kalerkantho


ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা

ম্যাখোঁর ওপর ফের চড়াও ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সখ্য নিয়ে একসময় দীর্ঘ চর্চা হয়েছে গণমাধ্যমে। এবার শুরু হয়েছে উল্টো স্রোত। সম্পর্কে দূরত্ব এসেছে। এর প্রকাশ এবং ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও চলছে পুরোদমে। সম্প্রতি এই বিশ্লেষণে ঘি ঢেলেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার ধারাবাহিক টুইটে ম্যাখোঁর বিরুদ্ধে কোনো রাখঢাক ছাড়াই সাঁড়াশি আক্রমণ চালান। ইউরোপের প্রতিরক্ষা নিয়ে ম্যাখোঁর পরিকল্পনার সমালোচনার পাশাপাশি ফ্রান্সে মার্কিন ওয়াইন আমদানির ওপর শুল্কারোপ, এমনকি ম্যাখোঁর জনপ্রিয়তা নিয়েও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প।

ফ্রান্সের তরফ থেকে অবশ্য এর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প যা বলেছেন তা মার্কিন জনগণকে লক্ষ্য করে। এর মধ্যে তাঁদের কোনো ভূমিকা নেই।

এই ইট ও পাটকেলের ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে সম্প্রতি ট্রাম্পের প্যারিস সফরের সময় থেকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্সের রাজধানীতে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে ম্যাখোঁ জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের মধ্যে স্পষ্ট ফারাকের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমার দেশের স্বার্থই প্রথম কথা। অন্যদের বিষয় আসবে পরে—এমন মনোভাবের মাধ্যমে জাতি হিসেবে আমরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় ‘নৈতিক মূল্যবোধ’ হারাচ্ছি।” এই বক্তব্যে সূক্ষ্মভাবে ট্রাম্পকে খোঁচা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। দেশে ফেরার পর ওই খোঁচারই স্পষ্ট জবাব দিলেন ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার ভোরে দেওয়া ধারাবাহিক টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইমানুয়েল ম্যাখোঁ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার হাত থেকে ইউরোপকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নিজস্ব সেনাবাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ কিন্তু জার্মানি ছিল—কাজেই ফ্রান্সের জন্য এই পরিকল্পনা কি করে কার্যকর হবে?’ আরেকটি টুইটে তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সকে আবার মহৎ বানান।’ মার্কিন ওয়াইন আমদানিতে ফ্রান্সের শুল্ক আরোপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত ‘ন্যায্য নয়। অবশ্যই পাল্টাতে হবে।’ নিজ দেশে তার অনুমোদন আনেক বেশি সে বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প ম্যাখোঁকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তাঁর অনুমোদন খুবই কম এবং তিনি মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে ফেরানোর চেষ্টা করছেন।’ ট্রাম্প আরেকটি টুইটে বলেন, ‘ফরাসিদের চেয়ে বেশি জাতীয়তাবাদী জাতি আর নেই এবং যথাযথ কারণেই বিষয়টি নিয়ে ফরাসিরা গর্বিত।’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি। 



মন্তব্য