kalerkantho


রাশিয়ার হয়ে কাজ করার অভিযোগ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল এফবিআই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার হয়ে কাজ করছিলেন কি না—এর তদন্ত শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা—এফবিআই। ২০১৭ সালে মূলত দুটি অভিযোগে এ তদন্ত শুরু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস গত শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে। তবে ওই তদন্ত এখনো চলছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি ওই প্রতিবেদনে।

খবরে বলা হয়, ২০১৭ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তৎকালীন এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে বরখাস্ত করার পর এ তদন্ত শুরু হয়। মূলত দুটি ভাগে অনুসন্ধান শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। একটি ‘কাউন্টারইন্টেলিজেন্স’ বিষয়ক অপরাধের অভিযোগে; আরেকটি ফৌজদারি। কাউন্টারইন্টেলিজেন্স বিষয়ক তদন্তের লক্ষ্য ছিল, ট্রাম্প জেনে কিংবা না জেনে কোনোভাবে রাশিয়ার হয়ে কাজ করেছিলেন কি না; কিংবা তাঁর কোনো ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিল কি না। আর ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত ছিল কোমির বরখাস্তসংক্রান্ত।

কিন্তু এই অনুসন্ধান কয়েক দিন পরই রবার্ট মুলারের তদন্তের সঙ্গে সমন্বিত করা হয়। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার কোনো হস্তক্ষেপ ছিল কি না, আর হস্তক্ষেপ থাকলে তার সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনী দলের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, মুলার মূলত সে বিষয়েই তদন্ত করছেন।

তবে কাউন্টারইন্টেলিজেন্স বিষয়ক তদন্ত এখনো চলছে কি না, তা নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে পরিষ্কার নয়। খবরে বলা হয়, এফবিআই কর্মকর্তাদের শুরু থেকে সন্দেহ ছিল যে নির্বাচনের সময় রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ ছিল। কিন্তু কোমিকে বরখাস্ত করার আগ পর্যন্ত তাঁরা এ বিষয়ে তদন্তে নামেননি। ওই পর্যায়ে তাদের তদন্ত থেকে কী ফলাফল পাওয়া গেছে তাও নিশ্চিত নয়।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প শুরু থেকে মুলারের তদন্তকে ‘ভূতুড়ে’ ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন। কিন্তু মুলার তাঁর তদন্তে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছেন; যাঁদের অনেকেই একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন, তাঁর আইনজীবী মাইকেল কোহেন এবং তাঁর নির্বাচনী প্রচার দলের সাবেক প্রধান পল ম্যানফোর্টও আছেন। মাইকেল ফ্লিন তদন্তে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। একাধিক অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড হয়েছে কোহেনের। আর অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে ম্যানফোর্টের বিরুদ্ধে।

কোহেনের মোবাইল ফোনের অবস্থানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক একাধিক গণমাধ্যমের দাবি, তিনি ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে চেক রিপাবলিকের রাজধানীর আশপাশে অবস্থান করছিলেন। আর ওই সময় তিনি রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে কংগ্রেসের মুখোমুখি হবেন তিনি।

কোহেনের দাবি, তিনি কখনোই সেখানে যাননি। যদিও সম্প্রতি এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে রবার্ট মুলার সব কিছুই জানেন।’ তবে মুলার কী জানেন সে সম্পর্কে স্পষ্ট মন্তব্য করেননি তিনি।

সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।



মন্তব্য