kalerkantho


শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক সংকট আরো তীব্র

সিরিসেনার পার্লামেন্ট ভাঙার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টে বাতিল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শ্রীলঙ্কায় ক্ষমতার লড়াইয়ের ‘নাটক’ আরো জমে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে আগাম নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তা বাতিল করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে আগাম নির্বাচনের যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল, তাও বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে দেশটির চলমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট আরো তীব্র হলো।

সিরিসেনার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশনটি (আবেদন) করেছিলেন বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের অনুসারী ১১ নেতা এবং একজন নির্বাচন কমিশনার। গতকাল মঙ্গলবার তিন বিচারকের একটি বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে কঠোর নিরাপত্তা ও জনাকীর্ণ আদালতে সিদ্ধান্ত পড়ে শোনান প্রধান বিচারপতি নলিন পেরেরা। আদালত বলেন, প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্ট বিলুপ্তির যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা সংবিধানের লঙ্ঘন।

আদালতের এই সিদ্ধান্তের মানে হলো, আগের পার্লামেন্টই বহাল থাকবে। আর সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে, কে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হবেন; বিক্রমাসিংহে নাকি মাহিন্দা রাজাপক্ষে।

দ্বীপরাষ্ট্রটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটে পড়ে গত ২৬ অক্টোবর। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা মূলত ‘দুই প্রধানমন্ত্রীর দেশ’ হয়ে আছে। ওই দিন বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করে রাজাপক্ষেকে প্রধানমন্ত্রী বানান সিরিসেনা। একই দিন তিনি ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্ট মুলতবি রাখার ঘোষণাও দেন। কিন্তু বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এখনো নিজেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করে আসছেন। আর নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকার দাবিও জানিয়ে আসছিলেন তিনি। এ অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে ৫ জানুয়ারি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন সিরিসেনা।

তাঁর এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করেন পার্লামেন্টের তিনটি বড় দলের ১১ নেতা ও একজন নির্বাচন কমিশনার। তিনটি দলের মধ্যে বিক্রমাসিংহের ‘ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি’ (ইউএনপি) ছাড়াও আছে ‘তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স’ (টিএনএ) ও ‘বামপন্থী পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট’।

এদিকে গতকাল আদালত সিদ্ধান্ত জানানোর আগে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দেন বিক্রমাসিংহে। তিনি বলেন, ‘দেশকে চলমান সংকট থেকে উদ্ধার করতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এ কারণে আমি সব রাজনৈতিক দলকে নতুন জোটে শরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ মূলত ৫ জানুয়ারির আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবেই এ ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আগাম নির্বাচন আদালতে বাতিল হওয়ায় তাঁর এ ঘোষণার পরিণতি কী হবে, তা তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য