kalerkantho

বই পড়ার একটু সময়

মারুফা মিতু   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বই পড়ার একটু সময়

ছবি : তারেক আজিজ নিশক

বই পড়তে ভালোবাসেন? ছাত্রজীবনে প্রতিদিন বই পড়তেন? কিন্তু চাকরিজীবনে প্রবেশ করার পর সেই প্রিয় সঙ্গীকে আর সময় দিতে পারছেন না। অফিস, বাসা সামলে ক্লান্ত; বই পড়বেন কখন? এ জন্য আফসোসের অন্ত নেই অনেকের। তার পরও নিজেকে একটু মোটিভেট করে খুব সহজেই আপনি ফিরিয়ে আনতে পারবেন আপনার পুরনো প্রিয় এই অভ্যাস

 

কোকিলের কুহু কুহু এখনো জমিয়ে উঠতে পারেনি; কিন্তু হিম হিম আবহাওয়ার শেষ সময়ে বোঝা যাচ্ছে, এখন ফাগুনের শুরু হওয়ারই সময়। ফাগুনের আদুরে আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে উঁকি দিচ্ছে বইমেলার প্রহরের কথাও।

ফেব্রুয়ারি মাস। ভাষার মাস। মাসজুড়ে বইমেলা। পৃথিবীর নানা দেশে নানা আয়োজনে বইমেলা হয়। এগুলোর কোনোটি চোখ-ধাঁধানো, কোনোটি সমীহ জাগানো, কোনোটি ছোট ও অন্তরঙ্গ। কিন্তু ঢাকার বাংলা একাডেমির বইমেলার মতো আর কোনো মেলা পাঠক-অপাঠকদের আবেগ-ভালোবাসা এতটা জাগাতে পারে না।

সময় যেন কাটে না...এমন অনেকেরই মাঝেমধ্যে হয়। সময় কাটতে চায় না। আবার কেউ বা দু-দণ্ড অবসরের কথা ভাবতেই পারেন না। যার ছিল শৈশব-কৈশোরে গল্পের বইয়ে মুখ ডুবিয়ে রাখার অভ্যাস। দিন পার হয়ে সেই নারী এখন এক টুকরো অবসর পান না নিজেকে দেওয়ার জন্য। প্রিয় কোনো বইয়ে মুখ ডুবিয়ে রাখার জন্য; কিন্তু ইচ্ছা করলেই নিয়মিত নিজেকে বইয়ের সংস্পর্শে রাখতে পারেন খুব সহজেই।

দীর্ঘদিনের কর্মব্যস্ততা, তারপর হঠাৎই অখণ্ড অবসর। অনেকে অবসর যাপনের জন্য সুযোগ পাওয়া মাত্রই ভ্রমণের ছক কষতে থাকেন। কেউ বা কম্পিউটারে কপি করতে শুরু করেন পছন্দের চলচ্চিত্র, নাটক। আবার এমন অনেকে আছেন, যাঁরা শেলফ থেকে নামাতে শুরু করেন প্রিয় বইগুলো। অনেকে অবসর যাপনের জন্য নিত্যনতুন বই কিনতে ভিড় জমান বইয়ের দোকানে। তবে যার সময় যেভাবেই কাটুক, অবসর যাপনের ক্ষেত্রে বই পড়ার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো কাজ এখনো দৃষ্টিগোচর হয়নি। লন্ডনভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘এলিট ডেইলি’ এটি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে কিছু বিষয় বের করে এনেছে। তাদের হিসাবে বই পড়া শুধু সময় পার করার উপলক্ষই নয়, এতে আনুষঙ্গিক আরো অনেক দিকের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।

শৈশব থেকেই পড়ালেখা বলতে আমাদের মনে বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেছে পাঠ্য বইয়ের পাঠ আর সেই অমনোযোগী অবস্থা। কিন্তু অবসরের পাঠ আর পাঠ্য বইয়ের পাঠ কখনোই এক নয়। তার পরও বই পড়ে নিজের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করা উচিত। এতে খুব সহজে আপনিও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন। চর্চার অর্থ নতুন কিছু লেখা নয়, বরং অনেক সুন্দর ভাবনা হৃদয়ে ধারণ করা, যা আপনাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বই পড়তে ভালোবাসেন? ছাত্রজীবনে প্রতিদিন বই পড়তেন? কিন্তু চাকরিজীবনে প্রবেশ করার পর সেই প্রিয় সঙ্গীকে আর সময় দিতে পারছেন না। অফিস, বাসা সামলে ক্লান্ত, বই পড়বেন কখন? আর একজন নারী, যিনি ছাত্রজীবনে, এমনকি সংসারের কঠিনেরে বরণ করার আগে বইয়ের লাইনে লাইনেই চালাতেন জীবনের ঘড়ির কাঁটা। আর এখন সংসার-সন্তানের বেড়াজালে পড়ে প্রিয় বইটার কয়েক লাইনেও চোখ বোলাতে পারেন না তিনি। এ জন্য আফসোসের অন্ত নেই অনেকের। তার পরও যদি খুব করে মন কাঁদে বই পড়ার জন্য, তাহলে কিন্তু নিজেকে একটু মোটিভেট করে খুব সহজেই আপনি ফিরিয়ে আনতে পারবেন আপনার পুরনো প্রিয় এই অভ্যাস। আর  এই কাজটি করতে আপনাকে সাহায্য করবে নিম্নোক্ত কৌশলগুলো।

