kalerkantho


পাঁচ রাজ্যে বিজেপির ভরাডুবি

মোদির দুশ্চিন্তা বাড়ল কি?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মোদির দুশ্চিন্তা বাড়ল কি?

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। তাহলে কি ভারতের গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি হিসেবে পরিচিত কংগ্রেসের দিন আবার ফিরছে? রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে কংগ্রেস। মধ্য প্রদেশে এককভাবে সরকার গঠন করতে না পারলেও জোট গড়ে কংগ্রেসই আসবে। বড় তিনটি রাজ্যে ধাক্কার পাশাপাশি ছোট দুটি রাজ্য তেলেঙ্গানা ও মিজোরামেও হোঁচট খেতে হয়েছে বিজেপিকে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল বিরোধী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, তাঁর দল পরাজয় মেনে নিয়েছে। মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড় ও মধ্য প্রদেশ বিজেপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি। দীর্ঘ সময় পর কংগ্রেস এই সাফল্য পেল। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই দলটি ধুঁকছে। ওই নির্বাচনেই মোদির বিজেপি ক্ষমতায় আসে। সেবার কংগ্রেস ভোট পেয়েছিল মাত্র ২০ শতাংশ। লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে তাদের কপালে জোটে মাত্র ৪৪টি। বর্তমানে মাত্র দুটি প্রধান রাজ্যে তারা ক্ষমতায়।

রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ ও ছত্তিশগড় প্রধানত হিন্দিভাষীর অঞ্চল। এখানে বিজেপির জনপ্রিয়তা বরাবরই বেশি। লোকসভায় এই রাজ্যগুলোর মোট আসন ২২৫টি। এর মধ্যে বিজেপি পায় ২০৩টি আসন। ফলে এই রাজ্য তিনটিকে কংগ্রেসের এমন জয় উল্লসিত হওয়ার মতোই। দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে দেবে এই ফল। একই সঙ্গে দলের সভাপতি রাহুল গান্ধীর ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করবে। গত কয়েক বছরে মোদি বাহিনীর অপরাজেয় একটা ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। সেটাও এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভেঙে গেছে। সবচেয়ে বড় কথা, কংগ্রেসের জন্য যে সাফল্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল এটা সেটাই।

আগামী বছর ভারতে লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে এই নির্বাচনকে জনমতের একটি ব্যারোমিটার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও আঞ্চলিক নির্বাচন দিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচনের ফল সব সময় প্রভাবিত হয় এমনটি বলা যায় না।

এই রাজ্যগুলোতে বিজেপির পরাজয়ের বেশ কিছু কারণ রয়েছে। একে তো তারা ক্ষমতায়। ক্ষমতাসীনদের বিষয়ে জনগণের মধ্যে এক ধরনের বিরক্তি থাকে। মধ্য প্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় বিজেপি। এই রাজ্যগুলোর জনগণের দাবি, কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি তাদের।

রাজ্য নির্বাচনে আঞ্চলিক দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সামনের বছর নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে এই দলগুলোর সঙ্গে বিজেপি বা কংগ্রেস কতটা সম্পর্ক তৈরি করতে পারল এর ওপর। অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গিলেস ভার্নিয়ার বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের বিরোধী মনোভাব কাজ করেছে। কয়েক বছর ধরেই এই প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। আর বিজেপির ক্ষেত্রে এর সঙ্গে প্রতিশ্রুতিমতো উন্নয়ন করতে না পারা, বেকারত্ব এবং কৃষকদের ক্ষোভ নিরসনে ব্যর্থতার বিষয়গুলোও রয়েছে।’ তবে এর অর্থ এই নয় যে কংগ্রেস তার ভাবমূর্তি পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। যদিও একটি বিষয় স্পষ্ট, ২০১৯ সালের নির্বাচন হবে মোদির গণভোট। সূত্র : বিবিসি।

 



মন্তব্য