kalerkantho


সিপিসি মেলা

বিদেশি প্রতিনিধিদের পদচারণে মুখরিত

নিখিল ভদ্র   

৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বিদেশি প্রতিনিধিদের পদচারণে মুখরিত

কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্স (সিপিসি) মেলায় ঢোকার মুখেই উষ্ণ অভ্যর্থনা। জয়িতা ফাউন্ডেশনের নারী উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি একটি কোটপিন পরিয়ে দিল পরম যত্নে।

পাশে বঙ্গবন্ধু কর্নার। স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ছবি, চিত্রকর্মগুলো প্রর্দশিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালনায় কর্নারটিতে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন আলোকচিত্রের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচাসহ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই ইত্যাদি। এসব উপকরণ দিয়ে সহায়তা করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। বঙ্গবন্ধু কর্নারে ভিডিও চিত্রে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ তাঁর জীবনীর ওপর নানা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও মাঝেমধ্যে স্বাধীন বাংলা বেতারের গান বাজানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে বেশ স্বল্প পরিসরে হলেও মেলার ভেতরে দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের পদচারণা, এ দেশি পণ্যের প্রতি বিদেশিদের আকর্ষণ, এ যেন অন্য এক বাংলাদেশ, একেবারেই ভিন্নভাবে পরিচিত হচ্ছে বিশ্ব দরবারে।

ঢাকায় শুরু হওয়া কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) সম্মেলনে বাংলাদেশি পণ্যের মেলা বসেছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার (বিআইসিসি) চত্বরে মোট ২২টি স্টল খোলা হয়েছে। যেখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিযোগ্য খাত তৈরি পোশাক শিল্প, পাটজাত পণ্য, সিল্ক শিল্প, চামড়াজাত শিল্প, অলংকারসামগ্রী, তাঁত, টেরাকোটা, মৃিশল্প, খাদ্যসামগ্রী, দেশীয় কুটিরশিল্প, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য।

প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে ৩০ বছরের পুরনো জামদানি শাড়ি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেলার ২২টি স্টলের মধ্যে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ দেশীয় বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও অংশ নিয়েছেন। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশি পণ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। প্রদর্শনীর পাশাপাশি কেনাকাটারও ব্যবস্থা রয়েছে বেশ কিছু স্টলে। সিপিএ সম্মেলনে আসা বিদেশি অতিথিদের মুদ্রা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের একটি বুথও রয়েছে মেলায়। মেলায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জয়িতা ফাউন্ডেশন, মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। রবিবার দুপুরে এই মেলার উদ্বোধন করেন সিপিএ চেয়ারপারসন ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

দেশি পণ্যকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করাই মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য উল্লেখ করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেলায় আগত প্রতিনিধিদের পণ্য কেনার পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের বিষয়ে তাঁদের আগ্রহ তৈরি হবে। এতে করে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির পথও উন্মুক্ত হবে। ’

মেলার দোকানিরা জানালেন, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চলে। সারা দিন বিভিন্ন সেশনের ফাঁকে ফাঁকে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা মেলায় আসছেন, ঘুরে দেখছেন। সিল্ক হাউসের বাংলাদেশের মানচিত্র ও বাংলা বর্ণমালা খচিত টাই, ছোট হাতব্যাগ (পার্স) স্যুভেনির, প্রিয়জনের জন্য উপহার কিংবা নিজের জন্য কেনাকাটাও করছেন অনেকেই। বিশেষ করে হস্ত ও কুটির শিল্প ও পাট ও চামড়াজাত দ্রব্যের স্টলে অতিথিরা বেশি ভিড় জমাচ্ছেন। আজ ৮ নভেম্বর মেলার শেষ দিন। ’

মেলায় অংশ নিয়েছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত এসএমই ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য একত্রিত করে মেলায় প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন। এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক আবু মনজুর সাইফ কালের কণ্ঠকে জানান, ‘এসএমই ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করে। তাঁদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা উদ্যোক্তাদের তৈরি করা পণ্য মেলায় নিয়ে এসেছে। এসএমই ফাউন্ডেশন বিষয়টি সমন্বয় করছে। প্রতিটি পণ্য যে উদ্যোক্তা তৈরি করেছেন, তাঁর নামেই বিক্রি ও প্রদর্শন করা হচ্ছে। ’ চামড়াজাত পণ্যের উদ্যোক্তা গুজ লিমিডেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিতা বোস কালের কণ্ঠকে জানান, বাংলাদেশি পণ্য বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলতে তাঁর প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে।

চামড়াজাত পণ্যের পুরোটাই এই দেশীয়। বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের কদর বিশ্বব্যাপী। এই মেলা উপলক্ষে গুজ সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্যগুলো বিক্রি করবে বলে তিনি জানান।


মন্তব্য