kalerkantho


নগরজীবন

আমার একটাই চাওয়া হকাররা যাতে নিরাপদে ব্যবসা করতে পারে

মো. ওয়াহাব মিয়া
বাদামতলী এলাকার ফল বিক্রেতা

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আমার একটাই চাওয়া হকাররা যাতে নিরাপদে ব্যবসা করতে পারে

 

ঢাকায় কত দিন ধরে আছেন?

২০ বছর বয়স থাইকা ঢাকায় আছি। তখন থাইকাই ব্যবসা করি। ফুটপাতে আগে পান-সিগারেট বিক্রি করতাম। তারপর ফলের ব্যবসায় নামছি।

 

বিক্রি কেমন হয়?

খারাপ না। সারা দিনে দেড়-দুই হাজার টাকার ফল বিক্রি হয়। চালান বাদ দিয়া পাঁচ-ছয় শ টাকা থাকে।

 

ঢাকার জীবন কেমন লাগে?

ভালোই লাগে। ঢাকায় অনেক লোকজন, কেউ বইসা থাকে না, সবাই কাজে-কামে ব্যস্ত। আর সুযোগ-সুবিধাও ভালো। যেকোনো জিনিস চাইবেন, ঢাকায় পাইবেন।

 

ঢাকায় এত লোকজন, যানজট—আপনার ভালো লাগে?

এইটা ঠিক। ফুটপাতে যান লোকের ঠেলাঠেলি, বাসে যান ভরপুর লোক, হাসপাতালে যান দেখবেন লোকজন লাইন দিয়া খাড়াই আছে। তবু এই লোকজন আছে বইলাই তো শহরটা ভালো লাগে। লোক না থাকলে শহরের কোনো দাম নাই। এই যে বড় বড় বিল্ডিং, শুক্রবার অফিস-আদালত বন্ধ থাকে, তখন কেমন যেন সব ফাঁকা ফাঁকা লাগে।

 

আগের ঢাকা আর এখনকার ঢাকার মধ্যে পার্থক্য কী?

ঢাকা আগেও যে রকম আছিল, এখনো সে রকমই আছে! এই যে রাস্তা দেখেন, ২০ বছর আগেও যেমন দেখেছি, এখনো সে রকমই আছে। শুধু লোক-দেখানো খোঁড়াখুঁড়ি চলে। ভালোমতো কাজ করে না বইলা মাঝেমধ্যেই রাস্তা খুঁড়তে হয়।

 

ঢাকার সব ভালো, খারাপ কিছু কি নেই?

আছে তো। অনেক কিছুই খারাপ আছে। তবে সব কথা তো বলা যাবে না। ফুটপাতে ব্যবসা করি। এমন কিছু কইলাম, দেখা গেল কারো গায়ে লাগল। পড়ে বিপদে পড়ব। আমার ব্যবসা বন্ধ কইরা দিতে পারে। খারাপ বলে তো ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারব না।

 

এই নগরের মেয়রদ্বয়ের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

মেয়রদ্বয়ের কাছে আমার একটাই চাওয়া, হকাররা যাতে নিরাপদে ব্যবসা করতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দেন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হকারদের ব্যবসার জন্যে একটা নিরাপদ জায়গা দিলে ভালো হয়। তাহলে পথচারীদের চলাচলেও কোনো সমস্যা হইব না। আবার হকাররাও ব্যবসা চালাইতে পারব। তা ছাড়া অলিগলিতে ময়লা-আবর্জনা পইড়া থাকতে দেখি। সাত দিনেও সাফ হয় না। এই সব জায়গা পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। তাহলে মানুষজন চইলা-ফিরা শান্তি পাইত।

 

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আমার কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নাই। অর্ধেক বয়স তো পার কইরাই দিছি। শুধু তিন বেলা খেয়ে-পরে বাঁচতে পারলেই আমি খুশি।

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণে : কবীর আলমগীর

ছবি : জান্নাতুল ফেরদৌস শিপন


মন্তব্য