kalerkantho


রাজধানীতে বড় আতঙ্ক টানা পার্টি

বিশ্বের বড় বড় শহরের মতোই ঢাকায়ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। তবে পরিসংখ্যানের মানদণ্ডে কমছে অপরাধের হার। এর মধ্যেও কিছু অপরাধ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ফেলেছে প্রশ্নের মুখে। তেমনই একটি ছোঁ মেরে ছিনতাই বা ‘টানা পার্টি’। সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া এ অপরাধে নাগরিক নিরাপত্তা পড়েছে হুমকির মুখে। ভুক্তভোগীরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। আলোচিত ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপের কথা বলছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর বেপরোয়া ছিনতাই পরিস্থিতি নিয়ে লিখেছেন এস এম আজাদ

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীতে বড় আতঙ্ক টানা পার্টি

অঙ্কন : বিপ্লব

২ জানুয়ারি। রাত ১টা। রাজধানীর ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল রোডে রিকশায় উঠছিলেন এক যাত্রী। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার পেছন থেকে আসে। গাড়িটি রিকশার কাছে যেতেই গতি কিছুটা কমে যায়। আর ভেতর থেকে একজন হাত বাড়িয়ে ছোঁ মেরে রিকশাযাত্রীর কাঁধে থাকা ব্যাগটি নিয়ে দে ছুট! শুধু দর্শকের মতো গাড়িটির চলে যাওয়া দেখছিলেন সেই যাত্রী। তিনি হারালেন টাকাসহ মূল্যবান কিছু জিনিসপত্র। এই ঘটনার ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী ল্যাবএইড হাসপাতালের গণসংযোগ শাখার ব্যবস্থাপক মেজবাহ যায়াদ। ঘটনার পর তিনি শুনেছেন, ধানমণ্ডি এলাকায় সেই ‘সাদা গাড়ির’ কবলে পড়েছেন অনেক রিকশাযাত্রী ও পথচারী।

শুধু এই হাসপাতাল কর্মকর্তা নন, রাজধানীর অনেক বাসিন্দাই এমন ঘটনার শিকার হচ্ছেন নিত্যদিন। ভুক্তভোগীরা তাঁদের মতো অনেকের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও শুনছেন। সম্প্রতি মায়ের কোলে থাকা এক শিশুসহ তিনজন ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে নিহত হওয়ায় ব্যাপক তোলপাড় হয়েছে। নগরজীবনে তৈরি হয়েছে নতুন আতঙ্ক। নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। কিছু ‘ছিনতাইকারী’ও ধরা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকাসক্তরাই ছোঁ মেরে ছিনতাই বা টানা পার্টির কাজ করছে। এদের ৯৮ শতাংশই মাদকাসক্ত। শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ছিনতাই স্পটগুলোও শনাক্তের দাবি পুলিশের। তবে গত দুই সপ্তাহে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবস্থার কোনো উন্নতি ঘটেনি। ‘মাদকাসক্ত’ ছিনতাইকারীদের নির্মূলে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। প্রতিদিনই ঘটছে এমন ঘটনা। অভিযোগ করলেও মিলছে না প্রতিকার। ছিনতাইকৃত জিনিসপত্র উদ্ধারের নজিরও কম। কালের কণ্ঠ’র ঢাকা ৩৬০ ডিগ্রির অনুসন্ধানে জানা গেছে—শুধু মাদকসেবীরা নয়, মৌসুমি কিছু ছিনতাইকারী অপকর্মে নেমেছে। তাদের মধ্যে আছে পাড়া-মহল্লার বখাটে তরুণ, একটি সংগঠনের ছাত্রনেতা, উচ্চাভিলাষী বেকার যুবক ও পরিবহন চালক-শ্রমিক। অনেকে খণ্ডকালীন কাজ হিসেবে নিয়েছে। ঢাকার কয়েকটি এলাকায় মোটরসাইকেল ও সাদা রঙের প্রাইভেট কারে বেশি ছিনতাই হচ্ছে। ছিনতাই প্রতিরোধে টহল, তল্লাশিসহ পুলিশের তত্পরতা চোখে পড়ছে না নগরবাসীর।

