kalerkantho

মুলারের তদন্তে ‘নির্দোষ’

নতুন অধ্যায়ে ট্রাম্প!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন অধ্যায়ে ট্রাম্প!

নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাত নিয়ে স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলারের প্রতিবেদনটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের চেয়ে কম কিছু নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নির্বাচনের সময় রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ভজকট পাকাননি। আর ট্রাম্পের নিজের দাবি, তাঁকে ‘নির্দোষ’ প্রমাণ করেছে ওই প্রতিবেদন। তাঁর প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, ২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়ের স্বাদ তিনি আবারও পাচ্ছেন। একই সঙ্গে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন ২০২০ সালের লড়াই মোকাবেলার জন্যও।

তবে প্রতিবেদনটি সম্ভবত ‘মন ভেঙে’ দিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি ও সিএনএনের ভাষায় স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোর। রবিবার প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার। ডেমোক্রেটিক পার্টি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। আর গণমাধ্যম বলছে, ২২ মাস সময় নিয়ে মুলার যে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন তা বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে; যার জবাব প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। 

মুলার তাঁর প্রতিবেদন জমা দেন গত শুক্রবার। শনিবার ৯ ঘণ্টা সময় নিয়ে এর সারসংক্ষেপ তৈরি করেন বার। রবিবার তা উপস্থাপন করা হয় কংগ্রেসের সামনে। ট্রাম্প এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বরাবরের মতোই টুইট করে। তিনি লিখেছেন, ‘কোনো আঁতাত হয়নি, বাধাও দেওয়া হয়নি। পূর্ণাঙ্গ ও পুরোপুরি নির্দোষ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের তদন্তের মধ্য দিয়ে যাওয়া জাতির জন্য লজ্জাজনক। এটি একটি অবৈধ তৎপরতা ছিল, যা ব্যর্থ হয়েছে।’ ট্রাম্পের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হোগান গিডলি বলেন, প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই ‘অত্যন্ত ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট। প্রতিবেদনের ফলাফল নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। ফ্লোরিডা থেকে হোয়াইট হাউসে ফেরার পথে তিনি টেলিভিশন দেখেছেন, টেলিফোনে ও কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।’

তবে স্বস্তি নেই ডেমোক্রেটিক শিবিরে। তারা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এও বলেছে, শিগগিরই অ্যাটর্নি জেনারেল বারকে কংগ্রেসের শুনানিতে ডাকা হবে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এবং সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ২২ মাস ধরে তদন্ত করার পর মুলার যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তাতে তাঁরা সন্তুষ্ট নন।

প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যমও। বলা হচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে কোন সংযোগ নিশ্চিতভাবে জানার পরও প্রেসিডেন্ট যে আচরণ করেছেন তা প্রশ্ন তৈরি করে। গত প্রায় দুই বছরই ট্রাম্প এই তদন্ত নিয়ে দৃশ্যমানভাবেই অস্থির ছিলেন। তদন্তের শুরুতেই এফবিআই পরিচালক জেমস কমিকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। ওই সময় কারণ হিসেবে রাশিয়া সংযোগের কথাই বলা হয়। প্রেসিডেন্ট তাঁর ব্যাবসায়িক জীবনে রাশিয়ার সঙ্গে বহু চুক্তি করেন। পরে সেগুলো অস্বীকারও করেন। এর কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রচার চলার সময়ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন সম্পর্কে প্রচারণা চালানোর জন্য ট্রাম্প টাওয়ারে এক রুশ নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্পের ছেলে, জামাতাসহ কয়েকজন। এ বিষয়টি নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদনে কিছু নেই।

প্রতিবেদনটি এখন ট্রাম্পের অত্যন্ত পছন্দনীয় হলেও শুরু থেকেই ট্রাম্প একে দেখেছেন ‘উইচ হান্ট’ হিসেবে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিশ্বকে হতবাক করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন নিউ ইয়র্কের ধনকুবের রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই নির্বাচনে প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়ে আসা রাশিয়া কোনোভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল বলে সন্দেহ জোরালো হয়ে ওঠে সে সময়। এফবিআই তদন্ত শুরু করে। গোড়াতেই এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। দায়িত্ব দেওয়া হয় এফবিআইয়ের আরেক সাবেক প্রধান রবার্ট মুলারকে।

পাশাপাশি এ বিষয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) তদন্তকে ট্রাম্প বাধাগ্রস্ত করেছিলেন কি না এবং এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে ওই তদন্তের কারণেই বরখাস্ত করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় মুলারকে।

মুলারের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অপরাধ করেছেন—এ রকম কোনো উপসংহার এই প্রতিবেদন টানছে না। এই প্রতিবেদন তাঁকে দায়মুক্তিও দিচ্ছে না।’ তবে তদন্তের আরেকটি অংশ, প্রভাবিত করার বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি মুলার। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, এএফপি।

 

 

মন্তব্য