kalerkantho


ঢাকার অতিথি

এখানে রয়ে গেছে নাড়ি, তার টানে তো বারবার আসতেই হবে

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এখানে রয়ে গেছে নাড়ি, তার টানে তো বারবার আসতেই হবে

ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। শুরুটা টেলিভিশন সিরিয়াল দিয়ে হলেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন টালিগঞ্জ, বলিউড ও ঢালিউডে। গত সপ্তাহে ‘ভুবন মাঝি’ চলচ্চিত্রের প্রচারণায় বাংলাদেশে এসেছিলেন এই অভিনেতা ও পরিচালক। তাঁর চোখে ঢাকা কেমন জানাচ্ছেন রূপক জামান

 

বিমানবন্দর থেকে নেমে অল্প কিছুক্ষণের জন্য হোটেল রুমে। এরপর সোজা বেরিয়ে পড়লেন ‘ভুবন মাঝি’র প্রচারণায়। ফখরুল আরেফিন পরিচালিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত এই ছবিতে একজন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন, যার সঙ্গে সব বাংলাদেশির আবেগ-অনুভূতি জড়িত। এ প্রসঙ্গে পরমব্রত বলেন, ‘আমি যে সময়টায় বড় হয়েছি, আশি-নব্বইয়ের দশক, সে সময় মা-বাবা আমাকে যে পরিবেশের মধ্যে মানুষ করেছেন, তাতে কিশোর বয়স থেকেই কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিলাম। তা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি হিসেবে আমারও গর্বের, যদিও আমি পশ্চিমবঙ্গের। ’

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তাঁর একাত্মতা প্রকাশের পেছনে একটা বড় কারণও আছে! তাঁর মা সুনেত্রা ঘটক একজন বাংলাদেশি। তার চেয়েও বড় পরিচয়, তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের নাতি।

ঋত্বিক ঘটকের জন্ম ঢাকার জিন্দাবাজারের ঋষিকেশ দাস লেনে, ৪ নভেম্বর ১৯২৫ সালে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় কলকাতায় চলে যায় তাঁর পরিবার।

ঢাকায় এটি তাঁর প্রথম আসা নয়। হাতের কর গুনে জানালেন, এ নিয়ে ১৮ বার এসেছেন। প্রথমবার এসেছিলেন ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে। তখন অবশ্য ঢাকায় খুব একটা  ঘোরা হয়নি। ১০-১২ দিনের সেই ভ্রমণে জিন্দাবাজারে পূর্বপুরুষের ভিটামাটি আর কক্সবাজারে সমুদ্রসৈকতে ঘুরে বেড়িয়েছেন। মাত্র চার বছরের যাওয়া-আসার এরই মধ্যে জন্ম শহর কলকাতার মতো ঢাকার অলিগলিও নাকি তাঁর চেনা! এ প্রসঙ্গে পরমব্রত বেশ মজা করেই বলছিলেন, ‘তোমাদের শহরে তোমাকেই হারিয়ে দিতে পারব। এখানকার সংসদ ভবন, শহীদ মিনার থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা—সবই আমার দেখা। বিশেষ করে মগবাজার এলাকায় অনেক ঘুরেছি। ’ ঢাকা ও কলকাতা দুটি শহরের নাগরিকরা বড্ড বেশি ব্যস্ত, ইট-কাঠ ও পাথরের পাঁজরে আটকে থাকে অনুভূতিগুলো। দুটি শহরের নাগরিক জীবনের মধ্যে পার্থক্য কী? এমন প্রশ্ন শুনে বেশ চিন্তা করেই বললেন, ‘ওইভাবে বড় রকমের কোনো পার্থক্য তো দেখতে পাচ্ছি না। পৃথিবীর সব বড় শহরের মধ্যে বেশ কিছু মিল থাকে—তা কলকাতা ও ঢাকার মধ্যেও বিদ্যমান। তবে একটা জিনিস বেশ চোখে পড়ার মতো, সেটা হলো জ্যাম। ট্রাফিক জ্যামের কারণে তোমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকতে হয়, অথচ এটা নিয়ে কাউকে বিরক্ত হতে দেখিনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, তোমাদের সব কয়টা প্রাণই জীবন্ত, সব সময় হাসি লেগে থাকে মুখে!’

অনিমেষ আইচের ‘ভয়ংকর সুন্দর’ ছবির শুটিংয়ের সময় কক্সবাজার থেকে উড়ে এসে অংশ নিয়েছিলেন ‘ফোক ফেস্টিভালে’। এ দেশের লোকগীতি, বিশেষ করে লালনসংগীতের ভক্ত তিনি। লালনের ‘অমৃত মেঘের বারি’ গানটি তাঁকে বেশ টানে। পুরান ঢাকার অনেক খাবার দোকানে খেয়েছেন। এর মধ্যে কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়া হয়েছে অনেকবার। এ ছাড়া চট্টগ্রামের খাবার, বিশেষ করে শুঁটকি তাঁর অনেক প্রিয়। স্টার সিনেপ্লেক্সে নিজের ছবি ‘ভুবন মাঝি’র বাইরে বাংলাদেশের কোনো ছবি হলে বসে দেখা না হলেও তারেক মাসুদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, অনিমেষ আইচদের অনেক কাজই তাঁর দেখা। এ ছাড়া এ দেশের হুমায়ূন আহমেদ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসসহ অনেক সাহিত্যিকের লেখাই তিনি পড়েছেন। ‘ভুবন মাঝি’, ‘ভয়ংকর সুন্দর’-এর পর কাজ করবেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘হলুদবনি’তে। এতে তাঁর বিপরীতে থাকছেন তিশা। এবার মাত্র দুই দিনের ঝটিকা সফরে এসেছিলেন ঢাকায়। আবার কবে আসবেন? জবাবে পরমব্রত বলেন, ‘শিগগিরই। এখানে রয়ে গেছে নাড়ি, তার টানে তো বারবার আসতেই হবে। ’


মন্তব্য