kalerkantho


নগরজীবন

চোখের সামনে অক্ষর ভাসে পড়তে পারি না

মো. আয়েম উদ্দীন, রিকশাচালক, কামরাঙ্গীর চর, ঢাকা   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



চোখের সামনে অক্ষর ভাসে পড়তে পারি না

ঢাকায় আপনি কত দিন ধরে আছেন?

১২-১৩ বছর তো হইবই। আগে আছিলাম মতিঝিল, হেরপর মোহাম্মদপুর, আর এখন কামরাঙ্গীর চর আইছি। ঢাকায় আসার প্রথম দিন থাইকাই রিকশা চালাই। এখনো রিকশাই চালাচ্ছি। রিকশা চালান ছাড়া আমি তো কিছু পারি না।

মতিঝিল থেকে চলে এলেন যে?

ওই এলাকায় ভিআইপি বেশি। ব্যাংক-বীমা আছে, লোকজন রিকশা নেয় না তেমন। গাড়িতে চলে। তা ছাড়া লক্ষ কইরা দেখছেন কি না জানি না, বিকালের দিকে মতিঝিল এলাকা ফাঁকা হয়া যায়। সব সময় খেপ পাওয়া যায় না। আবার বাসাভাড়াও অনেক বেশি। তাই ওই এলাকা ছাইড়া দিছি।

এখন বাসাভাড়া কত?

এখন বাসাভাড়া দিই দুই হাজার টাকা। দুই ছেলে, এক মেয়ে আর আমার গিন্নি। বড় ছেলে গার্মেন্টে কাজ করে, ছোট ছেলে এবার ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিব। মেয়ে অনেক ছোট। এদের নিয়াই আমার সংসার। এরা গেরামে আছিল। আমি ঢাকায় থাকি, তাই ওদেরও নিয়াইছি।

ছেলেকে পড়ালেখা করাচ্ছেন, নিজে কি কখনো স্কুলে গিয়েছেন?

না, স্কুলে যাই নাই। এক দিনও স্কুলে যাই নাই। তবে এখন আফসোস লাগে। মা-বাবা কেউ স্কুলে ভর্তি করে নাই। ক্যান করে নাই কইতে পারি না। তবে স্কুলে যেতে পারলে ভালো হইত। অনেক কিছু শিখতে পারতাম। এখন তো চোখের সামনে অক্ষর ভাসে, পড়তে পারি না। চোখ থাকতেও আন্ধা!

ছেলে গার্মেন্টে চাকরি করে, ঢাকার গার্মেন্টের পরিবেশ কেমন?

গার্মেন্টে যারা চাকরি করে হেরা সবাই কয় পরিবেশ ভালা না। অনেক কষ্ট, বেতন কম। সব সময় বেতন পাওয়া যায় না। এক মাসের বেতন আরেক মাসে দেয়। ছেলে কইছে ভালো একখান চাকরি পাইলে এই চাকরি ছাইড়া দিব।

ঢাকার জীবনযাপন কেমন লাগে?

ভালোই লাগে। তবে মাঝেমধ্যে খুব খারাপ লাগে। জ্যামের মইধ্যে যখন প্যাসেঞ্জার লইয়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়ায় থাকতে হয়, তখন খারাপ লাগে। এত্ত গাড়ি, এত্ত মানুষ—জ্যাম হইব না। মানুষে ভরপুর ঢাকা। হইব না, পুরা দেশের মানুষ কামকাজের লাইগা ঢাকায় ছোটে।

গ্রামে ফেরার ইচ্ছা আছে?

খুবই ইচ্ছা করে গ্রামে ফিরা যাইতে। কোনো কিছু না, গ্রামে সবুজ গাছগাছালি আর পাখপাখালি দেখলেই মনে শান্তি লাগে। ইচ্ছা আছে কিছু টাকা জমাইয়া গ্রামে গিয়া একটা দোকান দিমু। কিন্তু কবে গ্রামে যামু কইতে পারি না। বুঝেন তো গরিবের হাজার সমস্যা। নুন আনতে পান্তা ফুরায়!

সাক্ষাৎকার গ্রহণে : কবীর আলমগীর

ছবি : জান্নাতুল ফেরদৌস শিপন



মন্তব্য