kalerkantho


নগর ঢাকায় নারীর জীবন

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নগর ঢাকায় নারীর জীবন

অঙ্কন : বিপ্লব

একটা সময় ছিল, যখন নারীরা পুরুষের হাতে বসন্ত রোগের টিকা দিতে চাইত না। ১৯২০ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষ বসন্ত রোগে মারা যায়। মৃতের মধ্যে নারীর সংখ্যাই ছিল বেশি। কালের পরিক্রমায় শত শত নারী আজ শাসন পরিকাঠামোর বিভিন্ন স্তরে সগৌরবে অবস্থান করছেন। কাল ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে নগর ঢাকায় নারীর যাপিত জীবনে নানা পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছেন হোসাইন মোহাম্মদ জাকি

 

উনিশ শতককে বাংলার নারী জাগরণ ও বিশ শতককে নারীর আত্মপ্রতিষ্ঠার যুগ বলা হয়। নারীর এই অগ্রযাত্রার প্রভাব পড়েছে জাতিসংঘ ঘোষিত বাংলাদেশের সব উন্নয়ন সূচকে। নারীর চলার এই পথ কখনো কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবরোধবাসিনী থেকে নারী আজকের অবস্থানে এসেছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নিয়ামকের প্রভাবে নারীর এই অবস্থানগত পরিবর্তন ঘটেছে। অর্থনৈতিক অবস্থান, শিক্ষার প্রসার, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, উপযোগী আইন এসব নিয়ামকের মধ্যে অন্যতম। একুশ শতকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভাব ঘটেছে নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি। নারীর জীবনচর্চার এই ইতিহাস চিত্রিত করতে গিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিবন্ধকতা, সফলতা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা সমীচীন হবে।

অন্দরমহল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়

একটা সময় পর্যন্ত বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সারা দিনমান নারীকে থাকতে হতো অন্দরমহলেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান ছাত্রী ফজিলাতুন্নেছার মতো সে সময়ের (১৯২৫-২৬) অনেককেই তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ সম্পন্ন করতে প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ক্লাস সময়ের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা অবস্থান করতেন পর্দাঘেরা বিশ্রাম কক্ষে। ক্লাস শুরু হলে তাঁরা সেখান থেকে বের হয়ে অধ্যাপকের পিছু পিছু ক্লাসে প্রবেশ করতেন। তাঁদের বসার ব্যবস্থা ছিল আলাদা। ১৯২৬ সালে মাত্র তিনজন ছাত্রী নিয়ে চামেলি হাউসে (বর্তমানে সিরডাপ ভবন) ছাত্রী হোস্টেলের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৪৩-৪৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১০৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৮০ জন। স্বাধীন বাংলাদেশে অন্যান্য পেশার মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায়ও নারীরা উত্তরোত্তর এগিয়ে এসেছেন। সর্বপ্রথম ২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন নারী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। নারী শিক্ষার বর্তমান স্বরূপ সম্পর্কে বলতে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার উপ-পরিচালক নায়লা ইয়াসমীন জানান, ‘যে পরিমাণ নারী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন, তার একটি বড় অংশ কর্মক্ষেত্রে তথা চাকরি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। নারীর প্রতিনিধিত্ব এখানটায় শিক্ষার সমানুপাতিক নয়; বরং তুলনামূলকভাবে বেশ কম। ধারণা করা যায়, গৃহিণী হয়ে ওঠাই তাঁদের জন্য অধিক স্বাচ্ছন্দ্যের!’ এই পরিপ্রেক্ষিতে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, গৃহগুলোতে পরিবার-পরিজনের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ কি নারীর কর্মক্ষেত্র হিসেবে পরিগণিত হতে পারে না? পারিবারিক পর্যায়ে নারীদের কর্মযজ্ঞকে কি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যায় না? তরুণ অর্থনীতিবিদ জহিরউদ্দিন আহমেদের কাছে প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানান, ‘গৃহস্থালি কর্মকাণ্ডের একটি অপরচুনিটি কস্ট রয়েছে। অর্থাৎ একই সময়ে গৃহের বাইরে গিয়ে গৃহিণী কোনো কাজে নিযুক্ত হলে কর্মঘণ্টা অনুযায়ী পারিশ্রমিক পেতেন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে করে জিডিপি বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়ে যাবে। নীতি-নির্ধারকদের এ ব্যাপারে ভাবনার অবকাশ রয়েছে। অন্যদিকে নারীর যোগ্যতা অনুযায়ী যথাযথ কর্মক্ষেত্রের সুযোগ করে দেওয়াই অধিকতর কাম্য।’

