kalerkantho


মেয়র সমীপে

সংবাদপত্র কেন্দ্রগুলো রক্ষা করুন

২০ হাজার হকারের আকুতি

ঢাকা ৩৬০° প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সংবাদপত্র কেন্দ্রগুলো রক্ষা করুন

নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিনা নোটিশেই সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র ধ্বংস করা হচ্ছে

প্রতিদিনের সংবাদ ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে নগরীতে প্রায় ২০ হাজার হকার শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় পার করেন। সে জন্য নগরীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। ওই কেন্দ্রে সব সময় সংবাদপত্র, বিভিন্ন ম্যাগাজিনসহ প্রয়োজনীয় বই, জার্নাল বিক্রি করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে নগরীর বেশ কিছু কেন্দ্র ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর জন্য পত্রপত্রিকা বিক্রি করতে হকারদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

ব্যাপক হারে সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র ভেঙে ফেলার বিষয়গুলো ঢাকার মেয়র ও জনপ্রতিনিধিদের একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিছুদিন আগে হকার নেতারা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের কাছে সমস্যাগুলো তুলে ধরেছিলেন। তিনি হকারদের জন্য পরিকল্পিত সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন। এর পরও ঢাকার ফার্মগেটের সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্রটি ভেঙে সেখানে একটি টয়লেট গড়ে তোলা হয়েছে। ওই টয়লেটের পশ্চিম পাশে কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হলেও বর্তমানে তা নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে।

ফার্মগেট ছাড়াও অতীতে ঢাকার কোর্ট-কাছারি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মহাখালী, গাবতলীসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিনা নোটিশেই সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। অথচ প্রতিটি কেন্দ্র থেকে নিয়মিত ভাড়া ও লিজ মানি পরিশোধ করা হয়েছে, এমনকি ওই কেন্দ্রগুলো না ভাঙার জন্য উচ্চ আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। অথচ উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেন্দ্রগুলো ঢাকার মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে।

একাধিক হকার বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণ, টয়লেট নির্মাণসহ নানা অজুহাতে ঢাকার প্রায় ৩০টি বিক্রয় কেন্দ্র ভেঙে ফেলা হলেও নতুন করে একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। অথচ দিনের পর দিন নগরীতে সংবাদপত্রসেবী, পাঠক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরীর পরিধিও দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেই হিসাবে সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা থাকলেও তা আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। অথচ ডিসিসির অব্যবহৃত জায়গার ওপর নানা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে কিছু জমি সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্রের জন্য লিজ দেওয়া হলে তারা নিজ উদ্যোগে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে পত্রিকার ব্যবসা করতে পারবে। এ জন্য লিজ মানি দিতেও তাদের কোনো আপত্তি নেই।

জানা যায়, ১৯৮৬ সালে প্রেসিডেন্ট এরশাদের নির্দেশে ঢাকা নগরীতে ২০০ সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকার তত্কালীন মেয়র মাহমুদুল হাসান কেন্দ্রগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে বরাদ্দের চেষ্টা করলে এরশাদ তা শুধু হকারদের জন্য বরাদ্দের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পর ঢাকায় ৮০টি বিক্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এ জন্য ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি কেন্দ্রপিছু ২০ হাজার টাকা সেলামি দেয়। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত বর্গফুট অনুযায়ী মাসিক ভাড়া পরিশোধ করা হয়। সেটা এখনো অব্যাহত আছে, এমনকি বিভিন্ন সময়ে নগরীর ৩০টি কেন্দ্র ভেঙে ফেলা হলেও সেসব কেন্দ্রের ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। এ জন্য সিটি করপোরেশন সমিতির কাছে এক টাকাও বকেয়া পাবে না।

এ বিষয়ে সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিটি সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র ফিরে পেতে চাই। একই সঙ্গে আমাদের দাবি হলো, সিটি করপোরেশন, রাজউক ও গৃহায়ণের প্রতিটি প্রকল্পের নকশায় একটি করে সংবাদপত্র বিক্রয় কর্নার রাখতে হবে। এতে সংবাদপত্রের যেমন উত্কর্ষসাধন হবে, অন্যদিকে হকাররা বেশি করে পুনর্বাসিত হতে পারবে। ’


মন্তব্য