kalerkantho


অনিরাপদ সড়ক!

থামছে না মৃত্যুর মিছিল

বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৬৪ জন। সারা দেশের মহানগরগুলোতে যত দুর্ঘটনা হয়, তার ৭৪ শতাংশই ঘটে ঢাকা মহানগরে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। গত জুনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ এ বছর থেকে সরকারিভাবে পালিত হবে ‘নিরাপদ সড়ক দিবস’। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ, প্রতিরোধ, উপায়সহ নিরাপদ সড়ক দিবসের আদ্যোপান্ত জানাচ্ছেন আরিফুর রহমান

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



থামছে না মৃত্যুর মিছিল

অঙ্কন : মাসুম

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনা সারা জীবনের জন্য একটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে। অনেককে শারীরিক পঙ্গুত্বও বরণ করতে হচ্ছে। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। তার পর থেকে দিনটিকে নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দীর্ঘ ২৪ বছরের পথচলায় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে তাঁর আন্দোলনের সঙ্গে। দিবসটির গুরুত্ব অনুধাবন করে গত জুনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ এ বছর থেকে সরকারিভাবেও পালিত হবে ‘নিরাপদ সড়ক দিবস’।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট। ওই দিন ‘কাগজের ফুল’ ছবির শুটিংয়ের স্থান দেখে মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে মর্মান্তি সড়ক দুর্ঘনায় মারা যান খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিশুক মুনীর।

অনেক অসমাপ্ত কাজ হাতে রেখে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান দুই খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব। একই বছরের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঘটে আরেক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। সেদিন বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা দেখে মিনিট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিল স্কুলশিক্ষার্থীরা। মিরসরাইয়ের বড় তাকিয়া-আবু তোরাব সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মিনিট্রাকটি পাশের ডোবায় পড়ে গেলে সেখানেই মারা যায় ৪৫ জন স্কুলছাত্র। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক জগলুল আহমেদ চৌধূরী ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান। এর পরের বছর রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় মারা যান কালের কণ্ঠের সাবেক উপসম্পাদক আবদুল্লাহ আল ফারুক। ওপরের চারটি দুর্ঘটনার জন্যই দায়ী ছিল চালক। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, চলন্ত গাড়িতে মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে ঘটেছিল এসব দুর্ঘটনা। চালকের খামখেয়ালির কারণে প্রতিদিনই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। সারা দেশে প্রতিবছর যত সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যা, পানিতে ডুবে, বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে এবং হত্যাকাণ্ডে মারা যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। জাতিসংঘে বাংলাদেশ অঙ্গীকার করেছিল, ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার। কিন্তু দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা কমছে না।

মোবাইল কানে দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়িচাপা পড়া এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার

রাজধানীতে কোথায় কোথায় দুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, সে তথ্য উঠে এসেছে বুয়েটের গবেষণায়। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এমআরআই) তথ্য বলছে, সারা দেশে যত দুর্ঘটনা ঘটে, তার ৭৪ শতাংশই হয় ঢাকায়। এ ছাড়া যত পথচারী নিহত হয় সড়ক দুর্ঘটনায়; তার ৭২ শতাংশই হয় রাজধানীতে। এমআরআইর গবেষকদের মতে, রাজধানীতে মানুষ বেশি, যানবাহনও বেশি। তাই এখানে দুর্ঘটনার হারও বেশি। ঢাকায় এখন প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস। একটি আদর্শ মহানগরে ২৫ শতাংশ জায়গা সড়কের জন্য থাকা উচিত। কিন্তু ঢাকায় সড়কের জন্য আছে মাত্র ৭ শতাংশ জায়গা। এ কারণে এখানে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। রাজধানীতে কোথায় কোথায় দুর্ঘটনার মাত্রা বেশি, তারও একটি তালিকা করেছে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট। সংস্থাটির গবেষণায় উঠে এসেছে, রাজধানীতে ৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ মোড় আছে, যেগুলোতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। তাতে কেউ নিহত হচ্ছে। কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করছে। আবার কেউ আহত হচ্ছে।

ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, আগারগাঁও, কাকলী, জোয়ার সাহারা, উত্তরার জসীমউদ্দীন সড়ক মোড়। এ ছাড়া কাকলী, ধানমণ্ডি, টেকনিক্যাল মোড়ও দুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। মেয়র হানিফ উড়াল সড়কেও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। গবেষণার তথ্য বলছে, রাজধানীর স্পটগুলোর মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বছরে প্রায় ১০০ থেকে দেড় শ দুর্ঘটনা ঘটে সেখানে। এ ছাড়া ফার্মগেট এলাকায় প্রতিবছর ঘটছে ৮০ থেকে শতাধিক দুর্ঘটনা। ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনায় কেন এত পথচারী নিহত হয়? তার কারণ সম্পর্কে বুয়েটের গবেষকরা বলছেন, চালকের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো আর পথচারীদের অসচেতনতা। গবেষকদের মতে, ঢাকার সড়কগুলো পথচারীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাদের মতে, ঢাকার রাস্তায় যত ফুটপাত থাকার কথা তা নেই। আবার যতটুকু ফুটপাত আছে, সেটিও দখল করে কেউ গাড়ি পার্কিং করে রাখছে। আবার কেউ ফুটপাতের ওপর দোকান দিয়ে বসেছে। জুতার দোকান, জামা-কাপড়ের দোকান, চায়ের দোকান দিয়ে বসেছে অনেকে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব হচ্ছে। এতে করে পথচারী ফুটপাত দিয়ে না হেঁটে সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটছে। ফলে পথচারীরা দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে।

