kalerkantho


হাসপাতালে,দৃষ্টিনন্দন পার্ক

তৌফিক মারুফ   

১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



হাসপাতালে,দৃষ্টিনন্দন পার্ক

ছবি : লুৎফর রহমান

রোগীদের কষ্ট, স্বজনদের উদ্বেগ, চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততা, অ্যাম্বুল্যান্সের আসা-যাওয়া, ওষুধ আর মেডিক্যাল বর্জ্যের মিশেল গন্ধ চারদিকে। হাসপাতাল মানেই এমন দৈনন্দিন চিত্র। চিকিত্সায় সময় পার। কেউ সেবা দেন আবার কেউ সেবা নেন; কাজ শেষ। তো হাসপাতালে কে থাকেন! তা-ও আবার রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা শেরেবাংলানগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। বিশাল আয়তনের জায়গা নিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নানা অবকাঠামো আর গাছগাছালির মাঝেই চলে চিকিত্সাযজ্ঞ। সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজে চলে চিকিত্সাশাস্ত্রের পড়াশোনা। হাসপাতাল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন সেবা আর পড়াশোনার দিকে নজর আটকে থাকার সুযোগে আশপাশের এক শ্রেণির অসাধু লোক হাসপাতাল প্রাঙ্গণের বিশাল খালি জায়গাজুড়ে লিপ্ত হয় দখল আর নানা অপকর্মে।

দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলার পর একপর্যায়ে টনক নড়ে বর্তমান কর্তৃপক্ষের। এলাকাটির সুরক্ষায় উপায় খুঁজতে শুরু করে তারা। অবশেষে পাওয়া যায় এক উপায়।

পরিকল্পনা হয় খালি জায়গাটিতে দৃষ্টিনন্দন একটি পার্ক গড়ে তোলার। শুরু হয় কাজ, যা এখন সহজেই দৃষ্টি কাড়ে যে কারো। খোরাক জোগায় বিনোদনের। দূর হয়ে গেছে দখল আর অসামাজিক কাজের আখড়া।

মিরপুর সড়কের শেরেবাংলানগর এলাকায় প্রধান সড়ক থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মূল ফটক ধরে ভেতরে ঢুকতেই হাতের ডানে তাকালে আটকে যাবে চোখ! সেখানে নানা রঙে রঙিন, নানা আকারে সাজানো সারি সারি ফুলের শোভা; ম ম ঘ্রাণ, চোখ-ধাঁধানো সৌন্দর্য। শুধুই ফুলের বাগান নয়, এই পার্কে  রয়েছে নানা জাতের ঔষধি, বনজ ও ফলজ গাছের সারি। এসব গাছের গায়ে গায়ে সেঁটে দেওয়া আছে নাম। কোথাও অর্জুন, কোথাও আমলকী, কোথাও আবার নারিকেল, কোথাও বা মেহগনি। ভেতরে হাঁটার জন্য কংক্রিটের ওপর নানা নকশায় তৈরি বহুমুখী পথ, তিন দিকে তৈরি করা হয়েছে লেক। লেকের ওপর বানানো হয়েছে শিল্পকর্মের সমন্বয়ে সেতু। এখানে-সেখানে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে বসার জায়গা। কোথাও নাম দেখা যায়—‘লেক গার্ডেন’, কোথাও ‘লেক ভিউ’। রাতের অন্ধকার দূর করতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসানো হয়েছে আধুনিক সব লাইট। রাতে সেখানে ওই আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, দূর হয়ে যায় সব অন্ধকার। পার্কটির নাম রাখা হয়েছে ‘পুষ্প পল্লব’। গত ৪ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম পার্কটি উদ্বোধন করেন।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জায়গাটির এতই করুণ পরিণতি হয়েছিল যে এটা সংরক্ষণ করাই দুরূহ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এখন চিত্র পুরোটাই পাল্টে গেছে, এলাকাটি রীতিমতো মানুষকে আনন্দ দেয়, বিভিন্ন সময় এই পার্কে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের উৎসব অনুষ্ঠানের। সেখানে রোগী-চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী—সবাই একাকার হতে পারেন। এটা রোগী, রোগীর স্বজন আর চিকিত্সাকর্মীদের মানসিক সুস্থতার এক নতুন অধ্যায় হয়ে উঠেছে। ’

ওই পার্ক গড়ে তোলার অন্যতম সংগঠক শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মামুন মোরশেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাসপাতালের বর্তমান পরিচালকের পরিকল্পনা ও সার্বিক নির্দেশনায়ই হাসপাতাল এলাকায় এমন একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর এই কাজ বাস্তবায়ন করেছে হাসপাতালের উন্নয়ন খাতের কিছু টাকা ও অন্যান্য সহায়তায়। ’


মন্তব্য