kalerkantho


রাস্তাজুড়ে আবর্জনার স্তূপ দুর্ভোগে পথচারী

রাতিব রিয়ান   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রাস্তাজুড়ে আবর্জনার স্তূপ দুর্ভোগে পথচারী

সরেজমিনে মাতুয়াইল সড়ক। স্থানীয় মাদরাসা থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা। রাস্তার একপাশে ফেলে রাখা হয়েছে ময়লার স্তূপ। দুই-একটি বেওয়ারিশ কুকুর ময়লার পলিথিনগুলো নিয়ে ছোটাছুটি করছে। কোনো কোনো পলিথিনের প্যাকেট মুখে নিয়ে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো ফেলে দিচ্ছে রাস্তায়। ফলে নষ্ট হচ্ছে রাস্তার স্বাভাবিক পরিবেশ। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হচ্ছে। আর তাতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু ছোট ছোট ভ্যানগাড়ি নয়, ব্যক্তি উদ্যোগেও ময়লা এখানে ফেলে রাখা হয়।

তারিক নামের এক যুবক বলেন, ‘আমি প্রতিদিনই ময়লা ফেলি। মহল্লায় সব সময় ময়লার গাড়ি ঢোকে না। কাজে যাওয়ার পথে ময়লা এখানেই ফেলে যাই।’ এভাবে খোলা জায়গায় ময়লা ফেলানো কি ভালো? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবাই ময়লা ফেলে। তাই আমিও ফেলি। মহল্লার ভ্যানে ময়লা দিলে মাসে টাকা দিতে হয়। এখানে ময়লা ফেলা হলে কোনো টাকা দেওয়া লাগে না।’

মাতুয়াইল মাদরাসার ছাত্র মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমার বাসা স্টাফ কোয়ার্টারেই। ক্লাস করার জন্য বাসা থেকে বের হলেই ময়লার গন্ধ নাকে আসে। তখন রুমাল ব্যবহার না করে উপায় থাকে না।’

ডেমরা বাজারের দোকানি মিজান হাওলাদার বলেন, ‘ভোরবেলা বিভিন্ন জায়গা থেকে গাড়ি এসে ময়লা ফেলে যায়। এভাবে ময়লা ফেলে রাখায় লোকজনের চলাচলে অসুবিধা হয়। খুব অসুবিধায় আছি।’

তিনি বলেন, ‘এ সপ্তাহে টানা বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ময়লাগুলো পানিতে ভেসে বেড়ায়। ময়লার স্তূপ ধসে পড়ে আরো দুর্গন্ধ ছড়ায়। এভাবে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় নানা রোগব্যাধি ছড়াতে পারে।

স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা তো ভাই রুমাল ছাড়া চলতে পারি না। রিকশা-বাসে যেভাবেই যাই না, হাতে একটা রুমাল রাখতেই হবে। এত গন্ধ! রাস্তার ওপর ময়লা চলে আসে। তা মাড়িয়েই দোকানে যেতে হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, ‘পচা ময়লার গন্ধ অনেক বেশি। আমরা প্রতিদিনই নানা অসুবিধা মাথায় নিয়ে যাওয়া-আসা করি। ময়লার গন্ধে মনে হয় অজ্ঞান হয়ে যাই।’

ডেমরা থেকে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে আসেন দর্শন বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী নাজিয়া তিশা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনার কারণে এ এলাকায় মশা-মাছিও অনেক বেশি। কেউ যেন দেখার নেই। মাদরাসার পেছনেই আমাদের বাসা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার সময় অবর্ণনীয় গন্ধ নিয়ে পথ পাড়ি দিতে হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাতুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের গাফিলতির কারণে ময়লা-আবর্জনা এখানে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা রেখে যায়। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নজরদারি নেই। এ ছাড়া সরকারি ডোবাগুলো ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রেজা করিম বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেবকে একাধিকবার বলা হয়েছে। তিনি শুধু আশ্বাস দিয়েছেন। ময়লা ফেলার নির্ধারিত কোনো জায়গা বের করতে পারেননি।’

আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এভাবে ময়লা ফেলানো অব্যাহত থাকলে একসময় ডোবাগুলো দখল হয়ে যাবে। হঠাৎ সরকারি জায়গা দখলবাজদের হাতে চলে যাবে।’

মাতুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ আলী বলেন, ‘যারা ময়লা ফেলে, আমরা তাদের নিষেধ করেছি। তারা নিষেধ শোনেনি। রাতের আঁধারে কোন সময় ময়লা ফেলে যায়, ধরা যায় না।’

আপনাদের নজরদারি থাকলে তো ময়লা ফেলা সম্ভব হতো না বললে তিনি বলেন, ‘আমরা নজরদারির মধ্যেই রেখেছি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করা হয়। কিন্তু কেউ চুরি করে ময়লা ফেলে গেলে তাকে ধরা তো মুশকিল।’

‘ময়লা ফেলার জন্য এখনো নির্ধারিত কোনো স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে, তা সরকারি জায়গা। তার পরও এবার নজরদারি আরো বাড়ানো হবে, যাতে কেউ এ রকম সরকারি জায়গায় ময়লা ফেলতে না পারে। মাতুয়াইল সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত। আশা করি, অচিরেই এর সমাধান হয়ে যাবে।’

ডেমরা এলাকার আবর্জনার বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। ময়লা-আবর্জনা যাতে পরিবেশদূষণ করতে না পারে, সেদিকে আমাদের সর্বোচ্চ নজর রয়েছে। মাতুয়াইল-ডেমরা এলাকার ময়লা যাতে স্থানীয়দের দুর্ভোগের কারণ না হয়, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখব।’

তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় প্রয়োজনে সিটি করপোরেশনের লোক যাবে। তারা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে যে ব্যবস্থা নিতে বলে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আশা করি, অচিরেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। স্থানীয় লোকজনের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করব।’



মন্তব্য