kalerkantho


ডিএনসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ড

মাদক, দখল-দূষণসহ নানা সমস্যায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মাদক, দখল-দূষণসহ নানা সমস্যায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

এই ভবনেই ছিল আইইউসিএন অফিস। চুরির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে তারা ভবন ছাড়ে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডটিতে যেমন রয়েছে গুলশান, বনানী, নিকেতনের মতো অন্যতম অভিজাত এলাকা। তেমনি আছে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের বসবাস কড়াইল বস্তি। রয়েছে নামিদামি সব রেস্টুরেন্ট, মার্কেটসহ আবাসিক এলাকার মধ্যে বাণিজ্যিক ভবনের ছড়াছড়ি। এ ছাড়া ধীরগতির সংস্কারকাজ, চুরি, দখল, মাদক, মশার উপদ্রবসহ ওয়ার্ডটির বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে সবিস্তারে লিখেছেন আরিফুর রহমান

 

গুলশান, বনানী, নিকেতন, কড়াইল বস্তি নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড। এটি এমন এক এলাকা, যেখানে সমাজের সবচেয়ে ধনিক শ্রেণির যেমন বসবাস আছে; তেমনি আছে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের বাস। গুলশান-বনানীতে অভিজাত শ্রেণির বসবাস থাকলেও এই ওয়ার্ডের অন্যতম সমস্যা চুরি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা বিশ্বে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) ঢাকায় অফিস ছিল ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনানীতে। অভিজাত এই এলাকায় চারতলায় আইইউসিএন অফিসে চুরির ঘটনা ঘটেছে তিনবার। প্রতিবারই রাতের আঁধারে ভবনের গ্রিল কেটে কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে নিরাপদে সটকে যেতে সক্ষম হয় দুর্বৃত্তরা। আইইউসিএন থেকে পুলিশের কাছে প্রতিবারই অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ করে কোনো লাভ হয়নি। দুর্বৃত্তদের ধরতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শেষ পর্যন্ত বনানী এলাকা থেকে অফিস পরিবর্তন করে এখন মহাখালীর ডিওএইচএসে উঠেছে আইইউসিএন। আইইউসিএনের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এ বি এম সারোয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বনানীতে আমাদের অফিসে তিনবার চুরি হয়েছে। অফিস থেকে কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি। কিন্তু চোর ধরতে পারেনি পুলিশ। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে আমরা অফিস পরিবর্তন করে এখন মহাখালী ডিওএইচএসে উঠেছি।’ গুলশান-বনানীতে চুরি নিত্যদিনের ঘটনা। একটু সুযোগ পেলেই গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে মোবাইল, ফোন, সোনার গয়না, কম্পিউটারসহ নানা মূল্যবান সম্পদ নিয়ে চলে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও মিলছে না সুরাহা। গুলশানের ব্যবসায়ী ওয়াজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কয় দিন আগেই আমার বাসায় চুরি হয়েছে। মোবাইল ফোনসহ কিছু সোনার গয়না নিয়ে গেছে।’ বনানীর একটি ফ্ল্যাটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দেলোয়ার হোসেনের মতে, অভিজাত এলাকায় চুরির ঘটনার মূল কারণ কড়াইল বস্তি। সেখানে উঠতি বয়সী অনেক তরুণ এই চুরির সঙ্গে জড়িত। কারণ তাদের বিকল্প আয়ের কোনো উত্স নেই। চুরিই তাদের পেশা। সে কারণে চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। কয়েক দিন পর পরই বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু তাদের ঠেকাতে পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই।