যাত্রাবাড়ী এলাকার দয়াগঞ্জে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মারা যায় শিশু আরাফাত

টানা পার্টিতে ‘খণ্ডকালীন ছিনতাইকারী’

২ জানুয়ারি মিরপুরের বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে রিকশাযাত্রীর ব্যাগ টান দিতে গিয়ে পথচারীদের ধাওয়া খেয়ে রাস্তায় মোটরসাইকেল নিয়ে পড়ে যায় ফয়সাল রহমান সোহেল (৩০) নামে এক ছিনতাইকারী। পরে জনতা গণধোলাই দিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে। চেহারায় সুদর্শন ‘ভদ্রলোক’ সোহেল ছিনতাইকারী নয় বলে দাবি করে। একপর্যায়ে উত্তর কাফরুলের মিতালী হাউজিংয়ের ১৬ নম্বর বাড়িতে সোহেলের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে অবাক হয়ে যায় পুলিশ। সেখানে ৬০টি ভ্যানিটি ব্যাগ ও পার্স মেলে। এসব ব্যাগে স্বর্ণালংকার, ২৫০টি চাবি, প্রায় ২৪ হাজার টাকা, বিভিন্ন মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র, অনেক ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং ৫০-৬০টি সিম ছিল। নগরবাসী এক দুর্ধর্ষ টানা পার্টির সদস্যকে ধরে দিলেও পুলিশ তদন্ত করে বেশি এগোতে পারেনি। ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলেও আদালত সোহেলের দুই দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি না দিয়ে জেলে থাকা সোহেল এখন জামিনে মুক্তির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই ওয়াহিদুল হাসান সুমন বলেন, ‘চতুর সোহেল তথ্য দেয়নি। মনির নামে এক সহযোগীর নাম বললেও ঠিকানা দেয়নি। সে তিন মাস হয় অপকর্ম করছে বলে দাবি করে। তবে আমরা আরো বেশি দিন ধরে করার তথ্য পেয়েছি। সে মিরপুরে ছিনতাই করত।’ তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সোহেলের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানাধীন বসনিটোলায়। তার বাবা মজিবর রহমান আগে থানা শিক্ষা অফিসার ছিলেন। তার মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। সোহেল আগে বায়িং হাউসে চাকরি করত। চাকরি ছেড়ে সে খণ্ডকালীন ছিনতাই শুরু করে। পরিবারের কেউ তার এ অপকর্ম সম্পর্কে জানত না। স্ত্রীকেও গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে সোহেল। জাতীয় পরিচয়পত্রে সোহেলের ঠিকানা রাজশাহী। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত তার মোটরসাইকেলটিও চোরাই। এসআই ওয়াহিদুল হাসান সুমন বলেন, ‘অনেক ব্যাগ ও মোবাইল সিম ছিল। এসব ধরে তদন্ত করতে পারিনি। তবে খবর পেয়ে দুজন এসে সোহেলকে শনাক্ত করেছে। এক নারীর ব্যাগ টেনে নিয়েছে আনসার ক্যাম্প এলাকা থেকে। আর এক ব্যক্তির ব্যাগ নিয়েছে মিরপুর ১ নম্বর থেকে। তাঁরাও সাক্ষি দেবেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহেলের মতোই খণ্ডকালীন অপরাধীরা এখন টানা পার্টির কাজ করছে। এসব কাজে স্থানীয় ছাত্রলীগকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, পাড়ার বখাটে ছেলে, পরিবহনের চালক ও শ্রমিক জড়িত। এলাকাভিত্তিক গ্যাং গ্রুপ গড়ে উঠেছে। গত বছরের ৮ নভেম্বর একটি ছিনতাইকারী গ্রুপ রায়ের বাজারে প্রতিপক্ষের সাব্বিরকে হত্যা করে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মিরপুর থেকে ছিনতাইকারী চক্রের হোতা গোপালগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা তুহিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তুহিন মিরপুর কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ব্যাগ ছিনিয়ে নিত।

 

