kalerkantho


নগরজীবন

ঢাকায় পথ চলতে গা ছমছম করে

মো. রুমন, বিক্রয়কর্মী, আদাবর, ঢাকা

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকায় পথ চলতে গা ছমছম করে

ঢাকায় কবে এলেন?

ঢাকায় আসছি এ মাসের ৯ তারিখে। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অনার্সে পড়ি। ঠিকমতো ক্লাস হয় না, শুধু পরীক্ষা দিই। ভাবলাম, ঢাকা শহর চেনা দরকার। কারণ চাকরির জন্য কোনো না কোনো সময় তো ঢাকায় আসতেই হবে। তাই ঢাকায় আসা। ঢাকায় এবারই আমার প্রথম আসা। এর আগে কখনো আসিনি।

 

ঢাকায় এসে কোথায় উঠেছেন?

আমার পরিচিত এক ভাইয়ের কাছে। সে-ই বলেছে এই দোকানে কিছু দিন বেচাকেনার কাজ করতে। তারপর দোকান থেকেই পথঘাট চিনতে হবে। ছয় মাস কোনো বেতন পাব না। থাকা-খাওয়া ফ্রি পাচ্ছি। ভালোমতো কাজ পারলে তখন থেকে বেতন দেবে। এখন কাজ শিখছি, ঢাকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

 

ঢাকায় কী চাকরি করতে চান?

সাংবাদিকতা আমার পছন্দের পেশা। আমার জেলা মেহেরপুরেও অনেক সাংবাদিক আছেন। তাঁদের নামডাক আছে, কাউকে কাউকে খবরেও দেখানো হয়। ওই থেকে সাংবাদিকতা করার ইচ্ছা। কিন্তু সাংবাদিকতা করতে গেলে কম্পিউটার চালানো শিখতে হবে। ভাবছি, কম্পিউটার শেখার জন্য কোথাও ভর্তি হওয়া দরকার।

 

ঢাকায় আপনি নতুন, কেমন লাগছে?

ভালোই লাগছে। তবে আমরা তো গ্রামের মানুষ, অনেকের চোখে বোকাসোকা দেখায়! আমি এমন একটা ছেলে, কারো সঙ্গে কখনো উচ্চ স্বরে কথা বলিনি। একটা জিনিস বুঝেছি, ঢাকায় বোকাসোকা থাকলে কোনো লাভ নেই। যে যত চালাক, ঢাকায় তার তত সুবিধা। শহরে থাকতে গেলে চালাক হতে হয়। আমিও আস্তে আস্তে ঢাকার পরিবেশ বোঝার চেষ্টা করছি, চালাক হওয়া শিখছি।

 

ঢাকায়ই থাকবেন?

মা তো প্রতিদিনই ফোন করে বলেন, বাড়ি চলে আয়। কিন্তু আমি তো বড় হচ্ছি। ঢাকায় চাকরি করতে হবে। চিন্তা করছি, ভালো একটা চাকরিও জোগাড় করতে হবে। এখন তো দোকানে কাজ করছি। মহাজন যদি চলে যেতে বলেন, তো চলে যেতে হবে। কারণ মহাজন ছাড়া তো আর কাউকে চিনি না। তবে মহাজন বলেছেন, তিনি আমারে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন।

 

রাতে চলাফেরা করেন, ভয় লাগে না?

সত্যি কথা বলতে, ঢাকায় পথ চলতে আমার ভয়ে গা ছমছম করে। মনে হয় কেউ যদি ছিনতাই করে পকেটের টাকা কেড়ে নেয়! তবে ছিনতাইকারী ধরলেও আমার কাছ থেকে বেশি কিছু নিতে পারবে না। আমি পকেটে টাকা বেশি রাখি না। আর এই ভয়ে মোবাইলটাও ব্যবহার করি কম দামি।

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণে : কবীর আলমগীর, ছবি : জান্নাতুল ফেরদৌস শিপন



মন্তব্য