kalerkantho


দুর্ভোগ আর আতঙ্কের নাম আগারগাঁও সংযোগ সড়ক

আরিফুর রহমান   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দুর্ভোগ আর আতঙ্কের নাম আগারগাঁও সংযোগ সড়ক

ছবি : লুত্ফর রহমান

রাজধানীর আগারগাঁও সংযোগ সড়ক নগরবাসীর কাছে এখন এক দুর্ভোগ আর আতঙ্কের নাম। আগারগাঁও থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত সড়কের বেশির ভাগ অংশই খানাখন্দে ভরা। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত। ফলে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। আগারগাঁও সংযোগ সড়ক যাঁরা নিয়মিত ব্যবহার করেন, তাঁদের দুর্ভোগ আর ভোগান্তিতে নাকাল হতে হয় প্রতিদিন। অন্যদিকে দিনের আগারগাঁও সংযোগ সড়ক রাতে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। ছিনতাইয়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত সড়কটি। বেশির ভাগ স্থানে নেই সড়ক বাতি। সড়কের বড় একটি অংশ অন্ধকার থাকার সুযোগে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ। মোটরসাইকেল কিংবা সাইকেলে যাঁরা একা চলাচল করেন এ সড়কে, তাঁদের টার্গেট বানায় ছিনতাইকারীরা। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোবাইল, মানিব্যাগ নিয়ে নিরাপদে পাশের চন্দ্রিমা উদ্যানসহ খোলা এলাকায় সটকে পড়ে ছিনতাইকারীরা। গত এক মাসে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে এই সড়কে। আগারগাঁও সড়কে ছিনতাই এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

মেহেদী হাসান পড়াশোনা করেন রাজধানীর মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি)। কয়েক দিন আগে রাত ৯টার দিকে আগারগাঁও সড়ক ব্যবহার করে সাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন মহাখালীতে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। পথিমধ্যে দুজন ছিনতাইকারী ছুরি দেখিয়ে কাছে থাকা মোবাইল ফোন আর ম্যানিব্যাগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঝামেলা এড়াতে থানায় যাননি মেহেদী হাসান। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা টিংকুর ঘটনা তো দিনদুপুরে। ছিনতাইকারীরা তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি সিএনজি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দিয়ে ঢুকে আগারগাঁওয়ের দিকে কিছু দূর যেতেই এক ছিনতাইকারী ব্লেড দিয়ে সিএনজির ওপরের কাভার কেটে যাত্রীর মোবাইল ফোন নিয়ে সটকে পড়ে। সড়কটি বেশির ভাগ সময় নীরব থাকে। মানুষের চলাচল তেমন নেই। বিশেষ করে রাতের বেলায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটে। মানুষের আনাগোনা কম থাকায় ছিনতাই করার সুযোগ পায় ছিনতাইকারীরা। বিজয় সরণি মোড়ে সার্বক্ষণিক পুলিশ দেখা গেলেও এই সংযোগ সড়কে কখনো পুলিশের দেখা মেলে না। আগারগাঁও সংযোগ সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে দিনে-রাতে হাজারো যানবাহন চলাচল করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সড়কটি উদ্বোধন হওয়ায় এটি ফখরুদ্দীন রোড হিসেবেও পরিচিত।

অন্যদিকে শেরেবাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টো দিকে পুরনো বিমানবন্দর ঘেঁষে সংযোগ সড়কের অবস্থা নাজুক। এই সড়কে ঢুকলে যানবাহনের গতি কমে যায়। যাঁরা মোটরসাইকেলে চলাচল করেন, তাঁদের পর্যন্ত ধীরগতিতে চলতে হয়। সড়কজুড়ে ধুলাবালিতে ভরা। সরেজমিনে অনেক যাত্রীকে এই সড়কে মাস্ক পরতে দেখা গেছে। অনেকে নাকে হাত দিয়ে এলাকাটি পার হন। অনেকে এই সড়ককে দুর্ঘটনার ফাঁদ হিসেবেও মন্তব্য করেছেন। সিটি করপোরেশন থেকে সংযোগ সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। বর্ষা মৌসুম আসছে। এখনই সংযোগ সড়কের সংস্কার না হলে আসছে বর্ষায় সড়কটি ব্যবহারে পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে যাবে বলেও অনেকে মনে করছেন।

দিনে ও রাতে এই সড়ক ঘুরে দেখা গেল, যাঁরা এই সড়কে নতুন ঢোকেন, তাঁদের পড়তে হয় অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তিতে। যানজট এড়াতে এই সড়কটি ব্যবহার করতে এসে কেউ কেউ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। দিনে-রাতে বেশির ভাগ সময় দুর্ঘটনায় পড়া যানবাহনকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা দেয়। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। দুর্ঘটনার কারণে ওই সংযোগ সড়কে জ্যাম লেগে যায়। মহাখালী থেকে শ্যামলীগামী লেগুনার হেলপার শরীফ কালের কণ্ঠকে জানালেন, ‘সামনে গর্ত দেখে কেউ গাড়ির গতি কমালে পেছন থেকে অন্য গাড়ি এসে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর পুরো সড়কে দেখা দেয় যানজট। বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের উল্টো দিকে পুরনো বিমানবন্দর ঘেঁষা জায়গাতে বেশি সমস্যা। সেখানে বড় বড় কয়েকটি গর্ত আছে। রাতের বেলায় তো দেখাও যায় না। এতে করে দুর্ঘটনা বেশি হয়।’

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেল, এক বছর আগে একবার সড়কটি সংস্কার করেছিল উত্তর সিটি করপোরেশন। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই আবার পুরনো রূপ। সড়ক থেকে সরে গেছে বিটুমিন। পাশের বিজয় সরণি থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের কাজ চলছে। কিন্তু পাশের সংযোগ সড়কের কাজের কোনো খবর নেই। এদিকে সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। সড়ক বাতি না থাকায় ছিনতাই করা আরো সহজ হয়ে যাচ্ছে। রাতের বেলায় সংযোগ সড়ক দিয়ে ভয়ে কেউ চলাচল করেন না। কারণ এই সড়ক দিয়ে চলতে গেলে যানবাহনের গতি কমাতে হয়। আর এর সুযোগ নেয় ছিনতাইকারীরা।

 

 

 



মন্তব্য