কালশী সড়কে ভয়ংকর সাদা গাড়ি

গত ৩০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টা। মিরপুর কালশী সড়কের কাজী ফুড ভিলেজ থেকে বের হয়ে রিকশায় করে ইসিবি মোড়ের বাসায় ফিরছিলেন একটি পাঁচ তারকা হোটেলের ইন্টার্ন শেফ জাহানাতুন জান্নাত। কিছুদূর যেতেই একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার এসে রিকশার পাশে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রাইভেট কারের পেছনের আসনে বসা একজন জানালা দিয়ে ছোঁ মারে। হ্যাঁচকা টানে জান্নাতের কাঁধের ব্যাগটি হাতল ছিঁড়ে চলে যায়। প্রচণ্ড ব্যথা পেলেও রিকশা ধরে ছিটকে পড়া থেকে রক্ষা পান তিনি। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জান্নাত জানিয়েছেন ভয়ংকর তথ্য। তাঁর ব্যাগে কিছু টাকা, আই ফোন ৫, পেশাগত ও জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ক্যান্টনমেন্ট ও পল্লবী থানা পুলিশ এবং র‌্যাব ৪-কে ঘটনা জানান তিনি। তবে কোনো সহায়তাই পাননি। পরদিন ক্যান্টনমেন্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার চিন্তা করছিলেন। এরই মধ্যে রাতে তাঁর এক সহকর্মী ফেসবুকে জানান, কেউ একজন তাঁর ব্যাগ পেয়েছে। পরদিন কর্মস্থলে গিয়ে জান্নাত জানতে পারেন, এক সেনা সদস্য ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় তাঁর ছোট পার্সটি পেয়েছেন, যেখানে সব পরিচয়পত্র আছে। সেই সূত্রে তিনি হোটেলে ফোন করেছেন। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ওই সেনা সদস্য জান্নাতুলকে ব্যাগটি পৌঁছে দেন। সেনা সদস্য জানান, তিনি সম্প্রতি বনানী ফ্লাইওভারের নিচে কয়েকটি ব্যাগ ও মানিব্যাগ পেয়েছেন। ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা রাতে কালশীর দিক থেকে যাওয়ার সময় ফ্লাইওভারের নিচে ব্যাগ ফেলে যায়।

কালশী সড়কের কাজী ফুড আইল্যান্ডের কর্মী আল আমিন বলেন, ‘আমাদের কয়েকজন কাস্টমার বলেছেন, এই রাস্তায় তাঁরা একটি সাদা গাড়ির টানা পার্টির কবলে পড়েছেন।’ অনুসন্ধানে জানা গেছে, রমনা, পল্টন, হাইকোর্ট মোড়, ধানমণ্ডির মোহাম্মদপুর রোড, মিরপুর রোড, এলিফ্যান্ট রোড ও মৌচাক এলাকায়ও সাদা গাড়িতে টানা পার্টি সক্রিয়। জানতে চাইলে পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির বাস্তবতা অস্বীকার করে বলেন, ‘এমন কোনো অভিযোগ নেই। এখানে পরিবেশ ভালো।’ তবে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই এমন কথা শোনা যায়। তবে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন না। চক্রটি বাইরে থেকে এসে অপকর্ম করে চলে যাচ্ছে।’

ছিনতাই করা ভ্যানিটি ব্যাগসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ছিনতাইকারী সোহেল

যেসব স্থান চরম ঝুঁকিপূর্ণ

ঢাকা ৩৬০ ডিগ্রির অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরের কলেজগেট থেকে রিংরোড, কল্যাণপুর, গাবতলী থেকে মিরপুর-১, আগারগাঁওয়ের সংযোগ সড়ক, খিলক্ষেত থেকে বিমানবন্দর সড়ক, কালশী রোড, মৌচাক মার্কেট থেকে মগবাজার, সদরঘাট থেকে সূত্রাপুর-দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, উত্তরা থেকে আব্দুল্লাহপুর, ঝিগাতলা থেকে রায়ের বাজার-শঙ্কর, মিরপুরের রূপনগর-বেড়িবাঁধ, গুলিস্তান থেকে পল্টন, সার্ক ফোয়ারা থেকে রমনা পার্ক, কাঁটাবন-নীলক্ষেত, পলাশী-আজিমপুর এবং যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড়-শ্যামপুর এলাকায় টানা পার্টি বেশি সক্রিয়।

 

