kalerkantho


ঢাকার অতিথি

ঢাকায় উৎসবের শত রং

মোহাম্মদ ইজাজ। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোরে তাঁর জন্ম। প্রায় ৩৮ বছর ধরে ব্যাংকিং পেশায় রয়েছেন। এর আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে ঢাকায় প্রথম আসা। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে দায়িত্বরত। এ দেশে তাঁর যাপিত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা পাঠকের কাছে তুলে ধরেছেন হোসাইন মোহাম্মদ জাকি

৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকায় উৎসবের শত রং

‘বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রাণবন্ত, বন্ধুবৎসল ও অতিথিপরায়ণ। যে কারণে ঢাকায় কখনো একাকিত্ব বোধ হয়নি আমার।

কর্মস্থলেও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। নদীমাতৃক এই দেশের একটি অন্য রকম সৌন্দর্য রয়েছে। নগরের কেন্দ্রে থাকা হাতিরঝিলের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উদ্যানগুলোকে আরো পরিপাটি, সুবিন্যস্তরূপে রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে। নির্মল পরিবেশে বুক ভরে নিঃশ্বাস, শরীরচর্চা, বৈকালিক ও প্রাতর্ভ্রমণের জন্য এই উদ্যানগুলো হতে পারে সর্বসাধারণের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র। ’

ঢাকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কোন অংশটি আপনাকে মুগ্ধ করেছে? এমন প্রশ্নের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে ইজাজ বলেন, ‘একজন মুসলমান হিসেবে এখানকার মসজিদের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। কিছু দূর যেতে না যেতেই মসজিদ। বেশির ভাগ লোক বেশ ধর্মপরায়ণ। ঢাকায় উৎসবের শত রং।

ঈদে পরিবার নিয়ে ঢাকার রাস্তায় ঘুরেছি। এ ছাড়া পহেলা বৈশাখ ও বসন্ত উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা এবং লাল-সাদাসহ উজ্জ্বল সব রঙে সজ্জিত নগরীর মানুষ আমাকে মোহিত করেছে। আর আমি তো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন ফ্যান। সাকিব ও মুশফিকের ব্যাটিং আমার ভালো লাগে। ফাস্ট বোলার তাসকিনের বোলিং তো রীতিমতো উপভোগ করার মতো। বাংলাদেশটা আমার কাছে স্বদেশের মতোই। এখানকার সংস্কৃতি, জীবনাচার, আবহাওয়াসহ অনেক কিছুর সঙ্গেই আমাদের দেশের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। ’

বাংলা ও উর্দু উভয় চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় নায়িকা শবনমের ছবি দেখার সুযোগ ঘটেছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে ইজাজ বলেন, “তাঁর অভিনীত বেশ কিছু মুভি দেখেছি। লাডলা, চান্দা, তালাশ ও আয়না চলচ্চিত্রে শবনমের অভিনয় ছিল হৃদয়ছোঁয়া। সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার গাওয়া বহু গান শুনেছি। ‘দমা দম মাস্ত কালান্দার...’ সময় সময় নিজের অজান্তেই মনের মধ্যে বেজে ওঠে। ”

পছন্দের খাবারের ব্যাপারে জানতে চাইলে উচ্ছ্বসিত হয়ে ইজাজ বলেন, ‘এখানকার রোস্টেড বিফ, বিরিয়ানি, বিশেষত হাজির বিরিয়ানি, দই বিশ্বসেরা। এ ছাড়া মাছের মধ্যে ইলিশ ও পাবদা আমার বেশ পছন্দের। এ দেশের আনারস ও ডাব বেশ সুস্বাদু। তবে কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্যতার বিষয়টি আরো ফোকাস পাওয়া উচিত। বাংলাদেশের পানি, মাটি ও জলবায়ুর গুণগত মান বিচারে সরকারি-বেসরকারি খাতে কৃষি-অর্থনীতির ওপর অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একবার লঞ্চযোগে সদরঘাট থেকে বরিশাল গিয়েছিলাম। সেইবার বুড়িগঙ্গার পানিদূষণের মাত্রা দেখে বেশ আহত বোধ করেছি। এ ছাড়া অন্যান্য সমস্যার কথা বলতে বললে বলব, ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে নিষ্ফলা কর্মঘণ্টাগুলোকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ মালয়েশিয়াকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। অন্যদিকে এ দেশে মানসম্মত চিকিৎসাব্যবস্থা ও সুবিধা বেশ অপ্রতুল। যদিও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বেশ কিছু হাসপাতাল রয়েছে, তবুও জনসংখ্যার তুলনায় তা নগণ্য। তা ছাড়া এগুলো সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। ’

তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ইজাজ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঢাকায় প্রবেশের সময় প্রতিবারই আমাকে অনাবশ্যক হয়রানির শিকার হতে হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবায় নিয়োজিত ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আচরণ কাঙ্ক্ষিত নয়। অন্যান্য দেশের অতিথিদের তুলনায় পাকিস্তানি নাগরিকদের সঙ্গেই এরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ঘটনা বেশি। ’


মন্তব্য