kalerkantho


লিনউড মসজিদ

হামলাকারীর অস্ত্র কেড়ে নেন এক সাহসী তরুণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে লিনউড মসজিদে বন্দুকধারীর হামলার সময় এক তরুণের সাহসিকতায় বেঁচে গেছে বহু মানুষের প্রাণ। ওই তরুণ কিভাবে হামলাকারীকে কাবু করে তার হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়েছেন সেই গল্প নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে শুনিয়েছেন ওই মসজিদ থেকে বেঁচে ফেরা একজন।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চেল মসজিদ আল নুর এবং কাছের লিনউড মসজিদে হামলা চালায় দুই ব্যক্তি, যাদের হাতে ছিল অটোমেটিক রাইফেল। নির্বিচারে গুলিতে আল নুর মসজিদে ৪১ জন এবং লিনউডে সাতজন নিহত হন। হাসপাতালে মারা যান আরো একজন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, লিনউড মসজিদের খাদেম ওই তরুণ যদি হামলাকারীর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াতেন, তাহলে সেখানে নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারত।

ওই মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়া সৈয়দ মাজহার উদ্দিন নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেন, মোটামুটি ৬০ থেকে ৭০ জন ওই সময় মসজিদে ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুরু হলে লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। তিনি বলেন, ‘আমি তখন লুকিয়ে পড়ার জায়গা খুঁজছিলাম। সবাই ভয়ে চিৎকার করছিল। দেখলাম এক লোক মসজিদের দরজা দিয়ে ঢুকল।’

সামরিক কায়দার ক্যামোফ্লাজড গিয়ার পরিহিত ওই হামলাকারী তখন নির্বিচারে গুলি করছিল হাতের অস্ত্র দিয়ে। দরজার কাছেই ছিলেন বয়স্ক কয়েকজন। হামলাকারী তাঁদের দিকেও গুলি চালায়। ওই সময় মসজিদের তরুণ সেই খাদেম ভেতর থেকে এসে রুখে দাঁড়ান। মাজহার উদ্দিন বলেন, ‘সুযোগ বুঝে এগিয়ে গিয়ে তিনি হামলাকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন আর হাত থেকে বন্দুকটা কেড়ে নেন। তারপর তিন হামলাকারীকেও ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু অস্ত্রের ট্রিগারটা তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন না।’

হামলাকারী তখন দৌড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যায় এবং বাইরে অপেক্ষায় থাকা একটি গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায় বলে জানান মাজহার উদ্দিন। তিনি জানান, এই হামলার ঘটনায় তাঁর সামনেই একজনের বুকে আর আরেকজনের মাথায় গুলি লাগে। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত আরেকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ভেতরে রেখে লোক ডাকতে বাইরে যান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি যখন দৌড়ে বাইরে এলাম, পুলিশ তখন মসজিদে ঢুকল। ওরা আর আমাকে ভেতরে যেতে দেয়নি। আমি আর আমার বন্ধুকে বাঁচাতে পারলাম না।’ সূত্র : রয়টার্স।

 

 



মন্তব্য