা অনেক বেশি। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনই পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা আরো বাড়বে বলে মনে করি।’



মন্তব্য