kalerkantho


মিরপুর মাদরাসা সড়কের সংস্কারকাজে ধীরগতি

ভোগান্তির চরমে এলাকাবাসী

মো. হারুন অর রশিদ   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভোগান্তির চরমে এলাকাবাসী

‘রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ছয় মাস ধরে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। উন্নয়ন আমরা সবাই চাই; তবে উন্নয়নের নামে মাসের পর মাস ভোগান্তিতে ফেলে রাখবে—এটা সহ্য করা যায় না। ঠিক সময় কাজ শেষ করলে আমাদের এই দুর্ভোগে পড়তে হতো না। আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসায় চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ স্যুয়ারেজ পাইপ বসানোর নামে সড়ক খনন করে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখেছে। আবার কোথাও কোথাও নতুন পাইপ না বসিয়ে খননকৃত গর্তে মাটি ফেলে ভরাট করছে! স্কুলভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে যেন তামাশা করছে।’ ছয় মাস ধরে নিত্যদিনের দুর্ভোগের বর্ণনা দিতে গিয়ে এভাবেই বললেন মিরপুর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হামিদ উদ্দিন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাদরাসা সড়কে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এই চিত্র। পুরো সড়কের মাঝখানে স্যুয়ারেজ পাইপ বসানোর জন্য গর্ত খনন করে রাখা হয়েছে। সড়কের ওপরে পাইপ ফেলে জনগণের যাতায়াত বন্ধ করে ফেলেছে। সড়কের দুই পাশে একজন লোক হাঁটার মতো জায়গা রয়েছে। পাশাপাশি দুজন হাঁটতে গেলে যেকোনো মুহূর্তে বিপদ ঘটতে পারে। কাজীপাড়া থেকে সংযোগ সড়ক হিসেবে ১৪ নম্বর ক্যান্টনমেন্ট থেকে ইব্রাহিমপুর হয়ে (বেগম রোকেয়া সরণি) মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর সড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এটি ১০ ও ১৪ নম্বর প্রধান সড়কের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই সড়কে বেশকিছু গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে। মিরপুরের সবচেয়ে বড় কওমি মাদরাসা এই সড়কে অবস্থিত। এ কারণে সড়কটি মাদরাসা সড়ক নামে পরিচিত। সংস্কারকাজে ধীরগতির কারণে জনবহুল এই সড়কটিতে চলতে গিয়ে এলাকাবাসীসহ হাজার হাজার পথচারী পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয় মুদি দোকানি মজনু মিয়া বলেন, ‘এই সড়কের কাজ শুরু হয়েছে পাঁচ-ছয় মাস আগে। মাসের পর মাস সড়কটিতে মানুষ চলাচলে অনুপোযোগী থাকায় আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মানুষ যাতায়াত করতে না পারলে আমরা কার কাছে বিক্রি করব।’ স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, ‘ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের দুর্নীতির কারণে আজ আমরা এই ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। এলাকার প্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদরা বসে বসে তামাশা দেখছেন। শুধু এই সড়কই নয়, এ এলাকায় যে কয়টি সড়কের কাজ শুরু হয়েছে প্রতিটি সড়কেরই একই চিত্র। বিভিন্ন অজুহাতে তারা সড়ক উন্নয়নের নামে সড়ক খনন করে ফেলে রাখছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করলে এলাকাবাসীকে এত সমস্যায় পড়তে হতো না। আজ ওয়াসা স্যুয়ারেজ পাইপের জন্য খনন করবে আবার পাইপ বসানো শেষ হলে দেখবেন আরেক প্রতিষ্ঠান এসে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছে। সমন্বয়হীনভাবে কাজ করার ফলে এসব ঘটে। এতে আমাদের যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়, অন্যদিকে জনগণের অর্থেরও অপচয় হয়। আমাদের দুর্ভোগ দেখার মতো কেউ আছে বলে মনে হয় না!’

স্থানীয় যুবলীগ নেতা রাসেল আহমেদ বলেন, ‘ওয়াসা ও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে আমরা হতাশ। যদি স্যুয়ারেজ পাইপ বসাতে এত সময় লেগে যায়, তবে সড়কের বাকি কাজ কবে হবে? অনেক জায়গায় পাইপ না বসিয়ে মাটি ভরাট করেছে! এ ছাড়া যে পাইপ এনেছে তা-ও আবার নিম্নমানের। এই নিম্নমানের কাজ ও দীর্ঘ সময় নিয়ে ধীরগতিতে কাজের জন্য আমি কাউন্সিলর ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র মহোদয়ের কাছে পর্যবেক্ষণের আবেদন করেছি। আমি সরকারদলীয় রাজনীতি করি; তাই বলে এ ধরনের জনভোগান্তি ও নিম্নমানের কাজ মেনে নিতে পারি না। আমরা রাজনীতি করি জনগণের স্বার্থে। কিছু অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে সরকারের ভাবমূর্তি যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে আমাদেরই খেয়াল রাখতে হবে।’

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি কখনো আমার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করি না। পাইপের মান ওয়াসার প্রকৌশলী দ্বারা পরীক্ষিত। আমার কাজ প্রতিদিনই চলে। যাঁরা বলেছেন কাজের মান খারাপ ও কাজ ধীরগতিতে চলে, তাঁরা ঠিক বলেননি। একটি পাইপ বসাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। শুধু পাইপ বসালেই হয় না, তার সঙ্গে আনুষঙ্গিক কাজও করতে হয়। তাই অনেকে মনে করে, কাজ ধীরগতিতে চলছে। এক দিনে দুই-তিনটির বেশি পাইপ বসানে যায় না। তাই সময় একটু বেশিই লাগছে।’

১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘আমরা শিগগিরই সড়কের কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি জনগণের সেবক, আমার ওয়ার্ডের জনগণ কষ্ট পাক, তা চাই না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার এলাকা থেকে দখলবাজ, মাদক, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসীসহ যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড দমনের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছি। এরই মধ্যে এই কমিটির সদস্যরা তাঁদের কার্যক্রম শুরু করায় এলাকা থেকে অনেকাংশ মাদক ব্যবসা, ছিনতাইসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড কমে গেছে। আমি চাই আমার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ও আধুনিক ওয়ার্ডে পরিণত করতে।’



মন্তব্য