kalerkantho


গ্যাসসংকটে নগরবাসী

চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নারীদের

ফরিদা আক্তার শেলী   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নারীদের

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাসসংকট। গ্যাস আসে মাঝেমধ্যে, চুলা জ্বলে ঢিমেতালে। ছবি : কাকলী প্রধান

সকালবেলা বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছানোর তাড়া। সন্তানকে তাদের টিফিন গুছিয়ে দিতে হবে, নিজের অফিসের বা বাড়ির কর্তাব্যক্তিটি সকাল ৮টা নাগাদ বেরোবে, তাঁর জন্য যে নারী বাসায় ফিরে সকালের নাশতা তৈরিতে ব্যস্ত হতেন, কিংবা দুপুরের খাবারের আয়োজন নিয়ে যাঁরা ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১১টায় রান্নাঘরে যেতেন, এখন সুয্যি মামা জাগার আগে সেই নারীকে রান্নাঘরের কাজ শেষ করতে হয়। রাত জেগে, নয়তো ভোরবেলা উঠে সারা দিনের রান্নার কাজ শেষ করতে হয় এখন অনেক নারীকে। তিনি গৃহিণী হোন কিংবা কর্মজীবী। রাতজাগা পাখি হয়ে রান্নাঘরে সময় কাটে নগরীর নারীদের। কারণ রাজধানীর অনেক এলাকায় এখন গ্যাসের সংকট।

এই চিত্র রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকার। প্রতিবছরই শীতের শুরুতে এই সংকট শুরু হয়, স্থায়ী হয় শীতজুড়ে। আগের মতো গ্যাসসংকট আর মৌসুমি পর্যায়ে নেই, এখন রাজধানীবাসীর এ দুর্ভোগ যেন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এই দুর্ভোগের কারণ নিয়ে বরাবরই গ্যাস খাতের সংস্থাগুলোর পরস্পরকে দোষারোপ করতে দেখা যায়। যেমন—গ্যাস বিতরণের সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তিতাস থেকে বলা হয়, চাহিদা অনুযায়ী তাদের গ্যাস সরবরাহ করছে না পেট্রোবাংলা।

আবার পেট্রোবাংলা থেকে তিতাসের পাইপলাইনের দোষারোপ করা হয়। বলা হয়, গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইনগুলো অনেক পুরনো এবং ব্যাসে কম থাকায় শীতকালে বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যায় না। যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকার গ্যাসসংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরতে গৃহবধূ ফরিদা আক্তার ও বিলকিছ আরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন ভোর ৬টায় পাইপলাইনে গ্যাস চলে যায়, সারা দিন আর গ্যাস আসে না। সন্ধ্যায় এলেও অনেক দিন তা রাত ৯টায় চলে যায়। গ্যাসের এই সংকটের কারণে সামর্থ্যবানরা বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাস ব্যবহার করছেন। কেউ বা কেরোসিনের চুলা কিনে কোনো রকম রান্নার কাজ সারছেন। তবে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে স্কুলগামী ছোট শিশুদের নিয়ে। তাদের বাসি খাবার খেয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। টিফিন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

খিলগাঁও তালতলার বি ব্লকের বাসিন্দা শায়েফউল্লাহ জানান, এ এলাকায় নতুন করে গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টার পর গ্যাস চলে যাচ্ছে, আর আসছে বিকেল ২-৩টায়। এই সময়ের মধ্যে সামান্য পানিও গরম করা যায় না।

উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা জিনাত শামছুন্নাহার জানান, আগে কখনো এই এলাকায় গ্যাসসংকট ছিল না। এক মাস ধরে গ্যাস সমস্যা এলাকার নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। সকাল ১১টার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত এবং কখনো কখনো রাতেও এলাকায় গ্যাস থাকে না। গ্যাসের চাপ কম থাকায় সামান্য খাবার গরম করা যায় না।

দক্ষিণ মুগদার বাসিন্দা আয়েশা ছিদ্দিকা জানান, মুগদা এলাকায় গ্যাসের করুণ অবস্থা। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩-৪টা পর্যন্ত একটানা পাইপলাইনে গ্যাস থাকে না। গ্যাস না থাকায় ভয়াবহ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

গ্যাসের এই সংকট রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায়ই রয়েছে। এমনকি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র সংসদ ভবন এলাকার আশপাশে মনিপুরিপাড়া, ফার্মগেট, গ্রিন রোড, মোস্তফা রোড, মতিঝিল, মালিবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও এলাকায়ও গ্যাসের তীব্র সংকট শুরু হয়েছে শীতের শুরু থেকেই, যা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান। আর এই গ্যাসসংকটের কারণে  ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে নারীদের।


মন্তব্য