kalerkantho


এপিঠ-ওপিঠ

আদাবরে কাউন্সিলর হাসুতে হাসি নেই এলাকাবাসীর

ঢাকা ৩৬০০ প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আদাবরে কাউন্সিলর হাসুতে হাসি নেই এলাকাবাসীর

২০১২ সালের ১৪ নভেম্বর সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদকে। দীর্ঘ পাঁচ মাস নিবিড় চিকিৎসা শেষে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরেন তিনি। অভিযোগ ওঠে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাশেম হাসুর নির্দেশে সন্ত্রাসীরা রিয়াজকে হত্যা করতে চেয়েছিল। হাসু মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। রিয়াজের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। হামলার পর রিয়াজের পরিবার হাসু ও তাঁর ভাই আবুল কাশেমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিনের হামলা প্রসঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘অন্যের জমি দখল আর অন্যায়ের পক্ষে কাজ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাসু তার ক্যাডারদের আমাকে হত্যার নির্দেশ দেয়। ’ আদাবরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শুধু ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতা রিয়াজই নয়, আরো অনেকেই হাসুর ক্যাডারদের হামলায় আহত হয়েছেন। হামলা ও নির্যাতনের পাশাপাশি হাসু ও তাঁর সহযোগীরা এলাকার খালের সরকারি জমি দখলসহ ব্যক্তিমালিকানার অনেকের জমিও হাতিয়ে নিয়েছেন। বায়তুল আমান হাউজিংয়ের প্রধান সড়কের জমি দখল এবং সেখানে অবৈধ দোকান নির্মাণ করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন।

উত্তর আদাবর বাজারে নির্মম পিটুনির শিকার মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আনিস হোসেন ফরিদ।

ওই ঘটনায় স্থানীয় কাউন্সিলরের লোকজনের বিরুদ্ধে তিনি মামলাও করেছিলেন। অন্যদিকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেনকেও কুপিয়ে জখম করে হাসুর লোকজন। আমির হোসেন বলেন, ‘ভূমি দখলকারী হাসুর লোকজন আমাকে কুপিয়ে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। সেই সন্ত্রাসীরা কাউন্সিলরের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকে। ’ একইভাবে ১০০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাহরুখ জাহান পাপ্পুর গাড়ি ভাঙচুর ও মারধর করে হাসুর লোকজন। এ ছাড়া আদাবর থানা ছাত্রলীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রুবেলকে নির্মমভাবে পিটুনি দেয় হাসুর ক্যাডার বাহিনী। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শেকেরটেক ৬ নম্বর রোডের মাথায় এবং বায়তুল আমান হাউজিংয়ের ১০ নম্বর রোডের শেষ মাথায় পাঁচটি প্লট দখলে নিয়েছে হাসুর ঘনিষ্ঠ হাজি মোজাম্মেল হকসহ একটি সিন্ডিকেট। এ ছাড়া কমফোর্ট হাউজিংয়ের আদাবর ১৭/এ নম্বর রোডের শেষ মাথায় দুটি প্লট, ১৬ নম্বর রোডের কাঁচাবাজারের সাত কাঠা জমি দখল এবং কমফোর্ট হাউজিংয়ের ১৬/এ রোডের মসজিদ গলিতে জমি দখল করে শাওন ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান করেছে হাসুর লোকজন। অন্যের জমি দখল করে কাঁচাবাজার বানিয়ে মাসে মাসে চাঁদা তুলে যাচ্ছে তারা।

৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শেখ মো. সিদ্দিকের বাড়িতেও হামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলর হাসু নৌকার লোকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তার লোকজন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীসহ নানা অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। এলাকার মানুষ কোনো সেবা পাচ্ছে না। জমি দখল থেকে শুরু করে সে নানা ধরনের ধান্দাবাজি করে বেড়াচ্ছে। ’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাউন্সিলর হাসু কার্যালয়ে নিয়মিত না থাকায় অনেকেই সেবা নিতে গিয়ে সেবা পায় না। রাস্তাঘাটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হলেও এলাকার এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তিনি এগিয়ে আসছেন না।

অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর আবুল হাসেম হাসু বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আপনারা সাংবাদিকরা আমার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে রিপোর্ট করবেন। ’    


মন্তব্য