kalerkantho


নগরজীবন

বইসা খাইলে রাজার ধনও ফুরায় যায়

আবদুল মান্নান
ভ্রাম্যমাণ জাম্বুরা বিক্রেতা, আদাবর, ঢাকা

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বইসা খাইলে রাজার ধনও ফুরায় যায়

এই ব্যবসা কিভাবে শুরু করলেন?

আমি তো কোনো মালই রেগুলার বেচি না। যখন যেইটা সুবিধা মনে করি, তখন সেইটা করি।

এর আগে ভ্যানে কইরা কারওয়ান বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজি আইনা বিক্রি করতাম। এখন জাম্বুরার সিজন, তাই জাম্বুরা বিক্রি করি। দোকানপাট নাই, আমরা ফুটপাতের ব্যবসায়ী।

 

ব্যবসার আগে কী করতেন?

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে চায়ের দোকান দিছিলাম। আট বছর দোকান চালাইছি। সেই দোকান ছেড়ে দিছি। বসে থাকতে থাকতে রোগ হয়া গেছে। বাম পায়ে কোনো শক্তি পাই না। বসে থেকে কোনো ব্যবসা চালাব, সেই পথ নাই।

 

রোগের চিকিৎসা করাচ্ছেন না?

ডাক্তার দেখাইছি। ওষুধ খাই। দিনে দু-তিন শ ট্যাকার ওষুধ লাগে। ওষুধ খাইলে ভালো, না খাইলে ভালো না। ওষুধের ওপরই বাঁইচা আছি। নিজের রোগ-ব্যাধি ছাড়া সংসারের খরচ তো আছেই।

 

গ্রাম ছেড়ে শহরে এলেন যে?

গেরামের বাড়ি ভোলায়। গরিব মানুষ, দুইডা ট্যাকা ইনকামের জন্যই ঢাকায় আসা। গেরামে থাকতে মাছের ব্যবসা করতাম। মাছের ব্যবসা ভালো ব্যবসা। কিন্তু ট্যাকা-পয়সা বাকি যায়। যে কয় ট্যাকা পুঁজি আছিল, সব বাকিতেই গ্যাছে।

 

গ্রামে যখন কাজ থাকে না কী করতেন?

কী আর করব? বসে বসে সময় কাটত। একদিন ইনকাম হয় তো আরেক দিন হয় না। এভাবে তো দিন যায় না। সংসারের খরচ আছে। বইসা খাইলে তো রাজার ধনও ফুরায় যায়।

 

শহরের এই জীবনযাপন কেমন লাগছে?

গরিব মানুষ, যেখানে যাই সেখানেই কষ্ট। গেরামে সব সময় কাজ-কাম থাকে না, শহরে থাকে। শহরে এক ব্যবসা করতে করতে সহজেই আরেক ব্যবসায় যাওয়া যায়। কিন্তু গেরামে ব্যবসা বদল করা কঠিন। শহরে ট্যাকা রোজগারে কোনো টেনশন নাই! কর্ম জানলে, পরিশ্রম করলে বাঁইচা থাকার মতো রোজগার করা যায়।

 

সংসারে কে কে আছেন?

আমরা দুজন আর এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ে পড়ে না। ছেলে কাজ-কাম করে, গাড়ি চালায়।

 

সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারতেন?

পড়ালেখা করানোর ট্যাকা কই পাব? এই কারণেই কাজে লাগাই দিছি। দুইডা পয়সা আইলে সংসারডা ভালো চলব। আর ট্যাকা খরচ কইরা লেখাপড়া করায় লাভ কী? চাকরি নাই! মামু-খালু না থাকলে চাকরি হয় না। এই শহরে অনেক জায়গায় দেখছি, বড় বড় ডিগ্রি লইয়া ছেলে-মেয়েরা বইসা আছে, চাকরি পায় নাই।

 

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

পরিকল্পনা করতে গেলে তো টাকা লাগে। আমার কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নাই। আমি নিজেও জানি না কাল কী করতে হইব! যে অবস্থা চলছে, এভাবেই বাকি দিনগুলান কাটাইতে চাই।

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণে : কবীর আলমগীর

ছবি : জান্নাতুল ফেরদৌস শিপন


মন্তব্য