ধীরগতির সংস্কারকাজে বাড়ছে ভোগান্তি


বছরজুড়ে রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি

গুলশান-বনানী এলাকার নানা স্থানে বছরজুড়ে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। নির্ধারিত সময়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা করছে না ঠিকাদার। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ধীরগতির সংস্কারকাজের জন্য বাড়ছে স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ আর ভোগান্তি। গুলশানের ১১ নম্বর সড়ক, ২৪ নম্বর সড়ক, ৩৬ নম্বর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। কবে নাগাদ এই সংস্কারকাজ শেষ হবে, তা বলতে পারেনি শ্রমিকরা। বনানী এলাকা ঘুরেও দেখা মিলল একই চিত্র। নিকেতনের একটি অংশ, যেটি ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে, সেখানকার রাস্তার অবস্থাও বেহাল। কোথাও কোথাও রাস্তার মাঝখানে ইট-সুরকি ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। নীলফামারী থেকে আসা শ্রমিক ইয়াকুব আলী জানালেন, এই ওয়ার্ডে বিভিন্ন সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে অনেক আগে। শেষ হতে আরো সময় লাগবে। জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ছিলেন আমাদের অভিভাবক। তিনি লন্ডন যাওয়ার পর থেকেই মূলত কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। তাঁর মৃত্যুতে একটা ধাক্কা তো আমরা খেয়েছি। ঠিকাদাররা এখন ফ্রিস্টাইলে চলে। মেয়র যত দিন ছিলেন, তত দিন কাজে গতি ছিল। সে গতি হারিয়ে গেছে। এখন তো বৃষ্টি নেই। তাহলে কাজে ধীরগতি হবে কেন? কাজ করার তো এখনই সঠিক সময়। ঠিকাদারদের তাড়া নেই। সঙ্গে প্রশাসনেরও সমস্যা আছে।’ এ তো গেল রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির গল্প। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনানী, নিকেতনের একটি অংশসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেল রাস্তার বেহাল দশা। কোথাও কোথাও রাস্তার মাঝখানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও খানাখন্দে ভরা। এসব রাস্তার কাজ এখনো ধরা হয়নি। যেসব রাস্তার কাজ ধরা হয়েছে, সেগুলোর কাজও চলছে ধীরগতিতে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ আর ভোগান্তি কমছে না। রাস্তার ওপর বাতি না থাকায় রাতের বেলায় ওসব গর্তে দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন বনানী এলাকার বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও দেখা গেছে, ওয়াসার পাইপ চুয়ে পানি রাস্তায় জমে মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ড্রেনের অবস্থাও বেহাল। এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমান বলেন, ‘একসময় আমার এলাকায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমত, এখন আর জমে না। কিছু সংস্কারকাজ সম্পন্ন করায় এসব সমস্যা থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব হয়েছে।’

 

অলিগলিতে বাণিজ্যিক ভবন!

গুলশান, বনানী, নিকেতন ও কড়াইল বস্তি নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ড প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। প্রায় চার লাখ মানুষের এই এলাকায় শুধু কড়াইল বস্তিতেই বসবাস দেড় লাখ মানুষের। এই এলাকায় একদিকে যেমন উচ্চবিত্ত আছে; তেমনি নিম্নবিত্তেরও বসবাস। তবে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই ওয়ার্ডের অলিগলিতে দেখা মেলে নানা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দিন এসব এলাকা মুখরিত থাকে হাজারো তরুণের পদধ্বনিতে। বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউজুড়েই বহুতল সব ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা। কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে পরপর রয়েছে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এআইইউবি), সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, এশিয়া ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্সি ও রয়াল ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সবুজ ক্যাম্পাস না থাকায় রাস্তা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁয় চলে আড্ডা। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতে বাধে ব্যাপক যানজট। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, রাজধানীর বিশাল আয়তনের এই ওয়ার্ডে রয়েছে দেশের বহু ভিআইপির আবাসস্থল। নামে আবাসিক এলাকা হলেও দিন দিনই এটি বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঁচ তারকা হোটেল, মার্কেট ও অফিসের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এই ওয়ার্ডে। রাজউকের আইনে বলা আছে, আবাসিক এলাকার মধ্যে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু বনানী ও গুলশানে আবাসিক এলাকার মধ্যে রয়েছে অনেক বাণিজ্যিক ভবন। মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয় এসব উচ্ছেদে। পরে আবার ভাটা পড়ে উচ্ছেদ পরিচালনায়। ফলে বহাল তবিয়তে আছেন বাণিজ্যিক ভবনের প্রভাবশালী মালিকরা।

 

চলে মাদক ব্যবসাও

কড়াইল বস্তির কারণে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের আগ্রাসন দিন দিন বাড়ছে। মাদক ও গাঁজা সেবনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। কড়াইল বস্তির বাসিন্দা হাসমত আলী বলেন, আমাদের বস্তিতে মাদকের বিস্তার বাড়ছে। সন্ধ্যা হলেই গাঁজা সেবনের মাত্রা বেড়ে যায়। অনেক জায়গায় রাতের বাতি না থাকায় সেখানে গাঁজা সেবনে বসে পড়ে অনেকে। সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, গুলশান ও বনানী এলাকায়ও উঠতি বয়সী তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। 

