kalerkantho


শ্রীলঙ্কায় তৃতীয় অনাস্থা ভোটের ডাক বানচাল

আগামী শুক্রবার আবারও পার্লামেন্ট অধিবেশন বসার কথা রয়েছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শ্রীলঙ্কায় তৃতীয় অনাস্থা ভোটের ডাক বানচাল

শ্রীলঙ্কায় চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী কলম্বোতে গতকাল মানবাধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। ছবি : এএফপি

শ্রীলঙ্কায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের এখনো সুরাহা হয়নি। ‘দুই প্রধানমন্ত্রীর’ মধ্যে একজনকে বেছে নিতে প্রেসিডেন্টের ডাকে গতকাল সোমবার তৃতীয় দিনের মতো পার্লামেন্ট বসেছিল ঠিকই, কিন্তু পাঁচ মিনিটের মাথায় তা মুলতবি হয়ে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, গতকাল ভোটাভুটি হলে এবং প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা তা মেনে নিলে সংকট সুরাহা হয়ে যেতে পারত। কিন্তু পার্লামেন্ট মুলতবি হওয়ায় সেই সম্ভাবনা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য পিছিয়ে গেল।

সংকট শুরুর পর গত রবিবার প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট দপ্তরে সব দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করেন সিরিসেনা। সেখানে বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে এবং বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পাওয়া মাহিন্দা রাজাপক্ষেও ছিলেন। প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকটি কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। পরে সিরিসেনা রাজাপক্ষের প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে আরেকটি অনাস্থা ভোটের ডাক দেন। সেই ভোটাভুটির লক্ষ্যেই গতকাল সন্ধ্যায় পার্লামেন্টে বসেছিলেন এমপিরা। কিন্তু এজেন্ডা নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধে শুরুতেই অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। আগামী শুক্রবার আবার পার্লামেন্টে অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।

এর আগে দুই দফা অনস্থা ভোটে অংশ নেন বিক্রমাসিংহের অনুগত এমপিরা। সর্বশেষ ভোট হয় গত শুক্রবার। সেদিনও ২২৫ জনের মধ্যে ১২২ জন এমপি বিক্রমাসিংহের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে রাজাপক্ষের অনুগত এমপিরা ভোট বানচাল করতে চেয়ার ও মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মেরে পার্লামেন্টে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন।

রবিবারের বৈঠকে বিক্রমাসিংহে দাবি করেন, সাংবিধানিকভাবে তিনি এখনো দেশটির প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য তাঁর সরকারকে অনুমোদন দিতে প্রেসিডেন্টের কাছে দাবি জানান তিনি। সেই সঙ্গে রাজাপক্ষেকে তিনি আবারও আস্থা ভোটের চ্যালেঞ্জ জানান।

অন্যদিকে রাজাপক্ষের দল স্বীকার করেছে যে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে প্রয়োজনের তুলনায় তাদের কয়েকজন এমপি কম রয়েছে। আর বিরোধীদের দাবি, এ জন্যই রাজাপক্ষে ও সিরিসেনা নানাভাবে পার্লামেন্টের ভোটাভুটি বিলম্বিত করার চেষ্টা করছেন।

বিক্রমাসিংহের ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) থেকে নির্বাচিত এমপি লক্ষ্মণ কিরিয়েলা বলেন, ‘রাজাপক্ষেকে অবশ্যই পার্লামেন্টের অনাস্থা ভোট পার হতে হবে। নইলে তিনি সরকার চালাতে পারবেন না।’

রাজাপক্ষের ছেলে ও এমপি নামাল রাজাপক্ষে বলেন, ‘আমরা আবারও একটি আগাম নির্বাচনের আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে করে জনগণ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারে।’ এদিকে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা জানিয়েছিলেন, সোমবারের ভোটে সব দলই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ব্যাপারে রাজি হয়েছে। অন্যদিকে বিক্রমাসিংহে বলেছেন, শ্রীলঙ্কায় এই মুহূর্তে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। এ ক্ষেত্রে সিরিসেনার সঙ্গে সরকার পরিচালনায় তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় যে সংকট চলছে, তার অন্যতম একটি কারণ হলো সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংহের নীতিগত বিরোধ। এই বিরোধের জের ধরেই গত ২৬ অক্টোবর পার্লামেন্ট স্থগিত করার পাশাপাশি বিক্রমাসিংহেকে প্রধামন্ত্রীর পদ থেকে বহিষ্কার করেন সিরিসেনা। একই দিন তিনি রাজাপক্ষকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান। কয়েক দিন পর তিনি পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলে সংকট আরো ঘনীভূত হয়। যদিও সুপ্রিম কোর্ট পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ও আগাম নির্বাচনের ঘোষণাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন।

সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া। 

 



মন্তব্য