kalerkantho

মোদির বায়োপিক পেছানোর আবেদন কংগ্রেসের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোদির বায়োপিক পেছানোর আবেদন কংগ্রেসের

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’র মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানাল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। গতকাল দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে কংগ্রেসে শীর্ষস্থানীয় নেতারা এ আবেদন জানান। তাঁদের বক্তব্য, লোকসভা নির্বাচনের আগে আগে এ ধরনের চলচ্চিত্র প্রচারের মাধ্যমে আসলে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কংগ্রেসের বক্তব্য, ছবিটির তিনজন প্রযোজকই বিজেপির। অভিনেতাও বিজেপির। ছবির পরিচালক ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাট’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁরাই এবার লোকসভা ভোটের মুখে মোদির জীবনীচিত্র তৈরি করেছেন।

কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল, অভিষেক মনুসিংভি ও রণদীপ সুরজেওয়ালা গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁদের অভিযোগ জানান। অভিযোগ জানিয়ে কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির বায়োপিক পুরোটাই রাজনৈতিক। এর সঙ্গে শিল্পকলার কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছি যে এই ধরনের রাজনৈতিক প্রচারে রাশ টানা উচিত। আমরা কমিশনকে লিখিত জানাতে বলেছি, তারা আমাদের অনুরোধ মানছে কি মানছে না।’

প্রধানমন্ত্রী জীবনীভিত্তিক ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’ ছবিটির মুক্তি এগিয়ে নিয়ে এনে ৫ এপ্রিল করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম দফার লোকসভা ভোটগ্রহণের আগেই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা। সিবালের বক্তব্য, “এটা শুধু বেআইনি কাজ নয়, পুরোটাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটা রাজনৈতিক প্রকল্প। সংবিধানের ৩২৪তম অনুচ্ছেদ অনুয়ায়ী ভোটারদের সামনে সবার সমান সুযোগ পাওয়া উচিত। তা লঙ্ঘন হচ্ছে। এই ছবি ‘কেবল নেটওয়ার্ক’ বিধি ভাঙছে। লঙ্ঘন করছে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৬ ধারাও।”

কংগ্রেসের এই অভিযোগ অবশ্য হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি। তাঁর যুক্তি, যেকোনো ভিডিও তো ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। তাহলে আর সিনেমা কী দোষ করল?

কমিশন সূত্রের খবর, নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকাকালে প্রধানমন্ত্রীর জীবনী নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’ ৫ এপ্রিল মুক্তি পেতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেন্সর বোর্ডের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। আদর্শ আচরণবিধি সত্ত্বেও ছবিটির বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য একটি সংবাদপত্রকে শোকজের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ছবির ট্রেলারে ইঙ্গিত মিলেছে, মোদির জীবনের নানা দিক, সঙ্ঘের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রীর হওয়ার যাত্রাপথ, পাক মদতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি নিতে দেখা গিয়েছে মোদিকে। বিরোধীদের বক্তব্য, এটা আদতে মোদি ও বিজেপির পরোক্ষ প্রচার। এর পরে আসতে চলেছে ‘তাসখন্দ ফাইলস’ নামে একটি ছবি। যাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর তাসখন্দে মৃত্যু-রহস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অনেকের মতে, এই ছবিতেও গান্ধী পরিবারকে নিশানা করা হতে পারে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য