kalerkantho


ঢাকার অতিথি

দেশের উন্নয়নে শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠীর বিকল্প নেই

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দেশের উন্নয়নে শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠীর বিকল্প নেই

ঢাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্যাম। অসংখ্য রিকশা, প্রাইভেট কার, গণপরিবহন, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং আমার কাছে যানজটের মূল কারণ বলে মনে হয়। গণপরিবহন ও প্রাইভেট কারের সংখ্যা কমিয়ে রাস্তায় যদি ভালো মানের ডাবল ডেকার বাস নামানো যায়, তাহলে অনেকটাই উপকারে আসতে পারে

সোমালিয়ান নাগরিক আবদুল কাদির আমীর। পড়াশোনা করছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। ঢাকায় বসবাসের নানা অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন আমিনুল ইসলাম নাবিল

সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া আবদুল কাদির আমীর বিবিএ করছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। স্বল্প সময়ের ঢাকার যাপিত জীবনে বাংলাদেশের অনেকেই তাঁর বন্ধু হয়ে উঠেছেন। ঢাকা ও ঢাকার মানুষগুলো তাঁর কাছে অতি আপন বলে মনে হয়। এ বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ বেশ বন্ধুবৎসল। সহজেই তাদের সঙ্গে একে অপরের বন্ধু হয়ে ওঠা যায়। বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে। বলতে পারেন বিষয়টি আমার পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। দূর দেশে এসে অচেনা পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া খুব কঠিন। তবে বাংলাদেশে এসে আমার তেমনটা মনে হয়নি।’ এত দেশ থাকতে পড়াশোনার জন্য কেন বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া—এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর বলেন, ‘সোমালিয়া ও বাংলাদেশের ধর্মীয় অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ হওয়ায়ই আমার বাংলাদেশে আসা। এখানকার ধর্মীয় সম্প্রীতির অটুট বন্ধন আমাকে মুগ্ধ করেছে। আর আতিথেয়তাপরায়ণ বাংলাদেশকে দেখে আমার মনে হয় পড়াশোনার জন্য আমি ঠিক দেশটিই নির্বাচন করেছি।’

আমীরের বাবা একজন ব্যবসায়ী। তাঁরও স্বপ্ন তিনি বাবার মতো ব্যবসায়ী হবেন। আর তাঁর ব্যবসার ক্ষেত্রটি হবে সোমালিয়া ও বাংলাদেশ। অল্প দিনেই আমীর স্বাদ নিয়েছেন ঢাকার চিকেন বিরিয়ানি আর হালিমের, যা তাঁর প্রিয় খাবারের তালিকায় প্রথমসারিতে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ দেশে নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়। তবে সেসবের মধ্যে চিকেন বিরিয়ানি আর হালিম আমার খুব ভালো লেগেছে।’ বাঙালিদের সহযোগিতায় কিছুটা বাংলা শিখেছেন, তবে তাঁর মূল ভাষা সোমালিয়ান। আমীর বলেন, ‘বন্ধুদের সহযোগিতায় আমি একটু একটু বাংলাও বলতে পারি। চেষ্টা আছে যতটা সম্ভব বাংলা ভাষাটা শিখতে চাই।’ 

সুযোগ পেলেই আমীর ছুটে আসেন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরসংলগ্ন লেকে। মেতে ওঠেন আড্ডায়। তিনি বলেন, ‘ঢাকার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের নিরিবিলি লেকটি আমার খুব ভালো লাগে। এখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থাও ভালো। এই শহর তো আমার কাছে নিজের শহর বলেই মনে হয়। বলতে পারেন, ঢাকা আমার দ্বিতীয় শহর।’ ঢাকার সমস্যা-সংকট নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঢাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্যাম। অসংখ্য রিকশা, প্রাইভেট কার, গণপরিবহন, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং আমার কাছে যানজটের মূল কারণ বলে মনে হয়। গণপরিবহন ও প্রাইভেট কারের সংখ্যা কমিয়ে রাস্তায় যদি ভালো মানের ডাবল ডেকার বাস নামানো যায় তাহলে অনেকটাই উপকারে আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব সমস্যা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে আমার মনে হয় ঢাকাকে অনেকটাই জ্যামমুক্ত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া ঢাকার আবহাওয়া বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। এই প্রচণ্ড গরম আবার এই মুষলধারে বৃষ্টি; এই শীত তো এই গরম!’ এ ছাড়া তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকার পথেঘাটে অনেক ভিক্ষুক। আমি সুযোগ পেলেই তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করতে চেষ্টা করি। রাস্তায় ঘুমিয়ে থাকা পথশিশুদের জন্য ভীষণ খারাপ লাগে। তবে সরকারি ও বেসরকারিভাবে তাদের আবাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এসব সমস্যা স্থায়ী হলে বাংলাদেশের উন্নত দেশ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত করবে।’ অধিক জনসংখ্যা দেশের জন্য ইতিবাচক, নাকি নেতিবাচক—এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর বলেন, ‘জনগণকে শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে এটা অবশ্যই ইতিবাচক হবে। যেকোনো দেশের উন্নয়নে শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠীর বিকল্প নেই।’ পরিশেষে আমীর বলেন, ‘ইচ্ছা রয়েছে শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনও এই ঢাকায়ই শুরু করতে।’

 



মন্তব্য