ফুটপাত দখল করে চলছে ব্যবসা। ফলে প্রায়শই পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ হলো, রাস্তা পারাপারের সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা। পথচারীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে সড়কে চলাচলের সময়। এতে করে অমনোযোগী হওয়ায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। রাজধানীতে অনেক জায়গায় ওভারব্রিজ থাকলেও পথচারী সময় বাঁচাতে ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা পার হচ্ছে। এতে করেও ঘটছে দুর্ঘটনা। তবে সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ, চালকদের খামখেয়ালিপনা ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রবণতা। রাজধানীতে একক কোনো কম্পানির গাড়ি নেই। এখানে অনেক কম্পানির গাড়ি চলে। এতে এক কম্পানির সঙ্গে আরেক কম্পানির চলে তীব্র প্রতিযোগিতা। সড়কের মাঝখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়। সিগন্যাল ছাড়লে কার আগে কে যেতে পারবে, কে আগে যাত্রী তুলতে পারবে, এ নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, গাড়ির চালকের নেই কোনো প্রশিক্ষণ। নেই লাইসেন্সও! হেলপারকেও চালকের আসনে বসিয়ে দেওয়া হয়। বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ‘সড়কের ওপর দোকান দেওয়া ও বেচাকেনার কারণে পথচারীদের ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ’

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর কত মানুষের প্রাণহানি ঘটে, তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে দেশে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এমআরআই) সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে গবেষণা করছে। দুর্ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা নিয়ে বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও অনেক গবেষণা করেছে। এসব গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে ২১ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের হিসাবে এই সংখ্যা ১২ হাজার। বুয়েটের হিসাবেও এই সংখ্যা ১১ থেকে ১২ হাজারের মধ্যে। যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাবে এই সংখ্যা সাড়ে আট হাজার। আর পুলিশের তথ্য বলছে, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার মানুষ। বিশ্বব্যাংকের দেওয়া তথ্য মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির এক থেকে দুই শতাংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় যাঁরা মারা যান, তাঁদের ৬০ শতাংশই কর্মক্ষম। যাঁদের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। ফলে দুর্ঘটনায় যাঁরা মারা যাচ্ছেন, তাঁদের মৃত্যুর কারণে পুরো পরিবারে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। বুয়েটের গবেষণা বলছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে দুই ঈদের সময়।

এদিকে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা নিয়ে যৌথভাবে একটি গবেষণা করে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশের মহাসড়কগুলোতে ২০৯টি ব্ল্যাকস্পট রয়েছে। এই ২০৯টি স্থানের ৫৫ কিলোমিটারজুড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে ব্র্যাক ও পিপিআরসির গবেষণায়। তাতে বলা হয়েছে, চালকের বেপরোয়া যান চালানো, চালকের প্রশিক্ষণের অভাব, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার অভাব, পথচারীর ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ ও আইনি দুর্বলতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।

হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, পার্ক, জাদুঘরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কারণে রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা শাহবাগ। ব্যস্ততম ওই এলাকায় রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রায় সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় সাধারণ মানুষ। সর্বশেষ গত বছরের ১৬ জানুয়ারি শিশু পার্কে ঘুরতে এসে শাহবাগে বাসচাপায় নিহত হয় খাদিজা নামের এক শিশু। শাহবাগে যাতে আর কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সেখানে একটি আন্ডারপাস নির্মাণে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে একনেক সভায় নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি আন্ডারপাসের। বিমানবন্দরের সামনেও একটি আন্ডারপাস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেটির কাজও শুরু হয়নি।

 

 

বেপরোয়া গতিতে যান চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনা

ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান

ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা। কার আগে কে যাত্রী তুলবে, তার জন্য চলে তীব্র প্রতিযোগিতা। এসব বেপরোয়া গতিতে যানচলাচলের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। আমার মতে, সব বাস-মিনিবাস একটি কিংবা দুটি কম্পানির হাতে থাকা উচিত। অন্যদিকে চালকের প্রশিক্ষণ নেই, লাইসেন্স নেই। আবার হেলপারকে দিয়েও বাস চালানো হচ্ছে। আছে আইনি দুর্বলতাও। এর ফলে রাজধানীসহ সারা দেশেই দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। আবার চালকের পাশাপাশি পথচারীদেরও সচেতনতার বিষয় আছে। অবশ্য ধীরে ধীরে সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। মনে রাখতে হবে, দিবসকে ঘিরে একদিনের জন্য সচেতনতা বাড়ালে হবে না। কাজ করতে হবে বছরের প্রতিটি দিনই। অন্যদিকে সচেতনতা বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্টতা বাড়ানো জরুরি। দুর্ঘটনা নিয়ে এইচএসসি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে লেখা থাকতে হবে।

 

 

মালিকদের অতিমুনাফার লোভ ছাড়তে হবে

মোবাশ্বের হোসেন

স্থপতি

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পথচারীদের সচেতনতার বিকল্প নেই। কারণ পথচারীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে সড়কে চলাচলের সময়। এতে করে অমনোযোগী হওয়ায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। এটি বন্ধ করতে হবে। নিরাপদ সড়ক আমরা সবাই চাই। তাই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। গাড়ির চালকদের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে চালকের আসনে বসানো ঠিক নয়। এটি বন্ধ করতে হবে। হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। মালিকদের অতিমুনাফার লোভ ছাড়তে হবে। কম্পানির মধ্যে প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। তাহলেই শুধু রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে।


মন্তব্য