kalerkantho


এপিঠ-ওপিঠ

আদর্শ ওয়ার্ডের সোনাজয়ী কাউন্সিলর রতন

হায়দার আলী

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আদর্শ ওয়ার্ডের সোনাজয়ী কাউন্সিলর রতন

বিভিন্ন রকম ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নিজের ওয়ার্ডকে শহরবাসীর কাছে তুলে ধরেছিলেন আলাদাভাবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, পাবলিক লাইব্রেরি গড়ে তোলা, তরুণ-যুবকদের মাদকমুক্ত করাসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে আস্থা কেড়ে নেন ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের।

এলাকার মানুষের সুখ-শান্তি ও উন্নয়ন নিয়ে যিনি সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন তিনি হচ্ছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম রতন। ১৯৯৪ সালে প্রথম নৌকার সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৫ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করে এলাকার উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। নিজের এলাকাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নয়নের শিখরে। প্রথমবার কাউন্সিলর হয়ে তিনি আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণ করেন এবং মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারের পাশেই প্রতিষ্ঠা করেন পাইকারি চালের বাজার। এ ছাড়া নির্মাণ করেছেন কৃষি বাজার তাহেরিয়া জামে মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও স্থানীয় শিশু-কিশোরদের জন্য গানের স্কুল। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে যত্রতত্র গরু জবাই করা হলেও রতনের ওয়ার্ডে আধুনিক পদ্ধতিতে গরু জবাইখানাও রয়েছে। একসময় সেখানে ছিল পানির তীব্র সংকট। সেই সংকট থেকে ওয়ার্ডবাসীকে মুক্তি দিতে তিনি একে একে পাঁচটি পাম্প বসিয়েছেন।

একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নুরুল ইসলাম রতন তাঁর যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং এলাকার উন্নয়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার স্বীকৃতিও পেয়ে যান হাতেনাতে। ১৯৯৯ সালে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর ওয়ার্ডটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এবং তিনি পান সেরা কাউন্সিলর হিসেবে স্বর্ণপদক।

ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানায়, ওয়ার্ডে কোনো খেলার মাঠ ছিল না। জহুরি মহল্লায় চাঁদের হাট খেলার মাঠ নির্মাণ করে দেন কাউন্সিলর রতন। প্রথম নির্বাচিত হয়েই আমাদের এলাকার বেশির ভাগ সমস্যা সমাধান করে দিয়েছিলেন, এবার নির্বাচিত হয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম রতন বলেন, ‘প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার অনেক সমস্যাই সমাধান করেছিলাম। এবার নির্বাচনের পর দেখলাম এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যে কারণে ওয়ার্ডের হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি হয়। সেই ভোগান্তি বছরের পর বছর মোকাবিলা করলেও সমাধান করেননি আগের কাউন্সিলর। কিন্তু আমি নির্বাচিত হওয়ার পরই আমার এলাকার সমস্যার বিষয়গুলো আমাদের মেয়র আনিসুল হককে জানাই। তিনি এলাকার এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এবং বরাদ্দও পাই। এ ক্ষেত্রে আমাকে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ভাই। ’

তিনি আরো বলেন, ‘ওয়ার্ডের প্রতিটি রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু করেছি। স্যুয়ারেজের লাইন সংস্কার করা হচ্ছে। ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছি। আর সূচনা কমিউনিটি সেন্টারকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ’ নিজের এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি নেই দাবি করে বলেন, ‘এলাকার মানুষকে নিয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স দেখানো হচ্ছে। ’ আগামী দুই বছরের মধ্যে নিজের ওয়ার্ডকে সমস্যা থেকে শতভাগ মুক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এই কাউন্সিলর। মানুষের ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দিতে তিনি বদ্ধপরিকর বলেও জানান।


মন্তব্য