kalerkantho


ঢাকার অতিথি

ঢাকা একটি গ্যাস চেম্বার

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকা একটি গ্যাস চেম্বার

বাংলাদেশের রাজধানী শহর হিসেবে ঢাকা বেশ অস্বাস্থ্যকর। এই শহরের নিয়ন্ত্রকরা মোটেও স্বাস্থ্যসচেতন নন। এখানে দীর্ঘদিন মানুষ থাকলে শারীরিক সমস্যা দেখা দেবে। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বসবাস উপযোগী নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত

চীনের কেউ শারীরিক কসরত করছে, মানেই ধরে নেওয়া হয় সেটা মার্শাল আর্ট! কুংফু, কারাতের নৈপুণ্যই তার কাছ থেকে আশা করা হয়। কিন্তু চীনা ইফান সিংহ রাজা মার্শাল আর্ট নয়, যোগ ব্যায়ামের প্রশিক্ষক। বাংলাদেশে এসেছিলেন ভ্রমণ করতে। তাঁর বাংলাদেশ পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতা শুনে লিখেছেন শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

 

ব্যায়াম করলে শরীর ভালো থাকে, মন চাঙ্গা হয়। এটা সবারই জানা। ইফান সিংহ রাজার শরীরও বেশ শক্তপোক্ত। গোলগাল ও মজবুত। হাঁটতে পারেন অনেক পথ। সাইক্লিং করতে পারেন অনবরত। বাংলাদেশে এসে তিনি তাই করেছেন। ইফানের বাড়ি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের দক্ষিণ এলাকায় প্যানজিহুয়া শহরে। তিনি থাকেন শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলের কালুতারা জেলার হোরানায়। ওখানে যোগ ব্যায়ামের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। যোগ ব্যায়ামের সুবাদে ভারতের সঙ্গে ইফানের যোগাযোগ ভালো। প্রায় সময়ই ভারতে যান। সেখান থেকে এসেছিলেন বাংলাদেশে। ইফান বললেন, ‘না, যোগ ব্যায়ামসংশ্লিষ্ট কোনো কাজে বাংলাদেশে আসিনি। এসেছি ভ্রমণ করতে।’

কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন? ‘প্রথমে এসে রাজধানী শহর ঢাকায় নামতে হয়েছে। পরে সেখান থেকে ভোলা গিয়েছিলাম। ওখানে মনপুরা নামে একটা দ্বীপ আছে। বড় একটি জাহাজে করে নিশিদল নামের এক দলের সঙ্গে সেখানে যাওয়ার সৌভাগ্য হয় আমার।’

ঢাকা পরিভ্রমণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজধানী শহর হিসেবে ঢাকা বেশ অস্বাস্থ্যকর। এই শহরের নিয়ন্ত্রকরা মোটেও স্বাস্থ্যসচেতন নন। এখানে দীর্ঘদিন মানুষ থাকলে শারীরিক সমস্যা দেখা দেবে। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বসবাস উপযোগী নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।’ যোগ ব্যায়াম করলে কিছুটা উপকার পাওয়া যাবে কি? ‘ব্যায়াম করলে অবশ্যই শরীরের উন্নতি হয়। ঢাকার লোকেরাও এটা করতে পারে। যোগ ব্যায়াম বহু পুরনো পদ্ধতি। এটা অনুশীলন করলে শরীরকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে সব সুস্থতার জন্য পরিবেশটাও জরুরি।’

ঢাকার পরিবেশ উন্নতিতে কোনো পরামর্শ? ‘প্রচুর গাছপালা দরকার। মুক্ত বাতাস দরকার। বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ কমাতে হবে। শহরকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। কিন্তু এটা কি এখন সম্ভব?’ মনপুরা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মনপুরায় ছিলাম দুই দিন। দারুণ লেগেছে। ঢাকা থেকে গিয়ে যখন মনপুরায় নামলাম, মনে হলো মানুষ হত্যা করার একটা গ্যাস চেম্বার থেকে বের হয়ে স্বর্গে গিয়ে নেমেছি। ঢাকাকে আমার কাছে মনে হয়েছে একটি গ্যাস চেম্বার।’

আর? ‘জায়গাটা আসলেই স্বর্গের মতো। নদীর ঢেউ, ঢেউগুলো আছড়ে পড়ছে হরিণভর্তি বনে। বনের একটা পাশ ভেঙে পড়ছে। আর দ্বীপের অন্যপাশটা খোলা। বিরান ভূমি। পশু চরে বেড়াচ্ছে। চমৎকার অনুভূতি।’ দ্বীপের মানুষদের কেমন মনে হলো? ‘দ্বীপের লোকেরা প্রথমে আমাকে বিদেশি হিসেবেই ভাবতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি সেই সুযোগ দিইনি। আমি বরাবরই চঞ্চল। অন্যদের মতো রক্ষণশীল নই। আমাকে দেখে মানুষ ভিড় করেছিল। কিন্তু যখন নানা কৌশলে তাদের সঙ্গে মিশে গেছি, তখন ওরা আমাকে নিজেদের একজন ভাবতে শুরু  করে।’

কিভাবে মিশলেন? ‘এই ধরুন, প্রথমবার যখন খেয়াল করলাম মানুষ আমাকে দেখে জড়ো হচ্ছে। মোটেও বিব্রত হইনি। বরং ওদের বিব্রত করে দিয়েছি। ওদের সামনেই যোগ ব্যায়ামের কসরত দেখাতে শুরু করলাম। পরে সবাই আমার ব্যায়ামে মুগ্ধ হয়ে গেল। কিছু সময় পর মানুষের জটলা থেকে অনেকেই এসে আমার সঙ্গে ব্যায়াম করতে শুরু করল। আরেকবার আমার সঙ্গীরা একটি স্থানীয় ইঞ্জিনচালিত বাহনে করে দ্বীপের একদিকে যাচ্ছিল। আমি দেখলাম দুটি বাচ্চা ছেলে বাইসাইকেল চালিয়ে আসছে। ওদের কাছ থেকে সাইকেল কেড়ে নিলাম। ওরা হতভম্ব হলো। একজন বিদেশির কাছ থেকে এমন ব্যবহার আশা করেনি। সাইক্লিং করতে করতেই কিছু সময়ের জন্য সঙ্গীদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম। পরে ওই দুই বাচ্চা ছেলের সহযোগিতায়ই একসঙ্গে হতে পেরেছি। আমার এমন আচরণে স্থানীয়রা আমাকে দূরের লোক ভাবার সুযোগ পায়নি।’



মন্তব্য