kalerkantho

অন্য রকম আঁকিয়ে

আরিয়ান অর্ক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অন্য রকম আঁকিয়ে

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে নেইল আর্ট নিয়ে কাজ করা প্রথম শিল্পী নওশীন

আঁকাআঁকি ভীষণ পছন্দ নওশীনের। ছোটবেলা থেকেই রং-পেনসিল নিয়ে বসে যেতেন।

কাগজ, কলম, পেনসিল, খাতা—যা পেতেন তাতেই মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁকতেন। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। একাডেমিক কাজের অংশ হিসেবেই আঁকিবুঁকি করতে হতো। ব্যবহারিকের খাতায় আঁকা লাগবে বলে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ত অনেক সহপাঠীর। কিন্তু নওশীন আঁকতেন মনের আনন্দে। তাঁর খাতা দেখে মুগ্ধ হতেন শিক্ষকরা। এইচএসসি পাস করার পর ভর্তি হলেন শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে, পছন্দের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগে। আঁকাআঁকির কারণে ক্যাম্পাসেও বন্ধুরা একনামে চেনে নওশীনকে।

তবে অন্য আঁকিয়েদের চেয়ে একটু আলাদা নওশীন।

হাতের নখই তাঁর ক্যানভাস। হরেক রকম নেইলপলিশ, ওয়াটার মার্বেল কালার, অ্যাক্রিলিকসহ নানা মাধ্যম ব্যবহার করে বর্ণিল করে তোলেন নখ। দুই হাতের ১০টা নখেই কখনো আঁকেন বাংলা কিংবা ইংরেজি বর্ণমালা, কখনো ফুটিয়ে তোলেন লাল-সবুজের পতাকা, কখনো বা মেসি, রোলানডো কিংবা মাশরাফির মতো প্রিয় খেলোয়াড়দের নাম। মেধাবী এই তরুণীর পুরো নাম নওশীন রহমান খন্দকার। মা-বাবার সঙ্গে উত্তরায় থাকেন। চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। আর অবসর পেলেই করেন নেইল পেইন্টিং। শুরুটাও শখের বশেই। বললেন, ‘এক ছুটির দিনে ড্রেসিং টেবিল পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখি, নেইলপলিশের অনেক কৌটা জমা হয়ে গেছে। পুরনো নেইলপলিশ। শুকিয়ে অনেকটা জমাট বেঁধে গেছে। প্রথমে ভাবলাম, ফেলে দেব। পরে ভাবলাম, ফেলার আগে শেষবারের মতো কোনো কাজে লাগানো যায় কি না দেখি। পরদিন ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগে পাঁচটি কৌটা থেকে পাঁচ রকমের নেইলপলিশ নিয়ে দুই হাতের নখে ডটডট মতো দিলাম। তার পরদিন পাঁচটি আঙুলে পাঁচ রকমের নেইলপলিশ লাগালাম। দেখি, বান্ধবীরা দারুণ পছন্দ করল। পরে নেইল আর্ট নিয়ে নেটে ঘাঁটাঘাঁটি করলাম। ইউটিউবে বেশ কিছু ভিডিও পাওয়া গেল। আর ইনস্টাগ্রামেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেইল আর্টিস্টদের কাজ ফলো করা শুরু করলাম। নেইল আর্টের শুরুটা এভাবেই। ’ নেইল আর্ট নিয়ে প্রথম এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছিলেন নিজের বড় বোনকে দিয়ে। জানালেন, ‘বড় আপুর হাতের নখে প্রথম আঁকলাম। প্রতিদিন নতুন কিছু না কিছু এঁকে দিতাম। দেখি, অফিসে আপুর সহকর্মীরা দারুণ পছন্দ করল কাজটা। বড় আপুর সঙ্গে অনেকেই এলো বাসায়। তাদের নখেও এঁকে দিলাম। ’ এভাবে ধীরে ধীরে নেইল আর্টিস্ট হিসেবে পরিচিতি বাড়তে লাগল নওশীনের। শুরুর দিকে অবশ্য বিনা পয়সায় এঁকে দিতেন সবাইকে।

২০১৪ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের সময় ‘বিশ্বকাপ সেলফি কনটেস্ট’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার। সেবার নেইল আর্টের ছবি পাঠিয়ে প্রথম পুরস্কার পান নওশীন। এর পরই মূলত নেইল আর্ট নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরু করেন। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে নেইল আর্ট নিয়ে কাজ করা প্রথম শিল্পী নওশীন। সম্প্রতি ভিটের সঙ্গে ‘ফ্যাশন ডায়েরিজ উইথ শিশির’ নামে লাইফস্টাইল-বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে কাজ করেছেন। সেখানে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের স্ত্রী উম্মে হাবিবা শিশির ও তাঁর টিমের সবার নখ এঁকে দিয়েছেন তিনি। এখন যে কেউ চাইলে নওশীনের কাছ থেকে নখ আঁকিয়ে নিতে পারবেন। পাঁচটি নখের জন্য খরচ ৫০০ টাকা থেকে শুরু। কৃত্রিম নখ লাগানোরও সুযোগ থাকছে। ‘নেইল্ড ইট বাই নওশীন’ নামে ফেসবুকে একটি পেজও আছে তাঁর। চাইলে সেখানেও ঢুঁ মারতে পারেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নওশীন বলেন, ‘বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে নেইল আর্টের ধারণা খুব বেশিদিনের নয়। কেবল নেইল আর্ট নিয়ে কাজ করবে এমন একটি স্যালন দেওয়ার পরিকল্পনা আছে আমার। ’


মন্তব্য