kalerkantho


নগরজীবন

মাঝে মাঝে খুব উদাস লাগে!

পিপাসা আক্তার, গৃহকর্মী, উত্তরা, ঢাকা

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মাঝে মাঝে খুব উদাস লাগে!

কেমন আছেন?

এই তো আছি ভাইজান, গরিবের আর থাকা। দিন গিয়া রাইত যায়, রাইত গিয়া দিন।

 

পরিবারে কে কে আছে?

আমাগো গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবের তাতালচর। পরিবারর সকলে গ্রামেই থাকে। মা, বাবা আর আমরা চার ভাই, দুই বোন—এই নিয়া আমাগো পরিবার।

 

কত দিন ধরে ঢাকায় থাকেন?

তা-ও দুই বছর পার হইব। কী করমু, কৃষক বাপের একার পক্ষে সংসারের খরচ টানা কষ্টের হয়া যায়। বাপে কামলা দিয়া যা পায়, তাতে চলে না। জিনিসপত্রের যে দাম অহন, গ্রামে কাম করলেও ভালো টাকা-পয়সা আসে না। তাই ঢাকায় আইচি। ছয় হাজার টাকার মতো বেতন আসে।

 

গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয়?

বাড়িত তো যাইতে ইচ্ছা করেই। কাজ রাইখা ক্যামনে যাই, বলেন? ভাইয়া অফিস যায়, আপারে তো সাহায্য করন লাগে। হেই একা মানুষ ক্যামনে সামলাইব এত কিছু? তয় বাড়িত কথা কই প্রত্যেকদিনই। ভাইয়া একটা ফোন কিনা দিছে।

 

এ বাসায় কাজ করতে কেমন লাগে?

আপু আর ভাইয়া তো আমারে নিজের ছোট বোইনের মতো ভালোবাসে। আমারে বুঝতেই দেয় না যে আমি বাপ-মারে

ছাইড়া আইচি। আমার বাড়িত গেলে আবার ঢাকায় আহনের লাইগা মন কান্দে, আবার ঢাকায় আইলে বাড়ির জইন্যে মন কান্দে (হাসি)।

 

ঢাকা কেমন লাগে?

অনেক বড় ঢাকা, আমি তো পুরাডা দেখি নাই। তয় খারাপ লাগে না। কিন্তু অনেকেই আছে ছোট কইরা দেখে। বাসাবাড়িতে কাম করি বইলা মূল্য দিবার চায় না। মাঝে মাঝে খুব উদাস লাগে! বাড়ি চইলা যাইতে ইচ্ছা করে। যাইবার পারি না। আমি চইলা গেলে ভাই-বোইনের লেখাপড়া বন্ধ হইয়া যাইব। কষ্ট করতাছি ভাইডার লাইগা। হেয় লেখাপড়া কইরা বড় হইব। বাপ-মায়েরে দেখব। তার পরই আমার ছুটি। বাপে ইস্কুলে ভর্তি করাইছে সব কয়ডারে। বোইনডারে ভালো জাগায় বিয়া দেওয়ন লাগব। হেরা লেখাপড়া কইরা বড় হোক। আমার আর কিছু লাগব না।

 

ভবিষ্যৎ ইচ্ছা কী?

আমি কাম কইরা নিজের পায়ে দাঁড়ামু। আমার পরিবারের কষ্ট কমায় আনমু। লেখাপড়া করনের ইচ্ছা ছিল। আমি লেখাপড়া করলে ক্যামনে কী হইত কন? আমার ভাই-বোইন তাইলে আর লেখাপড়া করার সুযোগ পাইত না। আব্বারও তো বয়স হইতেছে। হেও আর আগের মতন কাম-কাইজ পায় না।

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণে : ফাহিম রেজা শোভন


মন্তব্য