‘মহল্লাদারণী’ থেকে করপোরেট ব্যবস্থাপনায়

সেকালে নারীর সাক্ষ্য প্রদানের জন্য মধ্যস্থতা করতে হতো। পর্দানশীন নারীর সাক্ষ্য প্রদানে মধ্যস্থতা করতেন ‘মহল্লাদারণী’। তাঁদের কাজ ছিল অনেকটা এখনকার মহিলা পুলিশের মতো। ১৮৩০ সালের আদমশুমারিতে ‘মহল্লাদারণী’ পেশার উল্লেখ রয়েছে। সে সময় ‘মহল্লাদারণী’রাই ছিলেন পেশাগত দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষমতাধারী নারী। মহল্লায় নারী সম্পর্কিত কোনো বিবাদ দেখা দিলে তা কর্তৃপক্ষের গোচরে আনা ও অন্দরমহলে ঢুকে নিষ্পত্তির চেষ্টা ছিল তাঁদের কাজ। এ জন্য ফি দাবি করা তাঁদের এখতিয়ার ছিল। মুসলমান মহল্লাদারণীরা রক্ষণশীল পরিবারে নারীর প্রসবজনিত মৃত্যু, শিশুমৃত্যু, গর্ভপাত ইত্যাদি বিষয়ে অন্দরমহলে ঢুকে তদন্ত ও তল্লাশি করতেন এবং কোতোয়ালের কাছে সে বিষয়ে তথ্য প্রদান করতেন। এ ছাড়া পেশা হিসেবে সে সময় ফেরিওয়ালী, বেদে, নাচনেওয়ালী, বারবনিতা, দাই এবং ওস্তাদনী আলোচিত ছিল। বিশ শতকের মধ্যভাগ হতে ঢাকার নগরজীবনে অন্তঃপুরের নারীরা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বিভিন্ন পেশায় নারীর অনুপ্রবেশ ঘটে। সম্ভ্রান্ত ও বিত্তশালী নারীদের প্রচেষ্টায় ১৯৫৫ সালে ইস্কাটনে স্থাপিত হয় ঢাকা লেডিস ক্লাব। কর্মজীবী নারীদের জন্য সর্বপ্রথম ১৯৫৯ সালে বেইলি রোডে স্থাপিত হয় মহিলা হোস্টেল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারীর কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় সুযোগ সৃষ্টি হয় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে। বর্তমানে বস্ত্রশ্রমিক থেকে শুরু  করে বহুজাতিক কম্পানির প্রধান নির্বাহী পদটিতেও সমাসীন হতে পেরেছেন নারী।

অন্তঃপুরবাসিনী থেকে সংসদে

সেকালে মহল্লার লোক শজনেগাছে উঠলে বা বাড়ির ছাদ মেরামতের কাজে আসা স্থানীয় রাজমিস্ত্রি সিঁড়ি বেয়ে ছাদে ওঠার সময় ‘ছাদকা উপার আদমি চা-রে’ বলে চিৎকার করে উঠত। সেই চিৎকারগুলো ছিল আশপাশের বাড়ির মহিলাদের উদ্দেশ্যে সতর্কতামূলক। ষাটের দশকের শুরুতে রক্ষণশীলতায় ‘ভাঙি-ভাঙছি’ ভাবটা আসতে শুরু করে। মেয়েরা প্যান্ট, টি-শার্ট পরে বের হতে শুরু করে। পুরুষশাসিত সমাজের ভাষায় তাদের ডাকা হতো ‘টেডি’। এই ‘টেডি’ মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা হতো প্রায়ই। তারা তরুণদের শিষ্টাচার-বহির্ভূত আচরণের শিকারও হতেন কখনোসখনো। অনুষঙ্গ উপাচার হিসেবে শিক্ষিত সমাজে সংযুক্ত হয় প্রেম এবং পরিবারকে না জানিয়ে পালিয়ে বিয়ে করার সংস্কৃতি। যাকে বেশির ভাগ ঢাকাইয়াই অবজ্ঞার চোখে দেখত এবং যা ফুটে উঠেছিল সেকালের প্রচলিত ছাদ পিটানি গানের মধ্য দিয়েন্

‘জজ সাহেবের টেরি মাইয়া

পেখম মেইলাছে,

মহব্বতের রশির টানে

উধাও অইয়াছে।’

(এখানে ‘টেরি’ বোধকরি ‘টেডি’ শব্দের পরিবর্তিত রূপ)

ইভ টিজিংয়ের সেই ধারা আজও বহমান, ধরন পাল্টেছে মাত্র। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নারীর অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারী শিক্ষার বিস্তারের মাধ্যমে নারীমুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছেন। আশালতা সেন, লীলা নাগ ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো বিপ্লবীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বে নারীর অনুপ্রবেশ সম্ভবপর হয়েছে। নারী সাংবাদিকতায় পথপ্রদর্শক নূরজাহান বেগম। ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয় বাংলার প্রথম সচিত্র মহিলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৫ সালে ঢাকায় খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার রাজনীতি নারীর পদচারণে মুখর ছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে অদ্যাবধি রাজপথ ও সংসদে নারীর রাজনৈতিক ভূমিকা ক্রমেই দেদীপ্যমান হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয় সংসদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পদ্ধতিতে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। প্রধানমন্ত্রী নারী, প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী নারী, স্পিকারও নারী। সফলতা অর্জনের এই ধারা দেখে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এর মধ্যে নারীদের ক্ষমতায়ন কতটুকু ঘটেছে? উত্তর খুঁজতে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শারমিন আকতারকে। দীর্ঘকাল ধরে তিনি ব্যাংকটির মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘নারীর বার্গেনিং ক্যাপাসিটি আদতে তেমন বাড়েনি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত পরিসরে বেড়েছে। তবে বিরক্ত হই, উঠতি বয়সী নারীদের মূর্খতা দেখে। তাদের মধ্যে এমন একটা ধারণার জন্ম দেওয়া হয়েছে, যাতে করে তারা ভাবতে থাকে এবং অন্য নারীকেও উদ্বুদ্ধ করতে থাকে পোশাকের মুক্তি মানেই নারীর মুক্তি, ক্ষমতায়ন। অথচ তারা জানে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বার্গেনিং ক্যাপাসিটি একটা সম্মানজনক অবস্থায় না আনতে পারলে নারীর ক্ষমতায়ন অধরাই থেকে যাবে।’