 

একটি নির্দিষ্ট সময় প্রতিদিন

দিনের একটি বড় সময় আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করে থাকি। ফেসবুকে চ্যাট, টুইটারে টুইট অথবা কাজের ফাঁকে সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া। এই সময়ে বই পড়তে পারেন। খুব বেশি সময় না দিতে পারেন—দিনের ১৫ থেকে ২০ মিনিট দিন। দেখবেন, পড়ার অভ্যাস আবার ফিরে এসেছে।

 

একের অধিক বই সঙ্গী

অনেকেই একটি সময় একটি বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে একটি সময় একের অধিক বই পড়া আপনার সময় বাঁচিয়ে দেবে অনেকখানি। আপনি চাইলে একটি সময় নির্দিষ্ট করে নিতে পারেন বই পড়ার জন্য। তা হতে পারে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অথবা অফিস থেকে ফিরে সন্ধ্যার সময়টিতে।

 

পড়ালেখা অনলাইনে

আপনাকে যদি অনলাইনে বেশি সময় ব্যয় করতে হয়, তবে বই পড়ার কাজটিও আপনি অনলাইনে সেরে নিতে পারেন। অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট পাবেন, যেখানে আপনার পছন্দের বইটি পেয়ে যাবেন। কাজের ফাঁকে সময় করে পড়ে নিন প্রিয় বইটি।

 

ভ্রমণে

অফিসে যাতায়াতে আপনি কী পরিবহন ব্যবহার করেন? বাস, রিকশা অথবা সিএনজি? অফিসে যাওয়ার সময় অনেকেই গান শুনে থাকেন। গান শোনার পরিবর্তে বই পড়ুন। এই সময়ে অনলাইন থেকেও বই পড়তে পারেন।

 

৫০ পৃষ্ঠার কৌশল

আপনি বই পড়ার পৃষ্ঠা নির্দিষ্ট করে নিতে পারেন। যেমন ৫০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আজ পড়ে শেষ করবেন। হাতে খুব বেশি সময় না থাকলে অল্প করে লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিতে পারেন। তা ১০ পৃষ্ঠা হতে পারে, আবার ২০ পৃষ্ঠাও হতে পারে।

 

পড়ার সঙ্গী খুঁজে ফেলুন

আপনার কর্মস্থলে কিছু কর্মী খুঁজে পাবেন, যাঁরা বই পড়তে ভালোবাসেন। তাঁদের সঙ্গে একটি গ্রুপ তৈরি করে নিতে পারেন। আড্ডায় বই পড়া নিয়ে গল্প করুন। বই আদান-প্রদান করে নিতে পারেন। কাজটি আপনার পড়ার গতি বড়িয়ে দেবে।

 

পড়ার গতি বৃদ্ধি করুন

অল্প সময়ে অধিক বই পড়তে চাইলে আপনার পড়ার গতি বৃদ্ধি করতে হবে। বইয়ের লাইনগুলোতে দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিন। এক নিঃশ্বাসে কয়েকটি লাইন পড়ে ফেলার অভ্যাস তৈরি করুন। এই কৌশলগুলো আপনার বই পড়ার অভ্যাস আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। পড়ার প্রতি তৈরি করবে আগ্রহ। তখন আর মনে হবে না, সংসারের এত কাজের মধ্যে বই পড়ার আর সময় কোথায়? হাজারো কাজের মধ্যে, সংসারের নিত্য হাজারো ঝামেলার মধ্যে যদি আপনার ইচ্ছা থাকে যে আমাকে বই পড়তেই হবে, তাহলে পিছিয়ে থাকবেন না আপনি। ঠিকই সময় এসে আপনার হাতে হাত রেখে বন্ধুত্ব করবে বই পড়ার জন্য।


মন্তব্য