kalerkantho


মানুষগুলো যেন রোবটিক হয়ে যাচ্ছে

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মানুষগুলো যেন রোবটিক হয়ে যাচ্ছে

জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী চাঁদনী। এই ঢাকায়ই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ঢাকায় যাপিত জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

 

শৈশবের প্রথমার্ধ কেটেছে তাঁর ধানমণ্ডি, এলিফেন্ট রোডে। এলিফেন্ট রোডে ভোজ্য তেলের গলি নামের একটা জায়গা ছিল। অনেক আগে ওখানটায় নাকি খাঁটি তেল উৎপাদন হতো বলে প্রসিদ্ধ ছিল। আর ওখানকারই ‘হেলেন পাশা’ নামের একটি ক্লিনিকে জন্ম চাঁদনির।

এলিফেন্ট রোডে তাঁদের বাসার নাম ছিল ‘আল্পনা’। যেটা এখন ‘আল্পনা প্লাজা’ মার্কেট হয়ে গেছে। ওখানকার খুব বেশি স্মৃতি মনে করতে পারলেন না তিনি। কিছু গলির নাম বললেন, লেমারাসের গলি, লাতিমের গলি। এরপর এলিফেন্ট রোড থেকে গ্রিন রোড ভূতের গলি। সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘ভূতের গলিতে আমার অনেকটা সময় কেটেছে। আমি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে, বাবা তখন সরকারি কলোনি পান। তখন আমরা আজিমপুর কলোনিতে যাই। আজিমপুর কলোনিতে নাইনটি এইট পর্যন্ত ছিলাম। আজিমপুর কলোনির ভেতরে অগ্রণী স্কুল ছিল। এখন যার নাম অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয় এবং কলেজ। আগে কলেজ ছিল না। ওই এলাকায়ই আমার শৈশবের দিনগুলো কেটেছে।’

সেই ঢাকা আর এই ঢাকার মধ্যে পার্থক্য কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনকার ঢাকার সামাজিক পরিবেশটায় আন্তরিকতা অনেক কম। বিশ্বাস কম। অনেক বেশি সিস্টেমেটিক চলাচল। তুমি এটা করলে আমি ওটা করব—এমন স্টাইল। এ রকম ছিল না।’ উদাহরণ টানলেন তাঁর ছোটবেলার বান্ধবী অভিনেত্রী শ্রাবন্তীকে দিয়ে। একই ক্লাসে পড়তেন তাঁরা, ‘শ্রাবন্তীর বাসা থেকে স্কুল ছিল সোজা পথে। শ্রাবন্তী অনেকটা পথ ঘুরে আমাকে স্কুলে নিয়ে যেত। বলতে পারেন শ্রাবন্তীর জন্যই আমার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আসা। জাতীয় শিশু-কিশোর, শিক্ষা সপ্তাহ—এগুলোতে জোর করে সে আমাকে নাম দেওয়াত। আম্মুকেও বলে রাজি করাত। স্কুল অগ্রণীতে ঢাকা লিটল থিয়েটার হতো। ও জোর করে আমাকে নাচ করাত ওখানে। মঞ্চ, নাচ—যা-ই বলি না কেন, বলা যায় ওর জন্যই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার পথচলা শুরু। ছোটবেলা থেকেই স্কুলে ও অনেক ফেমাস ছিল। আমাকেও ও খুব পছন্দ করত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে নিয়ে যেতে চাইত। আমি চুপচাপ থাকতেই পছন্দ করতাম। ও সব সময় বড় বোন ও গার্জিয়ান হিসেবে আমাকে কেয়ার করত। এ ব্যাপারটা ওর এখনো আছে। সবার বেলায় আছে। আজিমপুর কলোনিতে ও পুরো মাস্তান স্টাইলে চলত। ওকে দেখে সবাই ভয় পেত! আর ওর পাশে এ জন্যই আমি চলতাম যেন আমাকে কেউ কিছু বলতে না পারে। অনেক মজার মজার সব স্মৃতি ছিল আজিমপুর কলোনি ঘিরে। অনেক মিস করি এখন।’

আজিমপুরে দীর্ঘদিন থাকলেও নীলক্ষেত চিনতেন না! ম্যাট্রিকের পর নীলক্ষেত চিনেছেন। ‘জানতাম, ওখানে নীলক্ষেতে বই পাওয়া যায়। কিন্তু ওভাবে ঘুরে দেখা হয়নি। কাঁটাবনে যেতাম পশুপাখি দেখতে। ছোটবেলা থেকেই ওই দোকানগুলো দেখছি। খুব ভালো লাগত ওগুলো দেখতে। এখনকার তুলনায় সেই সময়টা আমার কাছে এক নিরিবিলি ঢাকা ছিল। নাগরিকদের এত যানজটে হাঁসফাঁস করতে হতো না। ক্রমেই রাজধানীতে জনসংখ্যা বাড়ছে, গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে; কিন্তু সে তুলনায় পরিকল্পিত নগরায়ণ হচ্ছে না। নানা চাপে এই সময়ের মানুষগুলো যেন রোবটিক হয়ে যাচ্ছে।’

এখনকার সময়ে তখনকার কী মিস করেন? ‘তিন টাকায়, পাঁচ টাকায় তখন ফুচকা-চটপটি পাওয়া যেত। স্কুলের সামনের শাহ আলম ভাইয়ের ফুচকার কথা তো আজও ভুলতে পারিনি। তখন এত বেশি হলও ছিল না। বলাকা ছিল আমাদের আশপাশেই। মনে আছে, ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ সিনেমাটা বন্ধুরা মিলে একবার চুরি করে দেখতে গিয়েছিলাম।’

আজিমপুর কলোনির এখনো অনেকে চাঁদনিকে কিভাবে জানে, জানেন? যে মেয়েটা রাস্তায় বসে বৃষ্টিতে ভিজে, সেই মেয়ে? এই নামে খুব প্রসিদ্ধ ছিলেন চাঁদনি। ‘বৃষ্টি হলে রাস্তার মাঝখানে বসে থাকতাম। এটা আমার খুব ভালো লাগত। পিচঢালা পথের মধ্যে তুমুল বৃষ্টিতে বসে থাকার মজাটাই আলাদা। সেটি এখনো বেশ মিস করি।’


মন্তব্য