সড়কে নজরদারির ফাঁক

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চৌকির (চেকপোস্ট) ব্যবস্থা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে এসব চেকপোস্টে নিয়মিত নজরদারি নেই। অনেক স্থানে চেকপোস্টে তল্লাশি না করে গাড়ির কাগজপত্র দেখায় ব্যস্ত থাকেন পুলিশ সদস্যরা। ট্রাফিক পুলিশে কাজ করা অপরাধ বিভাগের পুলিশ অসময়ে ট্রাক পেলে বা কাগজপত্রহীন গাড়ি পেলে টাকা আদায় করে বলেও অভিযোগ আছে। এ সুযোগে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে ছিনতাই করা ব্যাগ নিয়ে অনায়াসে চলে যায় টানা পার্টি। ভোরে ও বিকেলে টহল ও তল্লাশি থাকে না বেশির ভাগ এলাকায়। সরেজমিনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

 

কঠোর হলেও মেলেনি সুফল

গত ১৮ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জে রিকশার আরোহী দম্পতির ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আরাফাত নামে তাদের ছয় মাস বয়সের শিশু ছিটকে রাস্তায় পড়ে মারা যায়। গত ২৯ নভেম্বর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) চিকিৎসক ফরহাদ আলম কর্মস্থল থেকে রিকশায় বাসায় যাওয়ার পথে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী ছোঁ মেরে তাঁর ব্যাগ নিয়ে যায়। রাস্তায় ছিটকে পড়ে নিহত হন চিকিৎসক ফরহাদ। এসব ঘটনা প্রকাশ হলে ডিএমপি কমিশনার ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। টানা অভিযানে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২৬ ডিসেম্বর ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ১ জানুয়ারি মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় পুলিশের গুলিতে সুজন নামে এক অভিযুক্ত ‘ছিনতাইকারী’ আহত হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর ওয়ারী এলাকায় পুলিশের গুলিতে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। যে স্থানে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়, এর কাছেই গত ৮ অক্টোবর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খন্দকার আবু তালহা ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এরপর উল্লেখযোগ্য ঘটনা না ঘটলেও টানা পার্টির দৌরাত্ম্য কমেনি। প্রতিদিনই নতুন ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 

মাদকাসক্তরাই বেশি করছে, তবে...

৫৬ জন ‘ছিনতাইকারী’ গ্রেপ্তারের পর ডিবি মাত্র তিনটি চাপাতি, দুটি চাকু ও একটি চাইনিজ কুড়াল জব্দ করে। কোনো আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ঘটনায় জড়িত থাকা এবং জিনিসপত্র উদ্ধারের তথ্য দিতে পারেনি। ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘টানা পার্টির সদস্যদের ৯৮ শতাংশই মাদকসেবী। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা ছিনতাই করে।’ এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণহীন এবং মাদকসেবীদের কারণেই কি বাড়ছে ছিনতাই? তাহলে এটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন পুলিশ। এমন প্রশ্নে বাতেন বলেন, ‘এটা রিসার্চের ব্যাপার। এমনিতে বলা সম্ভব নয়। তবে ছিনতাই ও মাদক উভয় ব্যাপারেই আমরা অভিযান চালাচ্ছি।’

 

 

দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত

আব্দুল বাতেন

যুগ্ম কমিশনার, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)

অনেক ঘটনা আছে, যেগুলো পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয়নি। ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে এমনটি হয়। একটি মোবাইল ও সামান্য কিছু টাকা নিলে অনেকে পুলিশের কাছে যান না। কারো ১০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন নিয়ে সিম ফেলে দিয়ে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় ছিনতাইকারীরা। আবার ব্যাগে সামান্য যে টাকা পাওয়া যায়, তা রেখে ব্যাগ ফেলে দেয়। একেক সময় একেক ধরনের অপরাধ প্রকট হয়ে দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে টানা পার্টি বা ছিঁচকে টাইপ ছিনতাই বেড়েছে। ডিবি সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও এখন টানা পার্টি নিয়ে কাজ করছে। আমরা স্পটগুলো শনাক্ত করেছি। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার শিকার হলে প্রত্যেকেরই দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত। রিপোর্ট না করলে আমরা তদন্ত করতে পারব না।



মন্তব্য