গুগুল ডুডলে বেগম রোকেয়া বই হাতে হেঁটে যাচ্ছেন

 

‘যেদিন ফুটল কমল’ থেকে ‘সংশপ্তক’

একটা সময় ছেলেদের মেয়ে সেজে নারী চরিত্রে অভিনয় করতে হতো। নারী-পুরুষ একসঙ্গে অভিনয়ে অংশগ্রহণ করবে—এমন কথা কেউ চিন্তাও করতে পারতেন না। বুদ্ধদেব বসুর ‘যেদিন ফুটল কমল’ নাটকে নারী চরিত্রে নারীই অভিনয় করেছিল। অভিনয় করেছিলেন ‘রানু সোম’। যাঁকে পরবর্তী সময় বুদ্ধদেব বসু বিয়ে করেছিলেন এবং ‘প্রতিভা বসু’ নামে তিনি পরিচিত হয়েছিলেন।  আশাতিরিক্তভাবে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিন্দার বান ডাকল রানু সোমের নামে। ঢাকায় একটি কাগজ বের হতো তখন, যার নাম ছিল ‘রবিবারের লাঠি’। সেই রবিবারের লাঠির পাতায় পাতায় রানু সোম কত দুশ্চরিত্র তার বীভৎস বিবরণ বেরিয়ে রাতারাতি কাগজের কাটতি বেড়ে গিয়েছিল তিন গুণ। কালের পরিক্রমায় সমাজের জীবনধারায় ও দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯৮৮-৮৯ সালে বিটিভিতে প্রচারিত সাপ্তাহিক নাটক ‘সংশপ্তক’-এর ‘হুরমতি বুয়া’ একটি নারী চরিত্র। অভিনয় করেছিলেন ফেরদৌসী মজুমদার। সেখানে তিনি খলচরিত্র ‘রমজান’ (অভিনেতা প্রয়াত হুমায়ুন ফরীদি)-এর কান কেটে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। তবে নারীর অগ্রযাত্রা যতটা বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে ততটাই বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংসতা। সিটি করপোরেশনগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, নগরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে পৃথক বসবাস ও বিচ্ছেদ। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তরুণ ব্যাংক কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবি জানান, ‘প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, গুণগত মানসম্পন্ন জীবন অতিবাহিত করার সুযোগ না পাওয়াসহ বিবিধ সামাজিক অস্থিরতার পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা পৃথক বসবাস ও বিচ্ছেদজাতীয় বিষয়গুলোকে ত্বরান্বিত করছে। এতে সাময়িক মুক্তি ঘটলেও নারী এক ধরনের ট্রমা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে অন্য ধরনের ট্রমায় আক্রান্ত হয়।’

অধিকার রক্ষায় আইন সবচেয়ে বড় সহায়ক। ১৮৫৬ সাল থেকে অদ্যাবধি বিধবা বিবাহ প্রচলন, বিশেষ বিবাহ আইন, বাল্যবিয়ে নিরোধ, সম্পত্তিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, পৃথক বসবাস বা বিচ্ছেদের অধিকারের স্বীকৃতি, যৌতুক নিরোধ ইত্যাদি অনেক আইনি পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়। এতদসত্ত্বেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সামাজিক অঙ্গীকারের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই আইন সুফল বয়ে আনতে পারেনি। দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে একুশ শতকে নর-নারী একে অপরের পরিপূরক হয়ে এই নগর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে—সেটাই আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা।

 

সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই

ড. শুচিতা শরমিন

অধ্যাপক, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পরিবার মানবজাতির প্রাচীনতম মৌলিক প্রতিষ্ঠান। নারীর সবচেয়ে বড় কর্মক্ষেত্র হলো তাঁর পরিবার। পরিবারে নারীর সেবা ও পরিচর্যাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এতে পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে নারীর মেধা ও শ্রমের উপযুক্ত মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। কালের পরিক্রমায় বহুবিধ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জিত হলেও নারীর নিরাপত্তা সংকট এখনো রয়ে গেছে। নারী হরহামেশাই পারিবারিক জীবনে ও কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও অন্য বহু ধরনের নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হন। এগুলো প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রিন্ট, টিভি মিডিয়া এবং ওয়েব পোর্টালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ সংক্রান্ত বিচ্ছিন্ন কিছু বিধান থাকলেও সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। নীতিমালা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখতে হবে, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই।


মন্তব্য