kalerkantho


জাতিসংঘ অভিবাসন চুক্তি অনুমোদন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাতিসংঘ অভিবাসন চুক্তি অনুমোদন

দীর্ঘ বিতর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের আপত্তি ও প্রত্যাখ্যানের পর অবশেষে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক অভিবাসন চুক্তি অনুমোদন করেছে ১৫০টির বেশি দেশ। গতকাল সোমবার মরক্কোর মারাকাশে দুই দিনব্যাপী জাতিসংঘের ‘বৈশ্বিক অভিবাসন সমঝোতাবিষয়ক আন্ত সরকার সম্মেলনের’ শুরুতেই চুক্তিটি অনুমোদনের ঘোষণা দেওয়া  হয়। চুক্তিতে ২৩টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বৈধ অভিবাসনকে সহযোগিতা করা, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম নিরুত্সাহ ও বিদেশিভীতি (জিনোফোবিয়া) দূর করার কথা বলা হয়েছে।

চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক নাম হচ্ছে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বৈধ অভিবাসনের জন্য বৈশ্বিক চুক্তি’ (গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড লিগ্যাল মাইগ্রেশন)। সংক্ষেপে এর নাম বৈশ্বিক অভিবাসন চুক্তি বা জিসিএম। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি আইনি বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন কোনো চুক্তি নয়। এটি ট্রিটি (অঙ্গীকারপত্র) বা আনুষ্ঠানিক অ্যাগ্রিমেন্ট (মতৈক্যপত্র) নয়। এ চুক্তির স্ট্যাটাস হলো এটি একটি কমপ্যাক্ট (সমঝোতা) এবং আইনি বাধ্যবাধকতাহীন। তবে ৩৪ পৃষ্ঠার চুক্তিতে অভিবাসীদের সুরক্ষা ও মানবাধিকার, বৈধভাবে অভিবাসনের সুযোগ তৈরি এবং তাদের কাজের সুযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা থেকে এই ব্যাখ্যা দেওয়া সত্ত্বেও চুক্তিটি অনুমোদন হলে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে এবং অভিবাসীর পরিমাণ বেড়ে যাবে—এই অজুহাতে চুক্তি স্বাক্ষরে অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইতালিসহ ইউরোপের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দেশ।

প্রথমবারের মতো অভিবাসনবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্ক তথা এই চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে। এরপর ১৮ মাস ধরে বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে আলোচনা শেষে চুক্তিটি গত জুলাই মাসে চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ অভিবাসী অধ্যুষিত দেশ যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের ডিসেম্বরে ঘোষণা দেয়, তারা আর এই আলোচনায় অংশ নেবে না।

জুলাইয়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ও ইসরায়েল এবং ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, চেক রিপাবলিক, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, বুলগেরিয়া, লাটভিয়া ও ইতালি চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় বা তাদের অনিচ্ছার কথা জানায়।

গতকাল সম্মেলনের শুরুতে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের উপস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চুক্তিটিকে ‘দুর্ভোগ ও বিশঙ্খলা দূর করতে একটি রোডম্যাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে চুক্তিটির কারণে সার্বভৌমত্ব খর্ব হওয়ার বিষয়টি মিথ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তিটি আইনগত বাধ্যবাধকতার নয়। এটি (অভিবাসনবিষয়ক) একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক, যাতে বরং উল্টো প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে আরো নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।’

জতিসংঘের হিসাব মতে, বিশ্বে এখন ২৫ কোটি ৮০ লাখ অভিবাসী রয়েছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩.৪ শতাংশ। আর বিশ্বে মোট অভিবাসীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশই বৃদ্ধি পেয়েছে ২০০০ সালের পর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য কারণে ভবিষ্যতে বিশ্বে বড় ধরনের অভিবাসনের ঢেউ উঠবে। সূত্র : এএফপি, আলজাজিরা।



মন্তব্য