kalerkantho


চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব

এপেক সম্মেলনের সমাপ্তি যৌথ ঘোষণা ছাড়াই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



এপেক সম্মেলনের সমাপ্তি যৌথ ঘোষণা ছাড়াই

বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিরোধের জেরে কোনো যৌথ ঘোষণা ছাড়াই গতকাল রবিবার শেষ হয়েছে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলন। এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম ঘটল। এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় পাপুয়া নিউ গিনিতে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পিটার ও’নেইল সমাপনী বিবৃতিতে বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এপেক সম্মেলনের বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।’

পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আপনারা এই কক্ষের বড় শক্তিগুলোকে চেনেন। আমি কী বলতে পারি?’ কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যৌথ বিবৃতি প্রকাশে ব্যর্থতার কথা মেনে নিয়ে বলেন, ‘বাণিজ্য নিয়ে দুটি দেশের বিরোধের কারণে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হলো না।’

সম্মেলনে উপস্থিত দুটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) তীব্র সমালোচনা করে বিবৃতি প্রকাশের জন্য চাপ দেয়। একই সঙ্গে এই সংস্থার ব্যাপকতর সংস্কারেরও দাবি জানায় তারা। চীন এই দাবির পক্ষে নয়। ও’নেইল জানান, ডাব্লিউটিও নিয়ে বিরোধ যৌথ ইশতেহার প্রকাশের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, ‘এপেকের সঙ্গে ডাব্লিউটিওর কোনো চুক্তি নেই। এটা বাস্তবতা। এ বিষয়গুলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাতে তোলাই বাঞ্ছনীয়।’

এ মাসের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্জেন্টিনায় জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করার কথা রয়েছে। এর আগে এপেক সম্মেলনে এই ধাক্কাকে একটি বড় অস্বস্তি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে জানা গেছে, যৌথ ঘোষণা নিজেদের মতো করে লিখিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে গতকাল চীনা প্রতিনিধিরা পাপুয়া নিউ গিনির পররাষ্ট্র দপ্তরে চড়াও হন। এ সময় তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশও ডাকা হয়। বেশ কয়েকটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এ ধরনের ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংকট অবশ্য এই সম্মেলন শুরুর বেশ আগে থেকেই শুরু হয়েছে। শুল্ক ও পাল্টা শুল্ক আরোপ নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ বেশ কয়েক মাস ধরেই চলছে। সম্মেলন শুরুর আগেও শি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স পরস্পরের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ চালান।

এ সময় পেন্স বলেন, চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড নামে যে বিশাল প্রকল্প করছে তার কারণে ছোট ছোট দেশগুলো ঋণের ফাঁদে পড়ে যচ্ছে। এই দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের ছত্রচ্ছায়ায় আসা। এর জবাবে শি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি তাদের বাণিজ্য সুরক্ষার জন্য তৈরি করা। এটা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পদক্ষেপ নয়। এটা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 



মন্তব্য