 

দখল-দূষণ ও অন্যান্য সমাচার

দখল ও দূষণে গুলশান লেকের পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ায় ২০০১ সালে এই লেককে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। গুলশান লেক রক্ষায় আদালতেরও নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু তাতেও থামছে না দখল ও দূষণ। প্রতিদিন একটু একটু করে দখল হচ্ছে গুলশান লেক। লেক দখলের জন্য কৌশলে কচুরিপানা ফেলা হয়েছে। ইসিএ এলাকা ঘোষণার পরও লেকের চারপাশে বাসাবাড়ি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থা থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ হয়নি। সরেজমিনে ঘুরে বনানী ও গুলশান এলাকায় দেখা মিলল, বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে আসা ময়লা-আবর্জনা এসে পড়ছে লেকে। এতে পানির গুণগত মান এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, গুলশান লেক শুধু দখলই হয়নি, পয়োবর্জ্যসহ অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানির মানও নষ্ট হয়ে গেছে। পানির বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (বিওডি) নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। লেকের দুটি পয়েন্ট থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, লেকের পানির বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড প্রতি লিটারে পাওয়া গেছে ১৮ থেকে ২২ মিলিগ্রাম, যা কোনো অবস্থায়ই গ্রহণযোগ্য নয়। বিওডি নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেল, কড়াইল বউবাজার অংশে দখলদাররা বেপরোয়াভাবে জায়গা দখল করছে। লেকের মধ্যে অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ঘরবাড়ি ও অন্যান্য অবকাঠামো। লেক দখল করে দেওয়া হয়েছে রেন্ট-এ-কারের দোকান। কোনো কোনো প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে কৌশলে ইট, সুরকি, মাটি ফেলে লেক ভরাট করার অভিযোগও পাওয়া গেল স্থানীয়দের কাছ থেকে। কড়াইল বস্তির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালও প্রায় দখলের পথে। খাল সংকুচিত হতে হতে এখন নালায় পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ নেই। ওষুধ ছিটানো হয় না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা হাসমত আলীর।

তবে এত খারাপ খবরের মধ্যে একটি ভালো খবর হলো, গুলশান লেককে নতুন সাজে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি থেকে শুরু করে কড়াইল বস্তি হয়ে গাউসুল আযম মসজিদ পর্যন্ত লেক খনন করে সেটি পরে হাতিরঝিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আবু নাসের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গুলশান লেক নুতন করে সাজানো হচ্ছে। লেক খনন করে সেখানে পানি ছেড়ে হাতিরঝিলের মতো করা হবে। লেকের দুই পাশে ওয়াকওয়ে থাকবে। এখন যেমন পানির গন্ধ, লেকে নতুন পানি ছাড়লে আর গন্ধ থাকবে না। লেকে নৌকা চলবে। বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। মানুষ ময়লা-আবর্জনা যাতে লেকে না ফেলতে পারে, সে জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে।’

সার্বিক বিষয়ে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার এই ওয়ার্ডে একদিকে যেমন অভিজাত শ্রেণির বসবাস, অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তও রয়েছে। আছে কূটনৈতিক পাড়াও। ওয়ার্ডের বেশির ভাগ সমস্যাই সমাধানের পথে। এলাকায় কিছু মার্কেট ও পার্কের কাজ অবশিষ্ট আছে। সেগুলোর কাজ শেষ করতে পারলে আমার ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণা দেব।’ মাদকের বিস্তার সম্পর্কে জানতে চাইলে মফিজুর রহমান বলেন, ‘একসময় মাদকের ব্যাপক বেচাকেনা ও গাঁজা সেবনের আখড়া ছিল।

তবে এখন তা  অনেক কমে এসেছে। প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে আমরা সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। আর দখল যে হয় না, সেটা বলব না। বিশাল এলাকাজুড়ে লেক। সেখানে কিছু দখল তো হয়ই। তার পরও চেষ্টা করি দখল রোধে।’


মন্তব্য