kalerkantho


ঢাকার অতিথি

নদীর টানে বাংলাদেশে এসেছি

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নদীর টানে বাংলাদেশে এসেছি

সাইকেল চালাতে গিয়ে ছোট-বড় অনেক নদী পেরোতে হয়েছে আমাকে। এই নদীমাতৃক বাংলাদেশটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। শুনেছি অযত্ন-অবহেলায় অনেক নদী হারিয়েও গেছে। নদী রক্ষায় সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণের পাশাপাশি রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি

দুই চাকার সাইকেলে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন তিনি। কখনো একা, কখনো দলের সঙ্গে। গত নভেম্বরে বাংলাদেশে এসেছিলেন বেলজিয়ামের মাইকেল করনেলিস। তাঁর দ্বিচক্রযানে বাংলাদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

 

মাইকেল করনেলিস ৩৪ বছরের যুবক। পেশায় টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার। বেলজিয়াম থেকে বাংলাদেশে এসেছেন সাইক্লিংয়ের নেশায়। দুই চাকার দলের সঙ্গে অনেক দেশেই তিনি ভ্রমণ করেন। তাঁর সেই দ্বিচক্রযানে ঘুরেছেন বাংলাদেশের অনেক এলাকাই। তিনি জানালেন, প্রথম দিন ঢাকা থেকে ভালুকায় গিয়েছেন। দ্বিতীয় দিন ভালুকা থেকে শেরপুর। এরপরের দিন সেখান থেকে রৌমারী। চতুর্থ দিন রৌমারী থেকে রংপুর। বাংলাদেশে শুধু সাইক্লিংই করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাইকেল বলেন, ‘না, একান্ত নিজের জন্য কিছুটা সময় তো রেখেছিই। দলের সঙ্গে সাইক্লিং শেষে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমুদ্রসৈকতে গিয়েছিলাম। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত আমার অসাধারণ লেগেছে। ওখানে ছিলামও বেশ কয়েক দিন।’

বাংলাদেশ সম্পর্কে আগে কিছু জানতেন? ‘না, আগে তেমন কিছু জানতাম না। তবে আমার এক বাংলাদেশি মেয়ে বন্ধুর কাছে অনেক কিছু শুনেছি। তার কাছে শুনতে শুনতেই প্রেমে পড়েছি বাংলাদেশের। আপনাদের দেশটা নাকি নদীমাতৃক। জালের মতো নদী বয়ে গেছে। এসেও দেখলাম তাই। সাইকেল চালাতে গিয়ে ছোট-বড় অনেক নদী পেরোতে হয়েছে আমাকে। আসলে আমি তো নদীর টানেই বাংলাদেশে এসেছি। এই নদীমাতৃক বাংলাদেশটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। শুনেছি অযত্ন-অবহেলায় অনেক নদী হারিয়েও গেছে। নদী রক্ষায় সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণের পাশাপাশি রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি।’

মাইকেল জানালেন, ঢাকায় তিনি লালবাগ কেল্লা, শহীদ মিনার, যমুনা ফিউচার পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, রবীন্দ্রসরোবর, তারা মসজিদ দেখেছেন। আর বাংলাদেশ ও বাঙালি সংস্কৃতির অনেক স্থাপত্য দেখেছেন। স্থাপত্যগুলো তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশটাই মুগ্ধ হওয়ার মতো। আমি এখানে এসে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। উত্তরের শান্ত গ্রাম দেখেছি। আর দেখেছি দক্ষিণের উত্তাল সমুদ্রসৈকত। এ ছাড়া রকেট স্টিমারে করে সুন্দরবন যাত্রাটা ছিল মোহময়। এর জন্য তাঁবু ট্যুরকে ধন্যবাদ। ওরা আমার জন্য এই আয়োজন রেখেছিল। রকেট স্টিমার ট্রিপে হুলারহাট যাই। পরে সেখানে গিয়ে সাত গম্বুজ মসজিদও দেখেছি।’

ঢাকার সেরা সময় কোনটি? ‘সেরা সময়ের কথা জিজ্ঞেস করলে আমি বলব ১৬ ডিসেম্বর। দিনটা তোমাদের বিজয় দিবস। ঢাকার রাজপথ ছিল উৎসবমুখর। ওই উৎসবে আমিও শামিল হয়েছিলাম বিডি সাইক্লিং দলের সঙ্গে। সময়টা ব্যাপক উপভোগ করেছি। লোকেরা আমাদের অভিবাদন জানিয়েছে। ওই দিন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, ঢাকার সড়কে সাইকেল চালিয়ে নিজেকেও স্বাধীন মনে হচ্ছিল আমার। আসলে বাংলাদেশের লোকেরা বেশ অতিথিপরায়ণ, বন্ধুবৎসল। এই উষ্ণতায় কখনো বিরক্তি লাগার কথা নয়।’ মাইকেল আরো বলেন, ‘মানুষের চাঞ্চল্য যেমন আমাকে মুগ্ধ করেছে, তেমনি বাংলাদেশের গ্রামের অবারিত ফসলের জমি আর জমিতে বাতাসের ঢেউ খুবই আপ্লুত করেছে। আর একটা বিষয় খেয়াল করেছি—এখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব সম্প্রদায়ের মানুষই মিলেমিশে থাকে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে তাদের বাস। ইচ্ছা রয়েছে সময়-সুযোগ পেলে আবারও বাংলাদেশে আসতে।’



মন্তব্য